Saturday, July 10, 2010

এ রাতে রাসুল সা: আল্লাহ তায়ালার দেখা পেয়েছিলেন, তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম

আজ পবিত্র মিরাজের রাত। ২৭ রজবের আগের রাতে প্রিয়নবী সা: এর জীবনে এবং মুসলিম উম্মতের ইতিহাসের এক অসাধারণ ঘটনা।

শত শত বছর পর আজ মক্কা এক জমজমাট আলোক উজ্জল শহর। যে শহর কখনো ঘুমায় না। ভাবতে চেষ্টা করছি সে রাতে কেমন ছিলো মক্কা ও কাবার আশপাশ।

ঐ বছরটা নি:সন্দেহে কঠিনতম একটা সময় ছিলো মুহাম্মদ সা: এর জীবনে। প্রায় বারো বছর যাবত মক্কার লোকদের দাওয়াত দিয়ে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। এত বিদ্রুপ, ঠাট্টা আর নির্যাতনও সহ্য করতে হয় ভালো লোকগুলোকে! তিন বছরের অবরোধের পর আবার নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসা। তায়েফে দাওয়াত দিতে গিয়ে চরম অপমান আর কষ্টের মুখোমুখি হওয়া। হয়তো সর্বশ্রেষ্ঠ আর আশাবাদী মানুষটাও কষ্টে হতাশায় কিছুটা দমে গিয়েছিলেন।

তিনি ছিলেন নিষ্পাপ, জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত তো অবশ্যই। জান্নাতের দরজা প্রথম খুলে ভেতরে ঢুকবেন তিনি। তবুও গভীর রাতে ঘুম বাদ দিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। কান্নাকাটি করতেন। সবাই যখন ঘুমাচ্ছে এমন নিশুতি রাতে উঠে বের হলেন অজু করার জন্য। অজুরা পানি ঢালতে যাচ্ছেন, ফেরেশতা এসে নিয়ে গেলেন তাকে মহান প্রভুর কাছে। যে পরম শক্তিশালী স্বত্তার জন্য পৃথিবীর সব স্বার্থ তুচ্ছ করেছিলেন, সেই মহান বন্ধুর সাথে সরাসরি দেখা করা নিশ্চয় মুহাম্মদ সা: এর জীবনে বিশাল পরিবর্তন এনেছিলো। অহী অবতীর্ণ হওয়া আরম্ভ হবার ঘটনার পর এত গভীর তাৎপর্যময় ঘটনা আর নেই সম্ভবত।

প্রথমে যান জেরুজালেমে। বায়তুল মাকদাসে। কসাই জায়নবাদীদের দখলে বায়তুল মাকদাস আর মসজিদ আকসা আজ কাঁদছে। ওখানে আদিঅন্ত সব নবী রাসুলদের জামায়াতে নামায ইমামতি করেন তিনি। তারপর আকাশপানে যাত্রা। জান্নাত জাহান্নাম দেখা, আল্লাহর সাথে দীদার। রাসুল সা: নিজ মানবীয় শরীর নিয়েই গিয়েছিলেন, স্বচক্ষে আল্লাহ তায়ালাকে দেখেছেন। এটাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের এবং মেইনষ্ট্রিম সব মুসলিমদের আকীদা-বিশ্বাস। এটা কোন মানসিক ভ্রমণ বা ধ্যান ছিলো না। ওরিয়েন্টালিষ্টরা বলতে চায়, এটা ছিলো তাঁর মোহ, হ্যালুসিনেশান। কেউ কেউ বলে, মিরাজের ঘটনা গ্রীক এক গল্পের বিবর্তন। বলুক, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ দেখান আর যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। তা আমার চিন্তার বিষয় না।

লক্ষ কোটি আলোকবর্ষের চেয়ে বেশি, মানুষের পরিমাপের ক্ষমতার বাইরে দুরত্ব পেরিয়ে আল্লাহ তায়ালার সাথে দেখা করে যখন তিনি ফিরে আসেন মক্কায় নিজ বাড়ির সামনে, যেখানে দাড়িয়ে অজু করছিলেন। অজুর সময় ঢেলে দেয়া পানিটুকু তখনো গড়াচ্ছে। ঘরের ভেতর স্ত্রী ঘুমাচ্ছেন, সারা মক্কা শহর ঘুমাচ্ছে।

সকালে সবাই আনন্দে ফেটে পড়লো। এতদিন বলতাম মুহাম্মদ পাগল, আজ বাস্তব প্রমাণ পাওয়া গেলো। এমন ঘটনাও কি সম্ভব, এমন কথা যে বলে সে পাগল না তো পাগল কে? কিন্তু আবু বকর নির্বিকার, যদি মুহাম্মদ সা: বলে থাকেন, তাহলে তাই হয়েছে। এতে সন্দেহের কি আছে? সেই থেকে আবু বকর পরিচিত হলে সিদ্দীক নামে, সত্যবাদী নামে।

আমি ভাবতে চেষ্টা করছি, প্রিয়নবীর মন সেই মেরাজের পর কতটা তৃপ্ত সমর্পিত ছিলো। মুসলিমদের জন্য ছিলো পরীক্ষা, যাদের ঈমান দুর্বল তারাও কিছুটা ধন্দে পড়েছিলেন। কিন্তু বিশ্বাস যতদূর যায়, যুক্তি তার অনেক আগেই থেমে যায়। মিলি সেকেন্ডের ভেতর পৃথিবীর বয়সকাল বা তারো বেশি দুরত্ব ঘুরে আসা কিভাবে সম্ভব তা মানুষের বোধের বাইরে।

আমাদের দেশে সামাজিক ভাবে আমরা ইসলামকে সেলিব্রেশন করি না। মুসলিম নামমাত্র, জুমা পড়ি, ভালো হলে নিয়মিতও নামায পড়তে চেষ্টা করি। অন্য দেশে দেখেছি লায়লাতুল মিরাজকে তারা নিজেদের সংস্কৃতির সাথে মিলিয়ে নিয়েছে। এ রাতে তাহাজ্জুদ নামায পড়ে পরিবারের সবাই মসজিদে গিয়ে। রাতে মসজিদগুলোতে ইসলামিক বক্তব্যের অনুষ্ঠান থাকে। কোন হুজুর লম্বা টান দিয়ে আকাশ বাতাসের গল্প করে আসর জমান না। বরং একজন ভালো আলেম ইসলাম নিয়ে, হয়তো মিরাজ উপলক্ষে এ বিশেষ প্রসঙ্গে নিজের কথাগুলো চারপাশের সমাজের সাথে মিলিয়ে সবার সামনে বর্ণনা করেন। স্বামী স্ত্রী ছেলে মেয়ে সবাই চুপচাপ মন দিয়ে শোনে, চিন্তা করে। নিজ জীবনকে চিন্তাকে আরেকটা রিষ্টার্ট দেবার চিন্তা করে।

আমাদের সমাজে বয়স্করা চুপচাপ আবুল তাবুল গানমার্কা সুরেলা ওয়াজ শোনে। শিশুরা পিছনদিকে আর বাইরে দৌড়াদৌড়ি করে। আমার বয়সীরা মোবাইলে এসএমএস লিখে ব্লুটুথে ফাইল ট্রান্সফার করে আর নীচুস্বরে গল্প করে।

ওরা যখন ইমাম সাহেবের বক্তৃতা শেষে কোরআন পড়ে, ইসলামিক বই পড়ে কিংবা শেষ রাতের নামায আর সাহরীর জন্য প্রস্তুতি নেয়, আমরা তখন জিলাপি খেয়ে বাসায় এসে ডিশে কিছুক্ষণ ছাইয়া ছাইয়া দেখি, ইন্টারনেটে ব্রাউজ করি। ফজরের নামায? খিক খিক।

অন্ধকার সরণী ধরে শেষ হবে এ পথ চলা। অন্ধকার আজব পথে চলা শেষ হতে হবেই। কয়েক প্রজন্ম পরে হোক, হতাশা নেই। আশার আলোটাকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই। কত হতাশা আর কষ্টের পরও প্রিয়নবী এবং তাঁর সাহাবীরা নিরাশ হয়ে সব ছেড়েছুড়ে দেননি, আমাদের কি যুক্তি আছে নিরাশায় হারানোর? আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ। এই পবিত্র রজনীতে সেই শ্রেষ্ঠ মানুষকে স্মরণ করছি। আল্লাহ, আমাদের আপনি সঠিক পথ দেখান।

Friday, July 09, 2010

যে নামে উইন্ডোসে ফোল্ডার তৈরী করা যায় না

ব্যাপারটা হয়ত অনেকেই জানেন, তবুও শেয়ার করলাম যারা জানেন না, তাদের জন্য। কয়েকটি আগেই জানতাম, কিন্তু অধিকাংশই জানতাম না।
আপনার অপারেটিং সিস্টেমস যদি উইন্ডোজ হয় তবে আপনি ইচ্ছা করলেও নিচের নামগুলি দিয়ে ফোল্ডার তৈরী করতে পারবেন না।
যেমনঃ con, nul, prn, aux, com1, com2, com3, com4, com5, com6, com7, com8, com9, lpt1, lpt2, lpt3, lpt4, lpt5, lpt6, lpt7, lpt8, lpt9 সহ আরো কিছু। চেষ্টা করে দেখুন আসলেই পারা যায় কি না?

আলোচিত উক্তিতে মতামত দেন....

"আওয়ামী লীগের রক্তের স্রোতধারায় (ব্লাড স্ট্রিম) গোলমাল আছে"

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য

জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে হিউম্যান রাইটস্ স্টাডিজ ডটকম আয়োজিত রিমান্ড, হুলিয়া ও রাজনৈতিক সহিংসতা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে

সূত্রঃ আমাদের সময়, ০৯/০৭/২০১০

কার্টুন দেখুন এবং ভাবুন তো!!!!!!!!!



"দিল্লীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে সত্রিয় সরকার"

বিস্তারিত পড়ুন এখানে
http://budhbar.com
সূত্রঃ সাপ্তাহিক বুধবার, ০৮/০৭/২০১০

আসেন আমরা নিজের চর্কায় তেল মারি।

ইংরেজীতে তিনটি শব্দ আছে Values, ethics আর morality। ডিকশনারিতে তিনটার বাংলা অর্থ ঘুইরা ফিরা একই। অর্থাৎ শাব্দিক অর্থের দিকে তাকাইলে পুরাই টাশকি খাইয়া কট খাইবেন আর তিনটা শব্দরে সিনোনেইম ভাইবা পল্টি লইতে গিয়া ধরা খাইলে তো কথাই নাই। ইংলিশ ডিকশনারিতেও সেইম। ঘুইরা ফিরা একই অর্থ। যাউক গা। স্বভাবগত ভাবে আমরা বাঙ্গালীরা এক লাইন পরাই চৌদ্দ লাইন বুইঝা ফালাই। এদিক দিয়া আমাগরে incredibly talent কইলে মাইন্ড খাওনের কুনো কাম নাই। কারন তেল দিলে কার না ভালো লাগে।

যাই হোক, আসল কথায় আসি, আসলে ডেফিনেশানের দিক দিয়া এইগুলান অনেক অনেক ভিন্ন জিনিস। রাজ মিস্ত্রীরা যখন দেয়াল তৈরী করেন তখন তারা প্রতিটি ইটের চার পাশে সিমেন্ট বালীর মিস্রনের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন, যার ফলে কাজ শেষে একখান নির্ভর যোগ্য দেয়াল তৈরী হয়। ঠিক তেমনিভাবে এই তিনটা একই অর্থের জিনিস যেন সমাজের ব্যাক্তি একক থেকে শুরু করে একযোগে সবার কাছে বিদ্যমান থাকে সেজন্য তিনটি শব্দের ভিন্ন ভিন্ন সঙ্গা দেয়া হয়েছে।

Values
Values হলো যেসকল নিয়ম যার দ্বারা আমরা সঠিক বা বেঠিক, উচিৎ আনুচিৎ, ভালো মন্দ সম্পর্কীয় সিধ্যান্ত নেই। এই নিয়মগুলোর মাধ্যমে কোনটা কতটুকু গুরুত্বপুর্ন তাও নির্ধারিত করা হয়, যেটা কোন জিনিসের উপর অন্য জিনিসের প্রনিধানযোগ্যতার গুরুত্ব বিচারে সহায়ক।

Morals
Morals হলো ভালো-মন্দের চেয়ে বেশী কিছু, ব্যক্তি পর্যায়ের ভালো মন্দের পার্থক্যি করন এবং তার প্রয়োগই হলো মোরালিটি। মোরালিটি ব্যক্তিগত চরিত্রকেই ইঙ্গিত করে।

Ethics
ব্যক্তি পর্যায়কে ছাপিয়ে ভালো-মন্দ, উচিৎ-অনুচিৎ, সঠিক-বেঠিকের প্রশ্ন যখন সামাজিক জীবনে বা সামষ্টিক জীবনে চলে আসে তখন সেটা হয় এথিক্স।

উপরে দেয়া তিনটি সঙ্গার যথোপযুক্ত প্রয়োগের মাধ্যমেই সমাজে শান্তি সৃংখলা বিরাজ করে। তাছাড়া কোনও সুখ শান্তির সম্ভাবনা নাই। এখন যারা সরকারের দিকে তাকাইয়া সুখ দে, শান্তি দে, নিরাপত্তা দে, হেন দে তেন দে কইয়া গলা ফাটাইতাসেন তাগরে কই চুপ করেন। আপনের একটা পায়ে বিষ ফোড়া থাকলে আমি যদি আপনেরে হাজার টনের স্বর্ন এনেদেই তাইলে কি সুখ পাইবেন? বরং চিল্লাইয়া চিল্লাইয়া কইবেন পারলে আমার পা টা কাইটা ফালাইয়াদে!! কারও যখন ক্যান্সার হয় তখন কি সারা শরিরে হয় ? শরীরের যে কোন স্থানে ক্যান্সার হইলেই হইসে কবরে যাওনের লাইগা প্রস্তুতি নিতে শুরু করে মানুষ। তার মানে হল, মানুষকে অসুস্থ হতে হলে যেমন সারা শরীর নিয়ে অসুস্থ হতে হয় না তেমনি সমাজে অস্থিরতা বিরাজ নৈতিকতার অবক্ষয়, চারিত্রিক ধশের জন্য নেতা নেতৃত্ব নয় বা রাজনৈতিক দল নয় আপনি আপনার নিজের দিকে তাকাইয়া দেখেন, সময় সময় আপনি আমি রাজনোইতিকদের থেকেও অধম, পশুর চেয়েও অধম। কিন্তু হুদাই রাজণৈতিকদের নিয়া চিল্লাই। আপনি আমি যদি সমাজে দেদারসে আকাম করি তাইলে আমরা কেমনে আশা করি এই সমাজ থেকে সৎ চরিত্রবান নেতার তৈরী হবে??

এখনতো কারও ব্যক্তিগত ভুল ত্রুটি নিয়ে কথা বললে ব্যাক্তিগত ব্যপারে হস্তক্ষেপের অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হয়। সমাজের একজন যদি আরেকজনের কুকাম কে চোখে আঙ্গুলদিয়ে দেখিয়ে শুধরে দেয়ার মানষিকতা না রাখে তাহলে সেখানে ভালো মানুষ তৈরী হবে কেমনে? ধরেন আমি মাইয়া পটাইয়া বেড়াই (বেশী ডিপে গেলাম না) এখন যদি কেউ আমারে কয় “ভাই এইডাতো ভালা কাম না” তখন আমি ধমক দিয়া কই “ দেখেন ভাই এইডা আমার ব্যক্তিগত ব্যপার, আমি আপনেরটা খাইও না পড়িও না অতএব হুদাই আমার ব্যপারে নাগ গলাইতে আইসেন না, নইলে কইলাম থুতা বেরেক কইরা দিমু” এখন যখন জুনিয়র ভাইয়েরা ইভ টিজিং করে তখন আমার চান্দি গরম হইয়া যায়!!! কেন ?? আমি যদি ওই উপদেশ শুইনা ভালো হইতাম এবং আরও একজন রে ভালো পথে আনতাম তাইলে আমার চিল্লানোটা সার্থক হইত।

আসলে আমাগো নিজের দোষ আমরা নিজেরা চোখে দেখি না। এমনকি নিজেদের অধিনস্তদেরকেও আমরা নৈতিকতার শিক্ষা দেই না। আবার তাদের কাছে নৈতিক ব্যবহার আশাকরি!!! আপনি যদি সারা বিশ্ব্বের দিকে তাকান তাইলে দেখবেন সবখানেই নেতা-নেত্রী, আমলা, মন্ত্রী বা উচ্চস্তরের মানুষের নৈতিকতা নিয়া মাতামাতি করা হয় বেশী। নিন্তু এরা যেই সমাজ থেকে বড় হয়েছে সে সমাজের ব্যক্তি পর্যায়ের ক্ষেত্রে নৈতিকতা বা চারিত্রিক সৌন্দর্যের কথা কেউ চিন্তাও করে না। যার কারনে উচ্চপর্যায়গুলোতে এই সব ফালতু চরিত্রহীনরাই উঠে যাচ্ছে আর জনগন হুদাই চিল্লাইতাসে। কিন্তু ভালো লোক আর আসে না। চিল্লাচিল্লি, মারামারি, হানাহানী, হরতাল, অবরোধও আর থামে না। জনসাধারনও শান্তির দেখা পায় না।

আমাদের হুদাই প্যাচাল পারার আগে একটা জিনিস জানা দরকার আছে, যত নেতা নেত্রী আছে তারা আমাগ মত জনসাধারনের থেকেই তৈরী হইয়া নেতা হয়, তার মানে তারাও আমাদের মত জনসাধারন। তাই আমরা যদি নিজেরা চারিত্রিক ও নৈতিক দিক থাকে ঠিক থাকতাম তাইলে আমাদের মধ্য থেকে তৈরী হওয়া নেতারা এমন শয়তান হইতো না। তাই আসেন আমরা নিজের চর্কায় তেল মারি।

Thursday, July 08, 2010

বেড়িয়ে আসুন প্রাচীন স্হাপত্য নিদর্শন ও গ্রামীন ঐতিয্যে ভরা নওগাঁ থেকে

বাংলাদেশের উত্তর জনপদের মধ্য যতগুলো জেলা রয়েছে তাদের মধ্য প্রাচীন স্হাপত্য নিদর্শন ও গ্রামীন ঐতিয্যে ভরা নওগাঁ জেলা অন্যতম। এখানে দেখতে পাবেন প্রাচীন স্হাপত্য নিদর্শন-পাহাড়পূর বৌদ্ধ বিহার, কুশুম্বা মসজিদ। আরো দেখতে পাবেন দিগন্ত জুড়ে সবুজ ও পাকা ধানক্ষেত, মাটির সু-উচ্চ দালান, আঁকা-বাকা মাটির রাস্তা, সারিসারি গরুর গাড়ি, পুকুরে একদল হাঁসের গোসল করা, গ্রাম্য বাজার, গ্রাম্য জীবন-বৈচিত্র, আরও কত কী! তাই আপনারা কেউ যখন উত্তরাঞ্চল ভ্রমনে যাবেন তখন নওগাঁ জেলাতে ভ্রমন করতে ভুলবেন না যেন! না গেলে অনেক কিছু মিছ করবেন।

কুশুম্বা মসজিদ

কুশুম্বা মসজিদ

পাহাড়পূর বৌদ্ধ বিহার

পাহাড়পূর বৌদ্ধ বিহার

পাহাড়পূর বৌদ্ধ বিহার

আধা পাকা ধানক্ষেত

ধান কাটছে কৃষক

ধান রোপন করছে কৃষক

দিগন্ত জুড়ে পাকা ধানক্ষেত

দিগন্ত জুড়ে সবুজ ধানক্ষেত

গ্রাম্য বধু

পুকুরে হাঁসের গোসল

গ্রামীন রাস্তা

সন্ধায় গ্রাম্য রাস্তায় গরুর গাড়ি

বাংলার ভ্যান

আলু ক্ষেত

ধানের চাতাল

ধানের চাতাল

চলুন ঘুরে আসি যশোর থেকে

আমরা অনেকেই জানি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত জেলা শহর হল যশোর। আপনার সবাই আমন্ত্রীত।
কিছু প্রাকৃতিক তসবির পোষ্ট করলাম, আশা করি ভাল লগবে।


ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি


আকাঁবাকা রাস্তা
মরা নদী
পাখির নীড়


বঙ্গপোসারের তীর

মানববন্ধন এবং কিছু ক্রন্দন।

পুলিশি বাধা, বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্য দিয়ে গতকাল দেশব্যাপী মানববìধন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। রাজধানীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের দাঁড়াতেই দেয়নি পুলিশ। যেখানেই নেতাকর্মীদের উপস্খিতি টের পেয়েছে পুলিশ, সেখানেই লাঠিপেটা করেছে। কেড়ে নিয়েছে ব্যানার-ফেস্টুন। জাতীয় প্রেস ক্লাব, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, মিরপুর, শাহবাগ, দৈনিক বাংলা, কাওরানবাজার, যাত্রাবাড়ীসহ ১৭টি স্পটে বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হলে পুলিশ তাদের হটিয়ে দেয়। বেশ কয়েক জায়গায় পুলিশের সাথে নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। এতে প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছে, আটক করা হয়েছে প্রায় ২৫ জনকে। রাজধানীর শ্যামলী থেকে যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে পুলিশ আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর ও জেলা সদরেও বিএনপি নেতাকর্মীদের কর্মসূচি পালনে বাধা দিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, কুমিল্লা, যশোর, নওগাঁ, রাজবাড়ী, শেরপুর, বগুড়াসহ বিভিন্ন স্খানে কর্মসূচি পালন নিয়ে পুলিশের সাথে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে শতাধিক আহত ও শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। নওগাঁ পুলিশের হামলায় এনামুল হক ওমর নামে এক কর্মী মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
সরকারের নির্দেশে পুলিশ শান্তিপূর্ণ এ মানববìধন কর্মসূচি বানচালের অপচেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার সমালোচনা করে বলেছেন, ‘কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, এমনকি ১৪৪ ধারাও জারি করা হয়নি। তার পরও ফুটপাথে আমাদের দাঁড়াতে দেয়া হয়নি। পুলিশ লাঠিপেটা করেছে।’ তিনি বলেন, সরকার বিরোধী দলের আন্দোলনকে ভয় পায় বলেই নির্যাতন চালাচ্ছে। এটি সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রকাশ। তিনি দাবি করেন, পুলিশি বাধার পরও সারা দেশে মানববìধন কর্মসূচি সফল হয়েছে।
গত ২৭ জুনের হরতালে নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি হামলা-নির্যাতনের প্রতিবাদ ও দলের নেতা মির্জা আব্বাস, শমসের মবিন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ গ্রেফতার হওয়া নেতাদের মুক্তির দাবিতে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালনের ডাক দেয় বিএনপি।
সকালে কর্মসূচির শুরুতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকলে বাধা দেয় পুলিশ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা প্রেস ক্লাবের ভেতর থেকে বাইরে আসার চেষ্টা করলে শ’খানেক পুলিশ তাদের মূল গেটেই আটকে দেয়। পরে ১১টার দিকে চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতৃত্বে বিএনপি’র কয়েক শ’ নেতাকর্মী মানববìধন রচনা করতে গেট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাও সফল হতে দেয়নি পুলিশ। পরে তারা গেটের সামনেই বসে পড়েন। সাড়ে ১১টার পর দুই দফা পুলিশ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগিðতণ্ডা হয়, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নেতাকর্মীরা এ সময় þেöাগানে ফেটে পড়েন। ‘জ্বালো, জ্বালো আগুন জ্বালো,’ ‘শেখ হাসিনার গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে’। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবদিন ফারুক এ সময় বলেন, শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে সরকার অগণতান্ত্রিক আচরণ করেছে।
দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন কর্মসূচির শুরু থেকেই প্রেস ক্লাবের বাইরের খোলা চত্বরে বসেছিলেন। ১২টার দিকে মানববìধন কর্মসূচি শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সরকার গণতন্ত্রের লেবাস পরে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চালাচ্ছে। তারা অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উত্তরসূরি।’ কর্মসূচি পালন শেষে দলীয় কার্যালয়ে আসার সময় খোন্দকার দেলোয়ার অসুস্খ হয়ে পড়লে তাকে ইসলামিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কর্মসূচি পালনে প্রেস ক্লাবে এ সময় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা আবদুল মান্নান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী, মজিবুর রহমান সারওয়ার, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মহানগরের সহকারী সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপি’র শেখ শওকত হোসেন নীলু, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম আল মামুন উপস্খিত ছিলেন। বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে কর্মসূচিতে আরো অংশ নেন নূরে আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, আব্দুল গফুর ভূঁইয়া, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মালেক, শাহজাহান মিয়া সম্রাট, মীর নেওয়াজ আলী, রিয়াজ উদ্দিন নসু, রফিক শিকদার প্রমুখ।
রাজধানীতে গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ১৭টি স্পটে মানববìধন কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা। ১১টা বাজার আগেই পুলিশি অ্যাকশনে তারা সরে যেতে বাধ্য হন। তার পরও ১২টা পর্যন্ত নির্ধারিত স্খানের আশপাশে অলিগলিতে কর্মসূচি পালন করেছে তারা।
রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকা থেকে সোহানুর রহমান, সোহেল, মরিয়ম বেগম, আব্দুল রাজ্জাক, পলাশসহ ১৫ জনকে আটক করে পুলিশ। আসাদগেটে পুলিশের লাঠিচার্জে আটজন আহত হয়েছে। বাংলামোটর থেকে তিনজন, যাত্রাবাড়ী থেকে আটজন গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গাবতলীর এস এ খালেক এন্টারপ্রাইজের সামনে সকালে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। কমিশনার আঞ্জু ও মাসুদ খানের নেতৃত্বে মানববìধন কর্মসূচি পালন করার প্রস্তুতি নেয়ার সাথে সাথে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। নেতাকর্মীরা দিগিðদিক ছোটাছুটি শুরু করে। পুলিশ এখান থেকে তিনজনকে আটক করে বলে বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন। এস এ খালেকের পিএস রবিউল অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই এস এ খালেকের বাসা পুলিশ ঘেরাও করে রাখে। তাকে বাসা থেকে বের হতে দেয়নি বলে জানান তিনি।
মানববìধনের জন্য নির্ধারিত স্পট কল্যাণপুরে সকাল থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে জড়ো হতে থাকে। কেন্দ্রীয় নেতা ইউং কমান্ডার হামিদুল্লাহ খান ও স্খানীয় কমিশনার শামীম আহমেদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশের রাস্তায় মানববìধনের প্রস্তুতি নিতেই পুলিশ এসে বাধা দেয়। এ সময় হামিদুল্লাহ খানের সাথে পুলিশের বাগিðতণ্ডা হয়। কয়েক মিনিটের জন্য রাস্তায় দাঁড়াতে চাইলেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি। আসাদগেটে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নীলুফার চৌধুরী মনি এমপি’র নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মানববìধন কর্মসূচি শুরু করে। কিছুক্ষণ পরই পুলিশ এসে ব্যানার কেড়ে নিয়ে তাদের সরে যেতে বলে। নেতাকর্মীরা সরে যেতে না চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ সময় যুবদলের সভাপতি তাতে বাধা দিলে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
বেলা ১১টায় সোনারগাঁ হোটেল এলাকায় বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে মানববìধন করার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি। এ সময় দলের নেতা অধ্যাপক এম এ মান্নান, আহমেদ আজম খান, আব্দুল কাইয়ূম, রহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আবুল কালামসহ স্খানীয় নেতাকর্মীরা উপস্খিত ছিলেন।
বাংলামোটরে দলের স্খায়ী কমিটির সদস্য সরোয়ারী রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে মানববìধন শুরু করার পরপরই পুলিশ এসে বাধা দেয়। তাদের কাছ থেকে ব্যানার ছিনিয়ে নেয় পুলিশ। এ সময় উপস্খিত ছিলেন আবুল খায়ের ভূঁইয়া, এমরান সালেহ প্রিন্স, হেলেন জেরিন খান, কমিশনার শিরিন জাহান, মো: জাকির হোসেন প্রমুখ।
শাহবাগ এলাকা ছিল ছাত্রদলের জন্য নির্ধারিত স্পট। সকাল থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শাহবাগে এসে জড়ো হতে থাকেন। ১১টার দিকে শাহবাগে বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপনের নেতৃত্বে শতাধিক ছাত্রদল নেতাকর্মী মানববìধনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে পুলিশ এসে বাধা দেয়। বাধা পেয়ে তারা শিশুপার্কের সামনে এসে দাঁড়ায়। সেখানে প্রায় আধাঘন্টা কর্মসূচি পালন করার পর পুলিশ এসে ফের বাধা দেয়। এ সময় ছাত্রদলের নেতাদের সাথে পুলিশের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পুলিশের বাধা পেয়ে তারা মিছিল নিয়ে প্রেস ক্লাবের দিকে রওনা হয়। এ সময় ওই রাস্তা কিছুক্ষণের জন্য বìধ ছিল। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে আসার পর আবারো পুলিশ বাধা দেয়। কর্মসূচিতে উপস্খিত ছিলেন শহিদুল ইসলাম বাবুল, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, সাফিন আহমেদ, মনিরুল ইসলাম সোহাগ, ঢাকা উত্তরের সভাপতি কামাল আনোয়ার আহমেদ প্রমুখ।
হাইকোর্ট এলাকায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবীরা মানববìধন করার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। প্রধান ফটকের বাইরের রাস্তায় তাদের আসতে দেয়া হয়নি। মানববìধন কর্মসূচিতে অংশ নেন সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, বিএনপি’র আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট নিতায় রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আফজাল এইচ খান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল প্রমুখ। মানববìধন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সরকারের এ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিএনপি আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবে। অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সরকার নির্যাতন বìধ না করলে, মানুষের ওপর অত্যাচার হলে আইনজীবীরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপি’র স্খায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবুর নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন নেতাকর্মী শাপলা চত্বরে এসে জড়ো হন। পুলিশি তৎপরতায় নেতাকর্মীরা সেখানেও দাঁড়াতে পারেননি।
১১টার দিকে দৈনিক বাংলার মোড়ে সাবেক মন্ত্রী ড. মঈন খানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মানববìধন করতে চাইলে পুলিশ তাদের হটিয়ে দেয়। নয়াপল্টন মোড়ে দলের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদের নেতৃত্বে নেতকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। তারা রাস্তায় দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে গেলেই পুলিশ এসে তাদের বাধা দেয়। বেশ ক’বার চেষ্টা করেও তারা মানববìধন করতে পারেননি। এ সময় যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম আজাদ, আব্দুল আউয়ালসহ নেতাকর্মীরা উপস্খিত ছিলেন।
বেলা ১১টায় বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক মুক্তা ও মকবুল ইসলাম টিপুর নেতৃত্বে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা টিকাটুলী ইত্তেফাক মোড়ে জড়ো হন। ব্যানার নিয়ে তারা মানববìধন করতে চাইলে পুলিশ এসে বাধা দেয় এবং ব্যানার কেড়ে নেয়। একপর্যায়ে পুলিশ টিকাটুলী মোড়ে কাউকে দাঁড়াতেই দেয়নি। এমনকি পথচারীদেরও না।
ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা হাটখোলা এলাকায় মানববìধন করার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ বাধা দেয়। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে পুলিশের বাধার কারণে চলে যায়। দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান এ সময় উপস্খিত ছিলেন।
মানববìধন কর্মসূচি চলাকালে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় বিএনপি’র কোনো নেতাকর্মীকে পুলিশ দাঁড়াতে দেয়নি। চৌরাস্তায় কারো হাতে বিএনপি’র ব্যানার দেখা গেলেই পুলিশ কেড়ে নিয়েছে। বেলা ১১টার আগেই বিএনপি’র নেতাকর্মীরা যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কের যাত্রাবাড়ী প্রাইমারি স্কুলের বিপরীতে একটি ভবনের নিচে জড়ো হতে থাকেন। এর নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল হাই ও যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপি নেতা নবীউল্লাহ নবী। ১১টা বাজার সাথে সাথে তারা মিছিলসহকারে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার দিকে যেতে চাইলে খানকা শরীফ মসজিদের সামনে পুলিশ আকস্মিক লাঠিচার্জ শুরু করলে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এতে সাত-আটজন কর্মী আহত হয়।
গাবতলীতে রফিফুল ইসলাম মিয়ার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মানববìধন কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করেন।
বিএনপি’র সংবাদ সম্মেলন : দুপুরে নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হলো মানববìধন। কিন্তু সেখানে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। এটি দু:খজনক। দেখে মনে হচ্ছে, সরকার গণতান্ত্রিক পথ ছেড়ে দিয়ে ফ্যাসিবাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানববìধন কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ও আটক হওয়ার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, নওগাঁয় পুলিশের লাঠিচার্জে এনামুল হক নামে একজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া যশোর, পাবনা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করেছে। মানববìধনে পুলিশি বাধার প্রতিবাদে কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, আব্দুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, আব্দুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, রিজভী আহমেদ, ইলিয়াছ আলী, আবুল খায়ের ভুঁইয়া এমপি, আব্দুস সালাম, আব্দুল লতিফ জনি প্রমুখ উপস্খিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মানবপ্রাচীর তৈরির প্রস্তুতি নিলেও প্রায় অর্ধশত পয়েন্টে ব্যাপক পুলিশি বাধার মুখে মানববìধন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলো। নগর বিএনপি’র সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দাবি করেছেন, ব্যাপক পুলিশি বাধা ও লাঠিচার্জকে উপেক্ষা করে নগরীতে স্বত:স্ফূর্ত মানববìধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানববìধন কর্মসূচি পালনের লক্ষ্যে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা জড়ো হন। তবে পুলিশের সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেই পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের। বিএনপি দাবি করেছে নগরীর কালামিয়ার বাজার, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ওয়াসা মোড়, দেওয়ানহাট, চৌমুহনী মোড়, বারিকবিল্ডিং, সল্টগোলা ক্রসিং এবং ইপিজেড মোড়সহ অর্ধশত পয়েন্টে পুলিশ ও র‌্যাব দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণকে মানববìধন পালনে বাধা দেয় ও ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড কেড়ে নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববìধন করার জন্য নগরীর দেওয়ানহাট মোড়ে বিএনপি’র কর্মীরা দাঁড়ালে পুলিশ তাদের হটিয়ে দেয়। এ সময় বিএনপি কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। সেখান থেকে পুলিশ বিএনপি’র তিন কর্মীকে আটক করে।
নগর বিএনপি’র সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নেতাকর্মীদের নিয়ে ওয়াসা মোড়ে মানববìধন রচনা করেন। এ সময় পুলিশ সেখানে বাধা দেয় এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের বাদানুবাদ হয়। এ সময় বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য রোজী কবীর, বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান, মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, আহমেদুল আলম চৌধুরী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি প্রমুখ সেখানে উপস্খিত ছিলেন।
এ দিকে মানববìধন কর্মসূচিতে পুলিশি বাধার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল ওয়াসা মোড় থেকে শুরু হয়ে কাজিরদেউরী হয়ে নাসিমন ভবনের সামনে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এতে বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য রোজী কবীর ও উত্তর জেলা বিএনপি’র সহসভাপতি এস এম ফজলুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে বক্ততাকালে আমীর খসরু বলেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার তাদের বাকশালী চেহারা জনতার সামনে উন্মোচন করল। সব নির্যাতনকে পদদলিত করে জনতার মুক্তির সংগ্রাম এগিয়ে যাবে।
যশোর অফিস জানায়, পুলিশি বাধার মুখে গতকাল বুধবার যশোরে বিএনপি ও জামায়াতের মানববìধন কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়। পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে মানববìধনে আসা নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশ বিএনপি ও জামায়াতের ১২ নেতাকর্মীকে আটক করে।
বেলা ১১টার দিকে পূর্বনির্ধারিত শহরের দড়াটানা থেকে মণিহার চত্বর পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়কে মানববìধন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দলীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসেন বিএনপি’র স্খায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামসহ জেলা বিএনপি ও জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতারা। নেতাকর্মীদের নিয়ে তরিকুল ইসলাম দড়াটানায় মানববìধন কর্মসূচি শুরু করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সাথে দলীয় নেতাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পুলিশ এ সময় ১২ জন নেতাকর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়। আটককৃতরা হলেন, ফায়জুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাক আহমেদ, ইব্রাহিম হোসেন, জাবেদ আহমেদ, আওয়াল হোসেন, গোলাম কিবরিয়া, ইমদাদুল আমির হোসেন, আশরাফুল ইসলাম, রবিন হোসেন ও জাহিদ হোসেন।
নেতাকর্মীদের আটকের প্রতিবাদে বিএনপি’র স্খায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিক যশোর প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ ও পরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনি বিনা কারণে নেতাকর্মীদের আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তরিকুল ইসলাম বলেন, দেশে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা চলছে। দেশে এখন সামরিক সরকার বা জরুরি অবস্খা নেই। ১৪৪ ধারাও জারি করা হয়নি। ক্ষমতায় নির্বাচিত সরকার রয়েছে। সংসদ চলছে। তার পরও রাস্তায় বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ মানববìধন কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, এটা বাকশালী নীতির বহি:প্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং পুলিশের কিছু কর্মকর্তার অতিউৎসাহী ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তরিকুল ইসলাম শান্তিপূর্ণ মানববìধন কর্মসূচি থেকে আটককৃত দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।
মানববìধন কর্মসূচিতে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা প্রকৌশলী টি এস আইয়ুব, জেলা বিএনপি’র সহসভাপতি সামছুল হুদা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, নুরুন্নবী, দেলোয়ার হোসেন খোকন, মারুফুল ইসলাম, আবু তাহের সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্খিত ছিলেন।
নওগাঁ সংবাদদাতা জানান, বিএনপি’র মানববìধনে পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের ধাওয়ায় দৌড়ে পালাতে গিয়ে এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টায় শহরের ব্রিজের মোড়ে মানববìধন কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পুলিশের বাধার মুখে নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করলে মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণের সময় পুলিশ বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এ সময় দৌড়ে পালাতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক করে রানীনগর উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক ওমর (৪২) ঘটনাস্খলেই মারা যান বলে স্খানীয় বিএনপি অভিযোগ করেছে। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা নাজমুল হক সনি জানান, পুলিশের ধাওয়ায় যুবদল নেতা ওমর গুরুতর অসুস্খ হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত স্খানীয় তাজ ক্লিনিকে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
তবে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোফাজ্জেল হোসেন জানান, পুলিশ কোথাও কোনো লাঠিচার্জ করেনি। এনামুল হক ওমর মানববìধনে আসার পথে অসুস্খ হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
এ দিকে কর্মসূচি চলাকালে কেডি উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় অবস্খিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি শামসুল আলম প্রামাণিক, কেন্দ্রীয় সদস্য নাজমুল হক সনি, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান মাসুদ উৎপল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
অন্য দিকে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নওগাঁ জেলা শাখার উদ্যোগে তাজের মোড় এবং কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় মানববìধন কর্মসূচি পালন করেছে।
ফরিদপুর অফিস জানায়, পুলিশের উপর্যুপরি বাধা, বিএনপি নেতাদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশের হানা, মহিলা কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জসহ প্রশাসনের কড়া প্রতিরোধের মুখে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ মানববìধন কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। তবে সকালে জামায়াতের উদ্যোগে বায়তুল আমানে মানববìধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বিএনপি নেতারা প্রেস ক্লাবের সামনে এসে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সেখানে জড়ো হতে দেয়নি। এরপর নেতাকর্মীরা ঝিলটুলীতে জড়ো হয়ে সেন্ট্রাল হাসপাতালের কাছ থেকে মিছিলসহকারে প্রেস ক্লাব অভিমুখে রওনা হন। মিছিলটি কিছু দূর এগোনোর পর পুলিশ মিছিলকারীদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে এবং মহিলা দলনেত্রীদের হাত থেকে মানববìধনের ব্যানার কেড়ে নেয়। এতে মহিলা দলের কয়েকজন নেত্রীসহ প্রায় ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন। এদের মধ্যে জুলফিকার হোসেন জুয়েল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাফিজ, হান্নান মিয়া, বিলকিস ইসলাম, শাহিদা বেগম, পারুল বেগম, মাহমুদ কলি অন্যতম। এ সময় মিছিলে অংশ নেয়া মহিলা দলনেত্রী রুমাইয়া, নূরজাহান ও পিয়ারা বেগম নিখোঁজ হন। তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। থানায় যোগাযোগ করলেও তাদের সìধান দিতে পারছে না পুলিশ।
আহতদের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
বগুড়া অফিস জানায়, গতকাল বগুড়ায় বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ মানববìধন কর্মসূচি পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে। এ সময় পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও পুলিশের লাঠিচার্জে এমপিসহ ৫০ জন আহত হন। সকালে নেতাকর্মীরা কর্মসূচি শুরুর জন্য মিছিল নিয়ে শহরের সাতমাথার দিকে রওনা হলে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। তখন ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে বগুড়া-৪ আসনের এমপি মোস্তফা আলী মুকুল, সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন চাঁন, আলী হায়দার তোতা, মোহাম্মদ আলীসহ ৫০ জন আহত হন। এরপর দলীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলে পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে।
পরে বগুড়া বারের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা কোর্ট হাউজ স্ট্রিটে মানববìধন কর্মসূচি পালন করতে গেলে সেখানেও পুলিশ বাধা দেয় এবং তাদের ব্যানার কেড়ে নেয়।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম জানান, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে সরকার বাকশালী চরিত্র প্রকাশ করেছে। তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।
এএসপি আরিফুর রহমান মণ্ডল জানান, বিএনপি নেতাকর্মীরা রাস্তা বìধ করে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টির মাধ্যমে মানববìধন কর্মসূচি করতে গেলে পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করেছে।
এ দিকে দুপচাঁচিয়া চালের মোকামের চাল ব্যবসায়ী, ট্রাক শ্রমিক ও আড়ৎদারদের আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল সকালে চাল বেচাকেনা বìধ করে শান্তিপূর্ণ মানববìধন কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশের অতর্কিত হামলায় চার ব্যবসায়ী মারাত্মকভাবে আহত হন। এ সময় মানববìধন পণ্ড হয়ে যায়। পরে বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা বগুড়া-নওগাঁ সড়ক অবরোধ করে কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে। অবরোধ চলাকালীন থানার ওসি ঘটনাস্খলে এসে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের কাছে তাদের এই ভুল অভিযানের কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্খা গ্রহণের আশ্বাস দিলে পরিস্খিতি শান্ত হয়।
জয়পুরহাট সংবাদদাতা জানান, বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ মানববìধন কর্মসূচি লাঠিচার্জ করে ভণ্ডুল করে দিয়েছে পুলিশ। বেলা ১১টায় শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ চত্বরে জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মোজাহার আলী প্রধানের নেতৃত্বে জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীরা মানববìধন করার চেষ্টা করলে পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের সাথে বাগিðতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ মোজাহার আলী প্রধান ও পৌর মেয়র ফজলুর রহমানের হাত থেকে ব্যানার কেড়ে নেয়। ব্যানার কেড়ে নেয়ার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিলসহ স্টেশন রোডের অফিসের দিকে রওনা দিলে বিনা উসকানিতে পুলিশ পেছন থেকে লাঠিচার্জ করে। পুলিশের লাঠির আঘাতে বিএনপি নেতা হেনা কবির, ইউনুসার রহমান ইউনুস, যুবদল নেতা আফজাল হোসেন, ছাত্রদল নেতা মাহবুবুল আলম টুকু, হাবিল উদ্দীন, আবু সায়েম উদ্দীন, শাহিনুর আলম, আব্দুল আলীম ও ফয়সল আলম আহত হন। পুলিশ যায়যায়দিন-এর জেলা প্রতিনিধি মাসুদ রানাকেও লাঠিপেটা করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, পুলিশি বাধার কারণে গতকাল মানববìধন কর্মসূচি পালন করতে পারেনি বিএনপি। মানববìধন করার সময় পুলিশের লাঠিচার্জে এক মহিলাসহ পাঁচজন আহত হন। তবে বিকেলে শহরের নতুনহাট এলাকায় মানববìধন কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াত। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মানববìধন পালনের জন্য কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে কয়েক শ নেতাকর্মী কোর্ট চত্বরের দিকে রওনা হলে গণপূর্ত অফিসের সামনে পুলিশ তাদের পথরোধ করে ব্যানার কেড়ে নেয় এবং লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় রিমা খাতুন নামে মহিলাসহ পাঁচজন কর্মী আহত হন। পরে হারুনুর রশিদ এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচিতে পুলিশি বাধার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। পুলিশের হামলায় তাদের ১০ কর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। এ দিকে বিকেলে নতুনহাট এলাকায় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবুজার গিফারীর নেতৃত্বে মানববìধন কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াত।
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, বিএনপি’র দুই গ্রুপের মানববìধনই পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। এতে ৩০ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা। এদের মধ্যে চারজনের অবস্খা গুরুতর। নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল জানান, গতকাল সকালে জেলা বিএনপি শহরের দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় অবস্খিত তাদের অফিসের সামনে মানববìধন করে। সকাল ১০টায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচি শুরুর পরপরই পুলিশ তাদের ব্যানার ছিনিয়ে নেয় এবং লাঠিচার্জ করে কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের সাথে নেতাকর্মীদের কিছুক্ষণ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। কর্মসূচি শুরুর আগেই পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রাখে। কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসতে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের সাথে তাদের বাগিðতণ্ডা হয়। পুলিশের লাঠিচার্জে ২০ নেতাকর্মী আহত হন।
অন্য দিকে পৌর বিএনপি একই সময়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববìধন করে। মানববìধন কিছুক্ষণ চলার পর পুলিশ তাদের ব্যানার ছিনিয়ে নেয় এবং লাঠিচার্জ করে। এতে ১০ জন আহত হন বলে পৌর বিএনপি দাবি করেছে।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীতে বিএনপি’র মানববìধন কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও রাজশাহী মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান মিনুর নেতৃত্বে বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে মানববìধন কর্মসূচি পালনের জন্য দাঁড়াতে থাকেন নেতাকর্মীরা। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ দলীয় নেতাকর্মীদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে এ কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। নেতারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করবে এমন নিশ্চয়তা দিলেও পুলিশ তাতে অনুমতি না দিয়ে বাধা দেয়।
পুলিশি বাধার মুখে একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখান থেকে ভুবন মোহন পার্কে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন।
এ দিকে পুলিশি বাধার কারণে মহানগর বিএনপি’র কর্মসূচি পালন করা সম্ভব না হলেও কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বিকেলে রাজশাহী জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে নগরীর সাহেববাজার বড় মসজিদসংলগ্ন রাস্তায় বিরাট মানববìধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল মনির, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহীন শওকত, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক মামুনুর রশিদ, ছাত্রদল নেতা নুসরাত এলাহী রিজভী প্রমুখ।
মানববìধন কর্মসূচি শেষে জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ভুবন মোহন পার্কে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় মিলিত হয়।
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি নগরীর পিকচার প্যালেস মোড় থেকে শুরু করে শহরের শেষ সীমানা শিরোমনি বাজার পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার মানববìধন কর্মসূচি পালন করে। মানববìধনে বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়, শিববাড়ী মোড়, নতুন রাস্তা মোড়, দৌলতপুর বেবিস্ট্যান্ড, মহসিন স্কুল মোড়, ফুলবাড়িগেট ও শিরোমনি এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম নূরুল ইসলাম দাদু ভাই, মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম মনা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম ও অ্যাডভোকেট স ম বাবর আলী, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক ফকরুল আলম, সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী, সৈয়দা রেহানা ঈসা প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে পুলিশের বাধার মুখে কেন্দ্র ঘোষিত মানববìধন কর্মসূচি পালন করতে পারেনি সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মানববìধন কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে রাজপথে উত্তেজনা দেখা দেয়।
গতকাল সিলেট জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হলে রাজপথে সমাবেশ না করার জন্য পুলিশ নির্দেশ দেয়। পুলিশ বিএনপি’র ব্যানার ছিনিয়ে নেয়। এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য দিলদার হোসেন সেলিমের সাথে পুলিশ কর্মকর্তাদের কথাকাটাকাটি হয়। একই স্খানে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সদস্যরা মানববìধন করতে চাইলে পুলিশ তাতেও বাধা দেয়।
অন্য দিকে মহানগর বিএনপি’র উদ্যোগে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় মানববìধন করতে চাইলে সেখানেও পুলিশ বাধা দেয়। মানববìধন না করতে দেয়ার প্রতিবাদে বিএনপি মিছিল করতে চাইলে পুলিশ তাও করতে দেয়নি।
গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, গাজীপুরে পুলিশের বাধার মুখে স্খান পরিবর্তন করে জেলা বিএনপি কার্যালয় প্রাঙ্গণে মানববìধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক পুলিশ জেলা বিএনপি কার্যালয় ঘেরাও করে রাখে। গাজীপুর জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুলের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন, আফজাল হোসেন কায়সার, মো: সোহরাব উদ্দিন, ডা. মাজহারুল আলম, আহমদ আলী রুশদী, সাখাওয়াত হোসেন সবুজসহ স্খানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্খিত ছিলেন। এর আগে নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়কে মানববìধনের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ব্যানার কেড়ে নেয় এবং মানববìধনে বাধা দেয়। অন্য দিকে জেলা শহরের শিববাড়ী মোড়ে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে মানববìধন কর্মসূচি পালিত হয়।
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহে পুলিশি বাধার মুখে বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবেই মানববìধন কর্মসূচি পালন করেছে। এ সময় নতুনবাজার এলাকা থেকে বিএনপি দুই কর্মীকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মানববìধন কর্মসূচির কারণে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন স্খানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিএনপি কার্যালয়ের আশপাশেও ছিল প্রচুর পুলিশ। বেলা ১১টায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে মানববìধন কর্মসূচি শুরু করলে পুলিশ বাধা দেয়। উদ্ভূত পরিস্খিতিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা রাস্তায় বসে পড়েন। পরে পুলিশের বাধার মুখেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন ব্যানারসহ নতুনবাজার, রামবাবু রোড ও কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ সড়কে এক ঘন্টা মানববìধন কর্মসূচি পালন করে। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াহাব আকন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর মাহমুদ আলম, শহর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
পাবনা সংবাদদাতা জানান, পুলিশের বাধার মুখে বিএনপি পাবনা শহরে এক মানবìধন কর্মসূচি পালন করে। বেলা সাড়ে ১১টায় বিএনপি জেলা কার্যালয় থেকে দলের নেতাকর্মীরা মানববìধন অংশগ্রহণ করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে বিএনপি অফিসের সামনে থেকে চার তলা মোড় পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এর আগে অফিসের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মান্নান মাস্টার, সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান তোতা, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, সদর উপজেলা সভাপতি মো: মুছা, পৌর সভাপতি তৌফিক হাবিব ও যুবদল জেলা সভাপতি শেখ তুহিন প্রমুখ।
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা জানান, পুলিশের বাধার মুখে সাতক্ষীরায় বিএনপি আহূত মানববìধন কর্মসূচি পণ্ড হয়ে গেছে। কেন্দ্র ঘোষিত এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে সকালে নেতাকর্মীরা শহরে সমবেত হওয়ার চেষ্টা করতেই পুলিশ বাধা দেয়। শহরের নিউমার্কেট এলাকায় আগ থেকে পুলিশ অবস্খান নেয়।
জেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব কলারোয়া থেকে একদল নেতাকর্মী নিয়ে শহরে ঢুকতেই বাধা দিয়ে কদমতলা থেকে তাদের ফিরে যেতে বাধ্য করে পুলিশ।
প্রেস ক্লাবে তাৎক্ষণিকভাবে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলীয় সম্পাদক সৈয়দ ইফতেখার আলি পুলিশি আচরণের প্রতিবাদ করে জানান, তাদের মানববìধন কর্মসূচি পালন করতে না দিয়ে পুলিশ বলেছে ওপরের নির্দেশ আছে।
খুলনায় যুবলীগের হামলায় আহত ২০ : আশঙ্কাজনক মজনুকে ঢাকা প্রেরণ
খুলনা ব্যুরো জানায়, বিএনপি’র মানববìধন কর্মসূচিতে যুবলীগ কর্মীদের হামলায় খুলনা সদর থানা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ইউছুফ হারুন মজনুসহ ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। মজনুকে আশঙ্কাজনক অবস্খায় ঢাকা পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপি সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। হামলার জন্য খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান পপলু ও তার সহযোগীরা দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন।
খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি পিকচার প্যালেস মোড় থেকে শুরু করে শহরের শেষ প্রান্ত শিরোমণি বাজার পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার মানববìধন কর্মসূচি পালন করে। সাড়ে ১১টায় যুবলীগ আনিসুর রহমান পপলু, আবুল কালাম আজাদ ও শফিকুর রহমান পলাশের নেতৃতে শতাধিক নেতাকর্মী নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড়ে এসে অবস্খান নেয়। এ সময় বিএনপি নেতা ইউছুফ হারুন মজনু মটরসাইকেলে ঘটনাস্খল অতিক্রম করার সময় যুবলীগের নেতাকর্মীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে গেলে তাকে উপর্যুপরি লাথি মেরে তারা উল্লাস করতে থাকে। মজনুকে উদ্ধার করতে গিয়ে বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম সিপার, আবদুল মালেক খান, আসলাম মোল্লা, ওয়াহেদুজ্জামান, দুলাল হাওলাদার, শফিকুল ইসলাম মোল্লা ও ছাত্রদল নেতা জামির আলীসহ প্রায় ২০ জন আহত হন। পরে পুলিশ মজনুকে উদ্ধার করে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্খার অবনতি হলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। তার সাথে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি’র সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মজনুর অবস্খা খুবই খারাপ।
এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিএনপি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান পপলু ও কাউন্সিলর বিথার হত্যাকারী হিরুর নেতৃতে নগ্ন হামলা চালায়। তিনি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের অমানবিক, পৈশাচিক ও কাপুরুষোচিত হামলা প্রমাণ করে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বানচাল করার জন্য গভীর রাতে শাসক দলের গোপন বৈঠকের পর যুবলীগের নামে নগরীর ময়লাপোতা মোড়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা জড়ো হয়। সেখান থেকে মিছিলসহকারে পাওয়ার হাউজ মোড়ে গিয়ে হামলা করে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে আওয়ামী লীগ নিজেও শান্তিতে থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, মানববìধনের আট পয়েন্টে পুলিশ মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। এ থেকে বোঝা যায়, কর্মসূচি বানচালের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল। প্রেস ব্রিফিংকালে উপস্খিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই, মহানগর সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম মনা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহারুজ্জামান মোর্তজা, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট স ম বাবর আলী, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক ফকরুল আলম, সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী, সৈয়দা রেহানা ঈসা, আবু হোসেন বাবু, শেখ আবদুর রশিদ, আবদুল জলিল খান কালাম, হাসিনা আকরাম, অ্যাডভোকেট ফজলে হালিম লিটন, এসএম আরিফুর রহমান মিঠু প্রমুখ। এর আগে হামলার প্রতিবাদে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, পুলিশের বাধার মুখে মুন্সীগঞ্জে গতকাল মানববìধন কর্মসূচি পালন করতে পারেনি বিএনপি। ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনের লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জ বিএনপি নেতাকর্মীরা শহরের থানারপুলস্খ দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হয়। এ সময় পুলিশ বাধা দেয়ায় মানববìধন করতে দলীয় কার্যালয় থেকে বের হতে পারেনি বিএনপি নেতাকর্মীরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে মানববìধন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। মানববìধন উপলক্ষে বেলা ১১টায় পুলিশ শহরের মৌলভীপাড়ায় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশিদের বাসভবনের সামনে অবস্খান নেয় এবং বাড়িটি অবরুদ্ধ করে রাখে। দুপুর ১২টায় হারুন-আল-রশিদের বাসভবন থেকে বাধা উপেক্ষা করে দলীয় নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে পৌর সুপার মার্কেটের সামনে এসে স্খানীয় পুরনো কোর্ট এলাকার টিএ রোডে হাতে হাত ধরে দাঁড়ান। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশসহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হামিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএনপি’র মানববìধনে বাধা দেয় ও লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। পুলিশের তীব্র বাধার মুখে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা কিছুটা পিছিয়ে এসে পৌর আধুনিক সুপার মার্কেট চত্বরে মানববìধন করে।

নয়া দিগন্ত, Thu 8 Jul 2010

কম্পিউটারে নিজের তথ্যগুলো কিভাবে লুকিয়ে রাখবেন

কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজস্ব গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা অনেক সময় জরুরি হয়ে পড়ে। কম্পিউটারে নিজের তথ্যগুলো বিভিন্ন উপায়ে লুকিয়ে রাখা যায়। চাইলেনিজের তথ্যগুলো কোনো একটা ছবিতেই লুকিয়ে রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল জিপ করে একটি ছবির (ইমেজ) মধ্যে লুকিয়ে রাখুন। এ জন্য শুরুতে ফাইলটি জিপ করে নিন। এ ক্ষেত্রে উইনজিপ, উইনরার ইত্যাদি সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। ফাইলটি zip, rar, 7-zip সুবিধা অনুযায়ী ফরম্যাটে করে নিন।
শুরুতে আপনার জিপ করা ফাইল একটি নামে সেইভ করুন। যদি ফাইলের নাম file.zip হয় এবং যে ছবির সঙ্গে যুক্ত করতে চান সেই ফাইলের নাম photo.jpg হয়, তবে ফাইল দুটি একটি নির্দিষ্ট ফোল্ডারে রাখুন। এবার Start\Run-এ গিয়ে cmd লিখে Ok করুন এবং নির্দিষ্ট ফোল্ডারে ঢুকুন। এবার copy/b photo.jpg+file.zip my.jpg লিখে এন্টার করলে একই ফোল্ডারে my.jpg নামে নতুন একটি ছবির ফাইল তৈরি হবে। ওই ফাইলটি খুললে দেখা যাবে photo.jpg নামে একটি ছবি আছে। তবে কোনোভাবেই file.zip ফাইল বা zip ফাইলের ভেতরের কোনো তথ্য/ফাইল দেখা যাবে না। স্বাভাবিকভাবে এই my.jpg ছবিটি কেউ দেখলেও এর মাঝে থাকা কোনো তথ্য দেখতে পাবে না। প্রয়োজনে ওই ফাইলটি পেতে my.jpg ফাইলটি আনজিপ করলেই আপনার তথ্য/ফাইল খুঁজে পাবেন।

Wednesday, July 07, 2010

সু-খবর সু-খবর সু-খবরঃ মজিলার ক্যাম্পাস সংস্করণ বের হয়েছে



জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার মজিলা ফায়ারফক্সের রয়েছে একটি বিশেষ ক্যাম্পাস সংস্করণ। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কথা বিবেচনা করেই এই সংস্করণটি বাজারে ছাড়ে মজিলা ফায়ারফক্স। মজিলা ক্যাম্পাস সংস্করণের উল্লেখযোগ্য কিছু ফিচার নিয়ে আজ আলোচনা করা হলো।

স্টামবিলপন : সাধারণত আগ্রহের বিষয়বস্তুর ওপর কোনো ওয়েবসাইট খুঁজে পেতে ইন্টারনেটের বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনের সাহায্য নেই আমরা। অনেক সময় দেখা যায়, সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে মানসম্পন্ন ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয় না। ফায়ারফক্স ক্যাম্পাস সংস্করণে রয়েছে দরকারি ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়ার এক অসাধারণ টুল। টুলটির নাম stumpleupon। এই টুলটির মাধ্যমে খুব সহজেই খুঁজে বের করা যাবে আগ্রহের বিষয়বস্তুর ওপর অসাধারণ সব ওয়েবসাইট। stumpleupon মজিলা ফায়ারফক্সে পাশাপাশি ইন্টারনেট এঙ্প্লোরারেও ব্যবহার করা যাবে। stumpleupon ডাউনলোড এবং এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে ক্লিক করুন_http:// www.stumpleupon.com

ফক্সিটিউন : বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রীই কম্পিউটারে কাজ করা বা ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের সময় গান শুনতে পছন্দ করেন। তাদের জন্য মজিলা ফায়ারফক্সে ক্যাম্পাস সংস্করণে রয়েছে foxytunes. এতে বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া প্লেয়ার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আপনাকে গানের লিরিক, অ্যালবামের প্রচ্ছদ, ভিডিও ইত্যাদি খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। foxytunes এর মাধ্যমে প্রায় চলিলশটির বেশি মিডিয়া প্লেয়ার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার, আইটিউনস, রিয়েল প্লেয়ার, মিউজিক জুকবক্স, উইন্যাম্প, ইয়াহু মিউজিক জুকবক্স, জেট অডিও ইত্যাদি।

ফায়ারফক্সের পাশাপাশি ইন্টারনেট এঙ্প্লোরারেও ফক্সিটিউনস ব্যবহার করা যাবে। foxytunes এর ডাউনলোড এবং এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে ক্লিক করুন : http://www.foxytunes.com

জোটিরো : তথ্য খোঁজার ব্যাপারে সহায়তা করার জন্য ফায়ারফক্সে ক্যাম্পাস সংস্করণে রয়েছে zotero ফিচার। এই zotero ফিচারটি ইন্টারনেট দুনিয়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষণা সহায়ক টুল হিসেবেই বেশি পরিচিত।

গবেষণা সহায়ক তথ্য খুঁজে পেতে এই সফটওয়্যার টুলটি অসাধারণ। এর মাধ্যমে খুব সহজেই ইন্টারনেট থেকে গবেষণা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য (লেখা, ওয়েবপেইজ কিংবা ছবি) খুঁজে বের করে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য তা zotero লাইব্রেরিতে সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখতে পারবেন। zotero -এর নির্মাতা হচ্ছে জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর হিস্টোরি এন্ড নিউ মিডিয়া। জোটিরো ইনস্টল করতে আপনার কম্পিউটারে নূ্যনতম ফায়ারফক্স ২ সংস্করণ থাকতে হবে। এর আগের সংস্করণগুলোতে zotero ব্যবহার করা যাবে না। জোটিরো ডাউনলোড এবং এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন : http://www.zotero.org

বিরাট খবর !!!

ছাত্রলীগের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রমে ক্ষুব্ধ হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় সরকাররের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করায় ক্ষোভ জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, সে বিষয়ে আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে গতকাল প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন। আজকালের মধ্যে আ’লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন বা সব কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এদিকে সৈয়দ আশরাফ গতকাল ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরে আ’লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গেও ওই বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ওরা এসব কী করছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী গত সোমবার রাতেই বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনার সংবাদ দেখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের নামে ছাত্রশিবির বা ছাত্রদল যাতে কোন ধরনের সহিংস ঘটনা না ঘটাতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকারও নির্দেশনা দেন। জামায়ত নেতাদের আটক করায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হওয়ার আশংকা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক টুকু বলেছেন, শিক্ষাঙ্গণে অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে একটি মহল নানারকম ষড়যন্ত্র করছে। সহিংসতা সৃষ্টির জন্য অনেকে নানাভাবে অর্থ সরবরাহ করছেও বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, প্রশাসনকে সজাগ থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. আআমস আরেফিন সিদ্দিকসহ শিক্ষকদের আট সদস্যের প্রতিনিধিদল গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বলেছেন একটি মহল ঢাবিসহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অস্থিতিশীল করে তোলার পরিকল্পনা করেছে। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র বা সংগঠনের পরিচয়ে যারাই শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি জড়িতদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দিতে হবে।

Tuesday, July 06, 2010

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষঃ আসলে এটা কোন ঘটনাই না!

আপনারা কি আজ ‘নয়াদিগন্ত’ খবরের কাগজ পড়েছেন?

না পড়ে থাকলে খুব ভালো কথা! এইটা ১টা ফালতু পত্রিকা! আরে বাপ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের নিজেদের মধ্যে কিঞ্ছিৎ ঝামেলা না হয় হয়েছেই, তাই বলে কি এই খবরটা ছাপতে হবে নাকি? ভাই, আপনারাই বলেন, আজাইরা না?

যেহেতু আমরা এখন ক্ষমতায়, হালকা-পাতলা দাপট না হয় দেখালামই আমরা, তাই বলে কি সব কিছু জনগনের জানার দরকার আছে? আমাদের নামে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আমরা নাকি ভি.সি. এবং প্রক্টরকে লাঞ্চিত করেছি। আজব! আমরা জাস্ট উনাদেরকে গালিগালাজ করেছি আর কলার ধরে জুনিয়র পোলাপাইনেরা ২/১টা চর/থাপ্পর দিয়েছে। আরে ভাই, ওরা তো জুনিয়র, তাই বোঝে নাই। তাহলে এতে লাঞ্চনার কি হল?

ভাই, ঘটনা আসলে কিছুই না। আমাদের ২টা গ্রুপের নিজেদের মধ্যে একটু ঝামেলা আছে (এটা আর এমন কি? সব দলেরই এরকম একটু-আধটু থাকে!), আমরা ২ গ্রুপই মনে করেন টুকটাক একটু আধিপত্য বিস্তার-টিস্তার করতে চাই আর কি। এটা আর এমন কি? হতেই পারে এমনটা, তাই না? তো এই নিয়েই মনে করেন হালকা-পাতলা একটু মারামারি, কোপাকুপি। পোলাপাইনেরা অবশ্য ডাক্তার, নার্স কাউকেই ছাড়ে নি। আসলে ভাই কোপ শুরু হলে কি আর মনে থাকে যে সামনে কে আছে? মাথা কি ঠান্ডা রাখা যায়? যায় না। এই তো ঘটনা, এ আর এমন কি?

কিন্তু ভাই দেখেন, ‘নয়াদিগন্ত’ কি কাজটাই না করল! এই দিক দিয়ে আমাদের ‘প্রথম আলো’ খুব ভাল। কিছু ছাপানোর আগে ওরা আমাদের জিজ্ঞাসা করে নেয়!

যাই হোক, খবদ্দার ‘নয়াদিগন্ত’ পড়বেন না! আমি নিচে link দিচ্ছি, সবাইকে বলে দিয়েন যেন কেউ এসব না পড়ে, কেমন?

http://www.dailynayadiganta.com/fullnews.asp?News_ID=220356&sec=1