Friday, July 16, 2010

জামায়াত নেতাদের গ্রেফতার ও গণমাধ্যমের প্রত্যাশিত ভূমিকা

জামায়াত নেতাদের গ্রেফতার ঘটনায় পত্রপত্রিকার অবস্থা ও অবস্থান দেখে অবাক লাগছিলো। তাই কিছুমিছু একটা লিখে সোনারবাংলাদেশ আর নয়াদিগন্তে পাঠিয়েছিলাম। কয়েকদিনে সেখানে ছাপা না হওয়ায় পরে তা সেরীন ফেরদৌস আর শওকত আলী সাগরের অনলাইন পত্রিকা (কানাডা থেকে প্রকাশিত) নতুনদেশে মেইল করেছিলাম। লেখালেখির অভিজ্ঞতা না থাকাতে জানি না একই লেখা কয়েক জায়গায় পাঠানো এথিকালি ঠিক কি না। একাডেমিক জার্ণাল হলে ঠিক না, কিন্তু এটা তো পাবলিক মিডিয়া। যাইহোক, আজ দেখলাম নতুনদেশ এটা প্রকাশ করেছে। তাদেরকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ।

এটা অবশ্য ব্লগ হিসেবে পড়তে মজাদার হবে বলে মনে হচ্ছে না। আমার টুকটাক লেখালেখির অভ্যাসটা একটু অন্যরকম। একটানে লিখে ফেলি, কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও পরে এডিট করার জন্য পড়তে মন চায় না। এটা বদলানো দরকার। এখন আবার পড়ে মনে হচ্ছে একটু ভারী ভারী হয়ে গেছে। আরেকটু সহজ হলে ভালো হতো। যাইহোক, এখানেও জমা করে রাখি। শুরু-

-------------------

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতাদেরকে গ্রেফতার এবং দীর্ঘ সময় রিমান্ডের ঘটনায় সাধারণ জনগণ, রাজনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের বিভিন্ন রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ আনন্দিত, কেউ দু:খিত আবার অনেকেই নির্বিকার। এর মাঝে গণমাধ্যম, বিশেষ করে পত্রিকাগুলোর প্রতিক্রিয়া সচেতন পাঠকরা খেয়াল করেছে। নিরপেক্ষ সৎ সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা একটি ন্যায়পরায়ন সমাজ কাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে অনেকেই কিছুটা হতচকিত, জাতির বিবেক নামে অভিহিত সাংবাদিকদের কাছ থেকে যে নিরপেক্ষতা আশা করা হয়, তা উপেক্ষা করে কেউ কেউ যেন রাখঢাক ছাড়াই পক্ষপাতমূলক প্রচারে নেমে পড়েছেন।

পত্রিকায় কোন ঘটনার নিরপেক্ষ খবর থাকাটা প্রত্যাশিত। কিন্তু জামায়াত নেতাদের গ্রেফতারের পর অনেকে বর্ণনামূলক প্রতিবেদনের সিরিজ প্রকাশ করে চলেছেন, যার পরোক্ষ কিন্তু মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ জনগণের চিন্তা ও মতামতকে প্রভাবিত করা। পুলিশের হাজতখানায়, জেলখানায় এবং রিমান্ডে কি হচ্ছে তার রসালো বর্ণনা দেখা যাচ্ছে অনেক পত্রিকায়।

অপপ্রচার এবং ভিকটিমদের চরিত্রহননের এ উপায় উদ্ভাবন করেছিলো এক এগারো পরবর্তী সরকার। জনসাধারণের মতামতকে প্রভাবিত করার জন্য এবং মনযোগ সরিয়ে রাখার জন্য সে সময় রাজনীতিবিদদের স্বীকারোক্তি আর রগরগে কাহিনী প্রচার করা হতো পত্রিকাগুলোতে। পুলিশের হেফাজতে থানাহাজত বা রিমান্ডে কি হয়, তা যেমন সংবিধানসম্মত মানবিক হওয়া উচিত, একই সাথে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তার গোপনীয়তাও দরকারী। কিন্তু আদালতে বিচারের আগেই গণমাধ্যমে বিচার কাজ সেরে ফেলার জন্য পুলিশ-সাংবাদিকের সখ্যতার সুচনা করেছিলো ঐ সরকার। নির্বাচিত সরকারের সুযোগ ছিলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার, কিন্তু সেই পুরনো খারাপ নজীর বর্তমান সরকারও যেন অনুসরণ করে চলেছে। বরং তা এক কাঠি আগে বেড়ে আরো সরেস হয়েছে।

গত কয়েকদিনের রিপোর্ট গুলো পর্যালোচনা করলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পত্রিকাগুলোতে যে অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হচ্ছে পরদিন জিজ্ঞাসাবাদে সে প্রসঙ্গে পুলিশ জোর দিচ্ছে। জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খানের একটা স্বাভাবিক বক্তব্যকে বিকৃত করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যে প্রপাগান্ডার বন্যা শুরু হয়েছিলো, এখনো অনেক পত্রিকা সে প্রচারের ধারা থেকে বের হয়ে নিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

বিভিন্ন পত্রিকায় একটা ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যেখানে পুলিশ অফিসারের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, থানাহাজতে একজন খুনের আসামী আলী আহসান মুজাহিদকে গালিগালাজ করছেন, মুজাহিদও তার সাথে পাল্টা ঝগড়া করছেন। প্রতিবেদনের ভাষা এবং ভঙ্গিতে একজন সাধারণ পাঠকের মনে হতে পারে, জামায়াত নেতারা এতই ঘৃণিত যে কুখ্যাত অপরাধীরা তাদের চেয়ে ভালো মানুষ। মাওলানা সাঈদীর সাথে কেউ থাকতে অস্বীকার করাতে তাকে মহিলা হাজতখানার খালি কক্ষে রাখতে হয়েছে, এমন খবরও পত্রিকায় এসেছে। এর কদিন পরে আরেকটি রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে, যেখানে মাওলানা নিজামীর পেছনে নামায পড়তে অস্বীকৃতি জানিয়ে এক কয়েদী জেএমবি সদস্য কি কি গালিগালাজ করেছে তার বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রথমত, রাজনৈতিক দলের নেতারা সাধারণত অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা আর জনপ্রিয়তার পর নেতৃত্বের পর্যায়ে যান। তারা ভালোভাবে জানেন, সাধারণ মানুষের সাথে কিভাবে ব্যাবহার করতে হয়। তদুপরি, একটি আদর্শবাদী দলের নেতাদেরকে আরো উন্নত চরিত্রের হতে হয়। ইতিহাসে অনেক উদাহরণ আছে একজন ভালো মুসলিমের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখে অন্যায়কারী মানুষের বদলে যাওয়ার। ইসলাম চর্চাকারী এবং ইসলামী দলের নেতা পর্যায়ের এমন মানুষরা হাজতখানায় সমাজের অপরাধী অংশের সাথে হাতাহাতি ঝগড়া করছেন, এমনটা শুনলে একটু খটকা লাগে।

এ ধরণের বর্ণনামুলক খবরগুলো কয়েকটি পত্রিকায় একসাথে পড়লে কয়েকটা বিষয় চোখে পড়ে। কখনো কখনো দুই তিনটি পত্রিকার রিপোর্ট দেখা যায় হুবহু একই রকম, একই লেখা একের অধিক পত্রিকায় আসে। তখন পাঠকের এটা ধারণা করার যথেষ্ট অবকাশ থাকে যে এটা একটা সিন্ডিকেটেড প্রচারণা। আবার কখনো কখনো এর উল্টোটা ঘটে। যেমন হাজতখানায় নামাযে মাওলানা নিজামীর ইমামতি প্রসঙ্গে দুটি স্বনামধন্য পত্রিকার রিপোর্টে সম্পুর্ণ বিপরীত ঘটনা লেখা হয়েছে।

ছয় জুলাই জনকণ্ঠ রিপোর্ট করে,দাগী অপরাধী হাজতিরা কেউ জামায়াত নেতাদের পিছনে নামায পড়তে রাজি হয়নি। কেবলমাত্র জঙ্গী সংগঠন জেএমবির উঁচু পর্যায়ের নেতা সৈকত তাদের পেছনে নামায পড়তে রাজি হয়েছে। এ প্রতিবেদনে মাধ্যমে পাঠকের মনে যে বার্তা পৌছে তা হলো জামায়াত যারা করেন তারা এতই খারাপ যে তাদের পেছনে নামায পড়তেও সাধারণ মুসলিমরা আপত্তি জানাচ্ছেন। একইসাথে জামায়াতের সাথে জঙ্গী সন্ত্রাসী সংগঠন জেএমবির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে পর্দার আড়ালে, যা বুঝা যায় জেএমবি সদস্যদের তাদের সাথে একসাথে নামায পড়ার ঘটনাতে।

একই দিনে সমকাল রিপোর্ট করে, জেএমবি সদস্য সৈকত জামায়াত নেতা নিজামীর ইমামতিতে নামায পড়তে রাজি হয়নি। অন্য আসামীরা তাঁর সাথে নামাযে দাড়ালেও সৈকত তাকে ভন্ড ক্ষমতালোভী আখ্যা দিয়ে আলাদা নামায পড়ে। এখানে দেখা যায়, অপরাধী হাজতিরা মাওলানা নিজামীর সংস্পর্শে এসে নামায পড়ছেন। উপরন্তু, জামায়াত এবং জেএমবির আদশর্গত মৌলিক বিরোধ প্রকাশ করেছে এ বর্ণনাটি। দুটি ঘটনার যে কোন একটা সত্য হবে, একই সাথে এ দুটি ঘটনা সত্য হতে পারেনা।

তবে প্রতিবেদন দুটি সম্পুর্ণ বিপরীতধর্মী হলেও একটি বার্তা দুই প্রতিবেদনেই আছে। ঘটনাগুলো পড়ে পাঠক মনে করতে পারেন, বাংলাদেশের হাজতগুলো যেন এক একটি মসজিদ, হাজতিরা নিয়মিত ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল হয়ে হাজতে দিন কাটায়। এমন পরিবেশে যেখানে নিয়মিত নামায পড়তে পড়তে অপরাধী হাজতিরা পুণ্যের থলে ভারি করে ফেলছেন, তারা কুখ্যাত জামায়াত নেতাদের সাথে নামায পড়ে গুনাহগার হতে চাননি, বরং তাদের ইবাদতের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য পুলিশী হাজতে বসেও বয়কটে ঝাপিয়ে পড়েছেন। সেলুকাস, কি বিচিত্র অবস্থা।

এভাবে গণমাধ্যমগুলোর নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন, বিরোধী দল সংশ্লিষ্ট প্রায় প্রতিটি ঘটনায়। জামায়াত নেতারা গ্রেফতার হবার পরপরই খবর পরিবেশনের সময় একটি সংবাদমাধ্যমের ভাষা ছিলো বিকালে মহানগর মুখ্য হাকিম আদালত এক আদেশের পর মৌলবাদী রাজনৈতিক দলটির আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও নায়েবে আমির মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। জামায়াতে ইসলামী একটি বৈধ রাজনৈতিক দল। এভাবে কি সংবাদমাধ্যমগুলো প্রচলিত অন্য কোন রাজনৈতিক দলকে অভিহিত করে বা করবে? এধরণের ভাষার মাধ্যমে পাঠকদের মতকে ধীরে ধীরে প্রভাবিত করা হয়, একপর্যায়ে গিয়ে অবৈধ কোন কাজকেও পাঠক আর অস্বাভাবিক মনে করেনা। কিন্তু জাতির বিবেক গণমাধ্যমগুলো যদি এমন পক্ষপাতি ভূমিকা পালন করে, তাহলে কোন ধরণের অন্যায়ের শিকার একপক্ষের জন্য তা হবে মর্মান্তিক, এবং সামষ্টিক ভাবে দেশে সুবিচার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার বিরাট অন্তরায়।

এ ধরণের প্রচারণার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনগণের মনন-চিন্তায় ঘৃণার বিষ ঢুকিয়ে দেয়া। যে উদ্দেশ্য সাধনের বড় অস্ত্র হলো অপপ্রচার এবং আমরা তা আমাদের গণমাধ্যম থেকে আশা করিনা। জামায়াত নেতাদেরকে হাজতী অপরাধীরা ঘৃণা করেন এ কথা একজন পাঠকের অবচেতনে থেকে যাবে। নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার নীতি লংঘন করে অপপ্রচারের জন্য কেউ শাস্তি পাবেনা, কিন্তু ভিকটিম জামায়াত নেতাদের যে মানহানি হলো, তারও কোন প্রতিকার হবে না। চিন্তার বিষয় হলো, কোন অন্যায়ের প্রতিকার না করে যদি ক্রমাগত লালন করা হতে থাকে, সে অন্যায়ের স্বীকার ভবিষ্যতে প্রশ্রয়দানকারীরাও হন, ইতিহাসে এর অনেক উদাহরণ দেখা যায়।

বাংলাদেশ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একটি ক্রান্তিকাল পেরোচ্ছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখনও অনেক দূরের লক্ষ্য বলে মনে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের পক্ষপাত যেমন ভয়ংকর ক্ষতিকর হয়ে দাড়াবে, পক্ষান্তরে তাদের দায়িত্বশীল ভুমিকা দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মৌলিক একটি নিয়ামক হতে পারে।

http://www.notundesh.com/motmotantor_news4.html

Thursday, July 15, 2010

আল্লাহ তায়ালা বেকুবদেরকে সাধারণত সাহায্য করেন না, এটা সুন্নাতুল্লাহ/ পার্থিব বিষয়ে আল্লাহর কর্মপদ্ধতি


ধরা যাক, বিম্পি-জামাত সরকার ক্ষমতায়। চরম ফ্যাসিবাদী গ্রেফতার চলছে। মনে করলাম, তোফায়েল আর নাসিম গ্রেফতার হলেন। গ্রেফতারের পর উনাদেরকে যখন আদালতে আনা হলো শুনানির জন্য। দুজনেই বয়স্ক, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য বার্ধক্যজনিত রোগের নিয়মিত ঔষধ খেতে হয়। ঔষধগুলো দিতে আদালতে গেলেন তোফায়েল আর নাসিমের ছেলে এবং জামাতারা।

এটা ন্যুনতম মানবাধিকার। যত বড় অপরাধীই হোক, এটা প্রাপ্য। কিন্তু এমন সময় যদি পুলিশ ঐ ছেলে আর জামাতাদের গ্রেফতার করে, তা কেমন হয়? অভিযোগ কি? আদালত প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি। বুঝাই যায়।তারপর মামলা, রিমান্ড, জেল। মেসেজটা পরিস্কার, জিরো টলারেন্স। কোন নীতি নৈতিকতা মানবিকতার তোয়াক্কা করি না। এমনকি কোন অজুহাতেরও দরকার নেই, সমূলে উচ্ছেদ করা হবে।

পরদিন আলুকালু পত্রিকায় বক্স করে দুই জন পুত্রধন, সদ্য তরুণ ছাত্রের অসহায় চাহনির ছবি আর হৃদয়বিদারী বর্ণনা। জামাতা বেচারা ভার্সিটির শিক্ষক, তার ছবি ও ঘটনা। শিরোনাম হবে, 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আদালত প্রাঙ্গণে মানবাধিকারকে ধর্ষণ করতে পারলেন?'

ালের কন্ঠ পত্রিকায় ছাপবে গল্প রিপোর্ট, পেছনের ঘটনা, বেচারাদের পড়ালেখার কি ক্ষতি হলো, তাদের ডার্লিং রা কিভাবে বেইলী রোডে কানতেছে সেই আবেগ টসটসে টমেটো বয়ান। পাবলিক পড়ে কানতে কানতে নিউজপ্রিন্ট ভিজায় ফেলবে।

ভন্ডকাল চেষ্টা করবে ব্যাতিক্রমী ষ্টাইলে অন্যদেরকে টেক্কা দেবার। কোন একজনের বউ এর সাক্ষাতকার দিবে। স্বামী যখন রাজনীতিতে ব্যস্ত তখন তিনি কত কষ্ট করে একাকী পুত্রধনকে বড় করেছেন তার কাহানী ঘর্ঘর কি। পোলার রুমের ছবি, দেয়ালে চে গুয়েভারার পোষ্টার লাগানো, একপাশে গিটার আরেকপাশে বই আর বই। হায় জাতি কোথায় গেলো, এমন পোলারে পুলিশ আপসেআপ ধরে টর্চার করতেসে।

গাদ্দার চোদরীর কলাম পরেরদিনই ছাপা হবে জঘন্যকণ্ঠে। হিটলার কিভাবে ভনফরগার্ডের পরিবারের উপর আর ষ্টালিন কিভাবে ট্রটস্কির পরিবারের উপর নির্যাতন করেছিলো তার কাহানী পড়ে পাবলিকের সেইদিন প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার পর অতিরিক্ত পানি লাগবে না। অশ্রু দিয়েই কাজ সেরে ফেলা যাবে।

গতকাল জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লা এবং কামারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদেরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্যায় অবিচারের সীমা নেই, দমননীতিই আসল কথা। লীগ সমর্থক বিডিনিউজ২৪ পড়ে জানলাম। দিনকালের কাছে আশা করি না। সংগ্রাম আর নয়াদিগন্ত আঁতি পাঁতি করে খুঁজেও বক্স আইটেম দূরের কথা, নিউজই পেলাম না।

বিডিনিউজের খবর
http://bdnews24.com/bangla/details.php?id=131397&cid=3

মনে পড়লো, রাজনীতিতে ন্যায় অন্যায় আড়াল হয়ে যায় প্রপাগান্ডার আড়ালে। ন্যায়ের পক্ষের লোকদেরও অন্তত মানুষকে জানাতে হয় নিজেদের কথাগুলো, গণমাধ্যমের এটাই গুরুত্ব। আর ভুদাইরা এসেছে রাজনীতিতে, এসেছে পত্রিকা বের করতে। ালের কণ্ঠ আর আলুকালুর হলদে সাংবাদিকদের জুতা বহনের যোগ্যতাও নেই এগুলার। আজ থেকে বাসায় জঘন্যকণ্ঠ রাখলে কেমন হবে ভাবছি, সারভাইভাল ফর দ্য ফিটেষ্ট। মেধা আর যোগ্যতা বাদ দিলে তেলানি তোষামোদী বলদমার্কা আনুগত্য সম্বল করলে এমনই হয়। আল্লাহ নিশ্চয় বেকুবদেরকে সাহায্য করেন না। হে আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে বেকুব বানাবেন না অনুগ্রহ করে

তিষা- ফারুকী যখন থার্ড পরসন! মানে সিংগেল!





Wednesday, July 14, 2010

ইন্টারনেট এবং ব্লগিং এনে দিতে পারে ইসলামী দাওয়াতী কাজের এক অনন্য সুযোগ

বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলামের যৌবনের গান প্রবন্ধটি আধুনিকতার এই যুগেও আমাকে প্রবল ভাবে নাড়া দেয়। আসলে ঐ প্রবন্ধটি কোন লেখা প্রবন্ধ নয়। সে সময়কার মুসলিম যুবকদের উদ্দেশ্য করে এটি ছিল তার দেয়া এক যুগান্তকারি ভাষন। সেই ভাষনটিই পরবর্তীতে আমাদের কলেজের বাংলা পাঠ্য বইয়ে একটি প্রবন্ধ আকারে পড়ানো হতো। তার সেই ভাষনে তিনি যৌবনকে যেভাবে সংগায়ীত করেছিলেন তাতে আজও বোধকরি মানুষের চোখ কপালে উঠে যাবার যোগাড়। যৌবনের পাশাপাশি তিনি বার্ধক্যের চেহারাও উন্মোচন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন বার্ধক্য বা যৌবন কোনটাই বয়সের ফ্রেমে বেধে রাখার মত জিনিস নয়। স্বল্প বয়সি একজন যুবকও বার্ধক্যের জরাযির্ন খোলসে আটকা পড়ে যেতে পারে আবার সত্তরের একজন বৃদ্ধও হতে পারেন যৌবনের তাগড়া ঘোড়ার সওয়ারী। যৌবন কখনও নবাগতের আগমনে ভড়কে যায় না, নতুন কে জয় করে নিয়েই তার পরিতৃপ্তি। অন্যদিকে বার্ধক্য সর্বদাই পুরাতনে আঁকড়ে থাকে, পরিবর্তনের ভয়ে সে সদা সংকিত। কবির কথা গুলোকে পুঁজি করে আমি আজ পার্থক্য করতে পারি কে বার্ধ্যক্যের রোগে আক্রান্ত আর কে যৌবনের ঢেউয়ের মিত্র। আমাদের মুসলিম সমাজে যারা ধার্মিক এবং যারা ধর্ম তথা মানব জীবনের পরিপুর্ন রুপরেখা ইসলামকে সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট তারা কেন জানি বার বার বার্ধ্যক্যের খুপরিতে আছড়ে পড়েন। তাদের অধিকাংশই নতুনের সাথে মিতালিতে হয়তো অপরাগ নয়তো নারাজ। এদের মধ্যে যারা নতুন কে নিজেদের মত করে জয় করে নেয়ার প্রয়োজনটি অনুভব করেন, তারাও বড্ড বেশী দেরি করেই তা অনুভব করেন। এটাকে আমি আপাতত তাদের খামখেয়ালিপনা বা এক ঘুয়েমিই বলবো। আর যুগে যুগে তাদের এই খামখেয়ালিপনা বা এক ঘুয়েমিই আমাদের কে জাত শুদ্ধ হাজার বছর পিছিয়ে দিয়েছে।

ভারতীয় উপমহাদেশে যখন ইংরেজরা এল তখন এ তল্লাটের শিক্ষা দিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি হয়ে গেল। তখন আমাদের আমেল ওলামা গন ইংরেজি শিক্ষাকে হারাম ঘোষনা করে মুসলিম উম্মাহ কে সহস্র বছর দূরে ঠেলে দিয়েছিলেন। আর অন্যদিকে জাত কুলহীন হিন্দুরা ইংরেজি শিক্ষাকে মেনে নিয়ে চলে গেল চালকের আসনে। তখনকার ওলামাগন কি জানতেন না যে একজন মুসলিম শিশুর জন্য সর্বোত্তম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটা হল তার মায়ের কোল? তারা হয়তো অসম্ভব কেতাবি জ্ঞানের জ্ঞানী ছিলেন, এবং সুশিক্ষিতও ছিলেন, কিন্তু তারা কতটা স্বশিক্ষিত এবং সুদুর প্রসারি দৃষ্টির অধীকারি ছিলেন তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ থাকার অবকাশ আছে। তা না হলে মেয়েদের সু শিক্ষিত করার ব্যপারে প্রায় সমগ্র মুসলিম সমাজের যে উদাশীনতা তখন ছিল তার ব্যক্ষা কি দাঁড়াবে? এখানে পরিষ্কার করে বলে রাখা ভালো যে আমি সকল আলেম ওলামাদের কে ঢালাও ভাবে এক কাতারে রাখছি না। ব্যতিক্রম তো অবশ্যই ছিলো কিন্তু ব্যতিক্রম তো সর্বদাই ব্যতিক্রম। সমালোচনার ধাক্কা সামলাতেই তার কার্যকারিতা হারিয়ে যায় বেশ খানেক।
কথায় আছে চোর গেলে বুদ্ধি বাড়ে, আমাদেরও ভালোই বুদ্ধি বেড়েছে, তবে সেটা চোর চলে যাবার পরে, আগে নয়। আমরা এখন ইংরেজি পড়ি, ইংরেজি বলি, ইংরেজিতে শিক্ষিতও হই। শুধু তাই নয় আধুনিক কালের ইসলামিক গবেষনাগুলো আমরা ঐ হারাম ভাষা ইংরেজিতেই করছি। চৌদ্দশত বছর আগে অহির দরজা বন্ধ হয়ে যাবার পরে অহি ছাড়াই কিভাবে ইংরেজি হারাম থেকে হালালে পরিনত হল তা আমার বুঝে আসে না। এবং এই হালালিকরনটা কেন প্রাথমিক পর্যায়েই হলনা তাও আমি বুঝি না। তবে এই ইতিহাস থেকে এটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে আমাদের মধ্যে যারা নতুন কে নিজেদের মত করে জয় করে নেয়ার প্রয়োজনটি অনুভব করেন, তারা বড্ড বেশী দেরি করেই তা অনুভব করেন।

এর পর এল টিভি, ঐ বক্সের সামনে দাঁড়ানো যে একসময় মোটেই হালাল ছিলো না তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন নাস্তিক পন্থি মিডিয়ার তুমুল মিথ্যে প্রপাগান্ডার জবাব দিতে আমরা ইসলামিক টিভি চ্যানেল খুলে বসেছি। এভাবে অনেক হারাম এখন হালাল হয়েছে। তবে সেটা এমন নয় যে নিরেট হারাম কে হালালে পরিনত করা হয়েছে। যেটা করা হয়েছে সেটা হল বিভিন্ন নতুন আবিষ্কারকে প্রথমে হারাম বলে দূরে ঠেলে দেয়া হয়েছে, পরে আবার সেই দূরে ঠেলে দেয়া জিনিসটিকে ভালোকাজে ব্যবহারের উপযুক্ত বলে বুঝে উঠার পর গ্রহন করেন নেয়া হয়েছে। কিন্তু এই বুঝে উঠার মাঝখানে সময় নেয়া হয়েছে অনেক অনেক যুগের। সে সময়ের মধ্যে ধংশের তলানিতে পৌছেছে পুরো উম্মত।

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের ছড়াছড়ি পৃথীবির আনাচে কানাচে। যুবসমাজ অগনিত মুল্যবান সময় নষ্ট করছে এই ইন্টারনেটে। ব্লগিং, গুগলিং, ইউটিউব, টুইটারিং, চ্যাটিং, ফেসবুকিং, ফ্রেন্ডস্টার, হাই ফাইভ, ইমেইল, উইকিপিডিয়া, আপ্লোডিং এবং ডাউন লোডিং এগুলো নিয়েই চলছে কিশোর যুবক এমনকি বৃদ্ধদেরও সারাটা দিন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন ছেলে-পেলে শুধুমাত্র বিনোদন করতে ইন্টারনেটে পড়ে থাকায় তাদের নৈতিক মানের অবনতি হচ্ছে। আর তাই ইসলামি আন্দোলনের সাথী ও বন্ধুদের এই সকল বেহুদা কাজ থেকে দূরে থেকে প্রচুর পরিমানে দাওয়াতি কাজ ও কোরান হাদীস অধ্যায়ন করা জরুরী। আমি তাদের সাথে মাত্র চার আনা একমত আর বাকি বারো আনাই অন্যমত।

আমি বরং বলতে চাই আমাদের দাওয়াতি কাজে অংশ গ্রহন কারী দল গুলোর বৃহদাংশের উচিৎ ইন্টার নেটে প্রচুর পরিমানে সময় দিয়ে বাংলাদেশের প্রক্ষাপটে ইসলামি রাজনীতি তথা ইসলামী আন্দোলনের ব্যপারে সুন্দর ও গঠন মুলক তথ্য উপাত্ত ছড়িয়ে দেয়া। কারন যে কেউ যখন এ ব্যপারে গুগলে বা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ দেয় তখন বিভিন্ন নেতি বাচক তথ্য উপাত্য এবং মিথ্যা ইনফরমেশন গুলো বেশি আসে। এর কারন হল, বাংলাদেশের বাম পন্থী ও সেকুলার আন্দোলনের কর্মীরা প্রায় কয়েক যুগ ধরে ইন্টারনেটে এসব তথ্যাদি আপ্লোড করে আসছে। আজ এমন সময়ে এই মিথ্যা ইনফরমেশনের পরিমান এত বেশী হয়ে দাড়িয়েছে যে আগামী বিশ বছরও যদি ওরা চুপ করে বসে থাকে আর আমরা যদি বিরামহীন ভাবে ইসলামের ব্যপারে সত্য ইনফরমেশন আপ্লোড করতে থাকি তাতেও তাদের কিঞ্চিৎ পরিমানও কোন সমস্যা হবে না। বরং আমরা এর পরও জোযন জোযন দূরে পড়ে থাকবো।
কিন্তু তাই বলে কি তারা থেমে আছে? না বরং তারা আরও তুমুল গতিতে এগিয়ে চলছে। ইন্টারনেটে বাংলায় যে কয়টা ব্লগ আছে তার নব্বই ভাগ ব্লগই নাস্তিক ও বাম পন্থীদের দ্বারা পরিচালিত। সেসকল ব্লগে যদি কেউ ইসলামি মুল্যবোধ নিয়ে কোন পোস্ট করেন তাহলে মুহুর্তের মধ্যেই মাইনাস রেটিং পড়তে থাকে। অসম্বভ অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজ চলতে থাকে। এমনকি তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) কে পর্যন্ত খারাপ ভাষায় গালী দিয়ে থাকে।

বিভিন্ন ব্লগে যখন কোন লেখক তার লেখা প্রকাশ করেন তখন তিনি তার প্রবন্ধটিকে বিভিন্ন পরিচিত একাধিক কমন নামে ট্যাগ করে থাকেন, (যেমনঃ গনতন্ত্র, বাংলাদেশ, দেশ, ইতিহাস, ৭১, একাত্তর, অর্থনীতি, ধর্ম, ইসলাম, জামায়াত, শিবির, বি এন পি, আলীগ এরকম যেসকল নামে আপনি আমি সাধারনত গুগলে সার্চ দিয়ে থাকি।) ফলে গুগল বা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিনে পৃথিবির যেকোন প্রান্ত থেকে যেকেউ সার্চ দিলেই ঐসব লেখা বা প্রবন্ধ সার্চ রেজাল্টে চলে আসে। এভাবে ট্যাগিং করে করে এতদিনে যিথেষ্ঠ পরিমানে মিথ্যা তথ্য আপ্লোড করা হয়ে গেছে। যেগুলোর বিপরীতে সদুত্তর সমৃদ্ধ কোন তথ্য নেই বললেই চলে।
এইসকল ব্লগে কিছু পরিমানে ইসলাম পন্থী লোকজনও লিখে থাকেন কিন্তু তারা জ্ঞানের দিক থেকে সবাই কাংখিত মানের নন। আবার এদের কে ব্লক বা ব্যান করার জন্য ব্লগের মডারেটর গন সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। কোনও একটি অযুহাত পেলেই তাকে সাথে সাথে ব্যান করা হয়। আর ব্যান করা মানেই এ যাবত কালে তিনি যত পোস্ট করেছেন তা মেইন সোর্স থেকে ডিলিট হয়ে যাওয়া। অপরদিকে অশ্লীল ও ইসলাম বিরোধী কোন পোস্ট বা পোস্ট দাতাকে সাধারনত ব্যান করা হয় না, তবে লোক চোখে ফেয়ার থাকার জন্য কিছু কিছু পদক্ষেপ তারা নিয়ে থাকেন যাতে লোকে তাদেরকে সন্দেহ করতে না পারে। এভাবেই ইন্টারনেট জগত দিনে দিনে আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিন একজ দুই জন নন হাজার হাজার ব্লগার ব্লগ লিখছেন আর ট্যাগ করছেন। প্রতি মিনিটে নতুন নতুন পোস্ট আসছে, লোকজন সেগুলো পড়ছে। তাই এখন আমাদের ইসলাম পন্থিদের নিজেদের প্রচুর পরিমানে পৃথক পৃথক ব্লগীয় প্লাট ফর্ম দরকার। আরও দরকার দাওয়াতের উদ্দেশ্যে বেশী বেশী ইণ্টারনেটে সময় দেয়া।
উইকিপিডিয়া এবং এনসাইকোপিডিয়া এই দুটি হল বিশ্ব বিখ্যাত ওয়েব সাইট যেখানে ইতিহাস, অর্থনিতি, সহ সকল বিষয়ে পর্যাপ্ত পরিমান তথ্য সমৃদ্ধ প্রবন্ধ দেয়া থাকে। পৃথীবির নির্ভর্যোগ্য সাইট গুলোর মধ্যে এ গুলোকে অন্যতম বলে মনে করা হয়। যে কোন ইন্টারনেট ইউজার এগুলো এডিট করতে পারেন এবং নতুন তথ্যের সংযোজন করতে পারেন। তবে অবশ্যই সেটা হতে হবে রেফারেন্স ভিত্তিক। এভাবে সবার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক বিশাল তথ্যভান্ডার নিমেশেই তৈরী হয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে পৃথীবির প্রায় সকল ভাষায় এই সাইট গুলো পাওয়া যায়। তাদের বাংলা বিভাগও আছে। কিন্তু তাদের বাংলা বিভাগে যারা কাজ করেন তারা সবাই চরম ভাবে সেক্যুলার ও বাম পন্থী। শুধু তাই নয় ইসলাম পন্থীদের এই সকল কাজে উপস্থিতি সম্পুর্ন শূণ্যের কোঠায়। যার কারনে একপাক্ষিক ভাবে শুধু বাম ও রামদের আদর্শের প্রতিফলনই সেখানে নগ্ন ভাবে ফুটে উঠে। তাই আমাদের উচিৎ বড় অংকের বাজেট নিয়ে ইসলাম পন্থিদেরকে এই সেক্টরে কাজে লাগানো।

আর্বানাইজেশনের এই যুগে তৈরী হচ্ছে বিশাল বিশাল অট্টালিকা। এক একটি অট্টালিকার এক একটি তলায় বাস করছে নিদেন পক্ষে চারটি করে ফ্যামেলি। নিরাপত্তার নামে সে সকল ফ্ল্যাটে প্রবেশ সম্পুর্নই দুরহ। প্রবেশের একমাত্র পথ হল যদি সেই অট্টালিকায় কোন পরিচিত কেউ থাকে। কিন্তু তাতেও লাভ নেই তেমন একটা। এক একটি ফ্ল্যাট যেন এক একটি দ্বীপ। কারও সাথে কারও যোগাযোগ নেই। তাই বাড়ী বাড়ী গিয়ে দরজায় কড়া নেড়ে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার সুযোগ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। লোক সংখ্যার বিচারে এই রকম একটি অট্টালিকা একটি গ্রামের মতন। যার অর্থ হল এরকম হাজার গ্রামে আমরা দাওয়াত নিয়ে যেতে পারছি না। এই সকল ঘরের সন্তানরা খুব একটা বাইরেও বের হয় না। তাদের মায়েরাও ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত নয় যে সন্তানকে ইসলাম শেখাবে। এ যেন দরজা বন্ধ একটি কারাগারে ওরা বন্ধী। অপরিচিত কেউ ঢোকার সাধ্য নেই। কিন্তু একটি জানালা খোলা আছে আর সেটা হল ইন্টারনেট। এই সকল ফ্যামিলির ছেলে মেয়েরা সারাদিন নেটে পড়ে থাকে। তাদের কাছে পৌছার এই একটাই পথ।

যে কারনে এই লেখার প্রথমেই কবি কাজি নজরুলের ঐতিহাসিক ভাষনের কথা টেনে এনেছিলাম, নতুন আবিষ্কারকে আর দূরে ঠেলে দেয়া নয় নতুনকে আমাদের নিজেদের মত করে জয় করে নেবার এখনই সময়। সামনে নতুন যা ই আসুক, প্রত্যাখ্যান নয় বরং জয় করে নেয়াই হোক আমাদের ব্রত। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ওরা আমাদের চরিত্র ধংশের কাজ করছে। ওরা সফল হচ্ছে কারন আমরা বসে আছি। আমাদের উচিৎ ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষকে ইসলামের দিকে আহবান করা তাইলেই কেবল ওদের সফলতার গতীতে বাধ দেয়া সম্ভব হবে।

Tuesday, July 13, 2010

কাদেরের পর কামারুজ্জামানও গ্রেপ্তার
Tue 13 Jul 2010 6:39 PM BdST

rtnnঢাকা, ১৩ জুলাই (আরটিএনএন ডটনেট)-- জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে একই এলাকা থেকে অপর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার দুটি মামলায় হাইকোর্টে জামিন নিতে আসলে পৃথক মামলায় বিকালের দিকে জামায়াতের এই শীর্ষ দুইনেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদও কারাবন্দি রয়েছেন।
http://www.youtube.com/watch?v=z6MyvZRJ4s8