Saturday, June 26, 2010

মুসলিম বোনদের প্রতি খোলা চিঠিঃ “বের হয়ে পড়ুন, স্বল্প কিংবা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে।”



Written in: Sunday, July 19, 2009
গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে চলেছে অবিরত। প্রথমত মারওয়া জার্মানীতে এবং তারপর আরও তিনজন পিরোজপুরে, নিজ মাতৃভূমি স্বদেশে। একই নাটক ভিন্ন মাত্রায়, ভিন্ন মঞ্চে মঞ্চস্থ করেছে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী কুফর শক্তি ও তার দালালরা।

মারওয়া একটি নাম নয় আর এখন। অধিকারের লড়াইয়ে শহীদ হয়ে অগণিত মারওয়ার মধ্যে আবার নতুন মারওয়া হয়ে জন্মে গেছে সে। এই মারওয়া আগের চেয়েও অনেক বেশী শক্তিশালী। এইসব বহু দেশের,বহু ভাষার, বহু রঙের মারওয়ারা আসলে এক। জার্মানী, ফ্রান্স, তুরস্ক, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, বেলজিয়াম, মরোক্ক, কাশ্মীর,আলজেরিয়া, ঝিনঝিয়াং, কানাডা অথবা গুজরাট সব অঞ্চলের মারওয়ার দুঃখ একই দুঃখ, একই আবেগ অনুভূতি, সমস্যা,জ়ীবন যুদ্ধ, স্বপ্ন ভালবাসা তাড়িত করে সবাইকে।

মারওয়ার পিছু ধাওয়া করছে যে লম্পট উন্মত্ত বুনো শুয়োর তার প্রকৃতিও অভিন্ন। বিভিন্ন মোড়কে, বিভিন্ন সুরে, কখনোও গণতন্ত্রের মূলা ঝুলিয়ে আর কখনোও নগ্ন স্বৈরতন্ত্রের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় তান্ডব চালায় এই জানোয়ার।
আমরা কিভাবে সহ্য করব আমাদের নাকের ডগায় যখন আমাদের বোনদেরকে শুধুমাত্র তাদের বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জস্যশীল এবং মানব প্রকৃতি (ফিতরাত) এর সমার্থক পোষাক পড়ার অপরাধে(!) রিমান্ডে নেয়া হয়? নারী অধিকার(?) সংগঠন, মানবাধিকার(!) সংগঠন এবং জাতিসঙ্ঘের সকল গোল অথবা চ্যাপ্টা টেবিল বৈঠকেই এই রক্তস্নাত বিষয়গুলো অপাঙ্কতেয় থাকবে। এই সংগঠনগুলো আসলে শুধু জ্ঞানপাপীই নয় সাম্রাজ্যবাদী বেনিয়া কুফর শক্তিসমূহের দালালও বটে। এরা খায়, পান করে, গোল এবং চ্যাপ্টা টেবিলে বসে মিনারেল ওয়াটারের বোতল সামনে ঝুলিয়ে বৈঠক করে এবং কোথাও ব্যাভিচারের শাস্তি প্রয়োগ হলে শিৎকার তোলে!

উম্মাহর প্রতিনিধি মুসলিম বোনেরা,
আপনারা যদি ভেবে থাকেন আপনাদের চিঠি পড়ে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ ছুটে আসবে আপনাদের সম্ভ্রম রক্ষা করতে, তবে দুঃখের সাথে জানাচ্ছি হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ শুধু মরেই যায়নি একই সাথে নতুন হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ, সালাহউদ্দীন আইঊবীরা জন্ম নেয়াও বন্ধ হয়ে গেছে বহুদিন হল। আপনারা সিদ্ধান্ত নিন আপনাদের মধ্য থেকে কে হবেন আরেকজন যয়নাব আল গাজালী। এই অগ্নিগর্ভ পৃথিবী আপনাদের কাছেএকথা জানতে চায়না যে আপনারা কী কী প্রতিবন্ধকতার(!) কারণে শুধু বক্তৃতা-বিবৃতির মধ্যে আপনাদের প্রতিবাদ সীমাবধ্য রাখতে বাধ্য(!) হচ্ছেন। বরং এই মত্ত জানোয়ারও আপনাদের নিষ্ক্রীয়তা আশা করেনা। আর যদি সামাজিকতার কারণে রাস্তায় না আসেন তবে আপনাদেরকে কে মনে করিয়ে দেবে যে “ইখওয়ানের” বোনদেরকে এই “সামাজিকতা” রাস্তায় নামা থেকে বিরত রাখতে পারছেনা। আপনারা যদি নিয়মতান্ত্রিক অহিংস প্রতিরোধ করতে সরাসরি রাস্তায় না আসেন তবে ইতিহাস লিখবে আরেক অথর্ব প্রজন্মের উপাখ্যান যারা মৃত্যু অথবা সমাজকে আল্লাহর চেয়ে বেশী ভয় পেত।

“...তবে কি তোমরা তাদেরকে ভয় কর? আল্লাহর অধিকারই বেশী যে তোমরা তাকেই ভয় করবে, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।”
আত-তাওবাঃ ১৩।

“ যদি তোমরা বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদের যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, আর তোমরা তার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা...”
আত-তাওবাঃ ৩৯

“তোমরা বের হয়ে পড়, স্বল্প কিংবা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে...”
আত-তাওবাঃ৪১

3 comments:

  1. সুন্দর লেখা। লেখক কে ধন্যবাদ।তবে নতুন হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ, সালাহউদ্দীন আইঊবীরা জন্ম নেয়া বন্ধ হয়ে যায়নি। আমাদের পরিবার নামক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা (বাবা মা) চাইলেই এক এক জন নতুন হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ, সালাহউদ্দীন আইঊবী তৈরী করতে পারেন নিমেষেই।

    ReplyDelete
  2. হুজুর আপনার লেখা পড়ে কিছু জানতে পারলাম বলে মনে হলোনা। সময় নষ্ট!!!!

    ReplyDelete
  3. নতুন কিছু জানা যায় এমন পোস্টের অপেক্ষায় আছি তাহলে আর সময় নষ্ট হবে না।

    ReplyDelete