বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলামের যৌবনের গান প্রবন্ধটি আধুনিকতার এই যুগেও আমাকে প্রবল ভাবে নাড়া দেয়। আসলে ঐ প্রবন্ধটি কোন লেখা প্রবন্ধ নয়। সে সময়কার মুসলিম যুবকদের উদ্দেশ্য করে এটি ছিল তার দেয়া এক যুগান্তকারি ভাষন। সেই ভাষনটিই পরবর্তীতে আমাদের কলেজের বাংলা পাঠ্য বইয়ে একটি প্রবন্ধ আকারে পড়ানো হতো। তার সেই ভাষনে তিনি যৌবনকে যেভাবে সংগায়ীত করেছিলেন তাতে আজও বোধকরি মানুষের চোখ কপালে উঠে যাবার যোগাড়। যৌবনের পাশাপাশি তিনি বার্ধক্যের চেহারাও উন্মোচন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন বার্ধক্য বা যৌবন কোনটাই বয়সের ফ্রেমে বেধে রাখার মত জিনিস নয়। স্বল্প বয়সি একজন যুবকও বার্ধক্যের জরাযির্ন খোলসে আটকা পড়ে যেতে পারে আবার সত্তরের একজন বৃদ্ধও হতে পারেন যৌবনের তাগড়া ঘোড়ার সওয়ারী। যৌবন কখনও নবাগতের আগমনে ভড়কে যায় না, নতুন কে জয় করে নিয়েই তার পরিতৃপ্তি। অন্যদিকে বার্ধক্য সর্বদাই পুরাতনে আঁকড়ে থাকে, পরিবর্তনের ভয়ে সে সদা সংকিত। কবির কথা গুলোকে পুঁজি করে আমি আজ পার্থক্য করতে পারি কে বার্ধ্যক্যের রোগে আক্রান্ত আর কে যৌবনের ঢেউয়ের মিত্র। আমাদের মুসলিম সমাজে যারা ধার্মিক এবং যারা ধর্ম তথা মানব জীবনের পরিপুর্ন রুপরেখা ইসলামকে সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট তারা কেন জানি বার বার বার্ধ্যক্যের খুপরিতে আছড়ে পড়েন। তাদের অধিকাংশই নতুনের সাথে মিতালিতে হয়তো অপরাগ নয়তো নারাজ। এদের মধ্যে যারা নতুন কে নিজেদের মত করে জয় করে নেয়ার প্রয়োজনটি অনুভব করেন, তারাও বড্ড বেশী দেরি করেই তা অনুভব করেন। এটাকে আমি আপাতত তাদের খামখেয়ালিপনা বা এক ঘুয়েমিই বলবো। আর যুগে যুগে তাদের এই খামখেয়ালিপনা বা এক ঘুয়েমিই আমাদের কে জাত শুদ্ধ হাজার বছর পিছিয়ে দিয়েছে।
ভারতীয় উপমহাদেশে যখন ইংরেজরা এল তখন এ তল্লাটের শিক্ষা দিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি হয়ে গেল। তখন আমাদের আমেল ওলামা গন ইংরেজি শিক্ষাকে হারাম ঘোষনা করে মুসলিম উম্মাহ কে সহস্র বছর দূরে ঠেলে দিয়েছিলেন। আর অন্যদিকে জাত কুলহীন হিন্দুরা ইংরেজি শিক্ষাকে মেনে নিয়ে চলে গেল চালকের আসনে। তখনকার ওলামাগন কি জানতেন না যে একজন মুসলিম শিশুর জন্য সর্বোত্তম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটা হল তার মায়ের কোল? তারা হয়তো অসম্ভব কেতাবি জ্ঞানের জ্ঞানী ছিলেন, এবং সুশিক্ষিতও ছিলেন, কিন্তু তারা কতটা স্বশিক্ষিত এবং সুদুর প্রসারি দৃষ্টির অধীকারি ছিলেন তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ থাকার অবকাশ আছে। তা না হলে মেয়েদের সু শিক্ষিত করার ব্যপারে প্রায় সমগ্র মুসলিম সমাজের যে উদাশীনতা তখন ছিল তার ব্যক্ষা কি দাঁড়াবে? এখানে পরিষ্কার করে বলে রাখা ভালো যে আমি সকল আলেম ওলামাদের কে ঢালাও ভাবে এক কাতারে রাখছি না। ব্যতিক্রম তো অবশ্যই ছিলো কিন্তু ব্যতিক্রম তো সর্বদাই ব্যতিক্রম। সমালোচনার ধাক্কা সামলাতেই তার কার্যকারিতা হারিয়ে যায় বেশ খানেক।
কথায় আছে চোর গেলে বুদ্ধি বাড়ে, আমাদেরও ভালোই বুদ্ধি বেড়েছে, তবে সেটা চোর চলে যাবার পরে, আগে নয়। আমরা এখন ইংরেজি পড়ি, ইংরেজি বলি, ইংরেজিতে শিক্ষিতও হই। শুধু তাই নয় আধুনিক কালের ইসলামিক গবেষনাগুলো আমরা ঐ হারাম ভাষা ইংরেজিতেই করছি। চৌদ্দশত বছর আগে অহির দরজা বন্ধ হয়ে যাবার পরে অহি ছাড়াই কিভাবে ইংরেজি হারাম থেকে হালালে পরিনত হল তা আমার বুঝে আসে না। এবং এই হালালিকরনটা কেন প্রাথমিক পর্যায়েই হলনা তাও আমি বুঝি না। তবে এই ইতিহাস থেকে এটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে আমাদের মধ্যে যারা নতুন কে নিজেদের মত করে জয় করে নেয়ার প্রয়োজনটি অনুভব করেন, তারা বড্ড বেশী দেরি করেই তা অনুভব করেন।
এর পর এল টিভি, ঐ বক্সের সামনে দাঁড়ানো যে একসময় মোটেই হালাল ছিলো না তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন নাস্তিক পন্থি মিডিয়ার তুমুল মিথ্যে প্রপাগান্ডার জবাব দিতে আমরা ইসলামিক টিভি চ্যানেল খুলে বসেছি। এভাবে অনেক হারাম এখন হালাল হয়েছে। তবে সেটা এমন নয় যে নিরেট হারাম কে হালালে পরিনত করা হয়েছে। যেটা করা হয়েছে সেটা হল বিভিন্ন নতুন আবিষ্কারকে প্রথমে হারাম বলে দূরে ঠেলে দেয়া হয়েছে, পরে আবার সেই দূরে ঠেলে দেয়া জিনিসটিকে ভালোকাজে ব্যবহারের উপযুক্ত বলে বুঝে উঠার পর গ্রহন করেন নেয়া হয়েছে। কিন্তু এই বুঝে উঠার মাঝখানে সময় নেয়া হয়েছে অনেক অনেক যুগের। সে সময়ের মধ্যে ধংশের তলানিতে পৌছেছে পুরো উম্মত।
বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের ছড়াছড়ি পৃথীবির আনাচে কানাচে। যুবসমাজ অগনিত মুল্যবান সময় নষ্ট করছে এই ইন্টারনেটে। ব্লগিং, গুগলিং, ইউটিউব, টুইটারিং, চ্যাটিং, ফেসবুকিং, ফ্রেন্ডস্টার, হাই ফাইভ, ইমেইল, উইকিপিডিয়া, আপ্লোডিং এবং ডাউন লোডিং এগুলো নিয়েই চলছে কিশোর যুবক এমনকি বৃদ্ধদেরও সারাটা দিন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন ছেলে-পেলে শুধুমাত্র বিনোদন করতে ইন্টারনেটে পড়ে থাকায় তাদের নৈতিক মানের অবনতি হচ্ছে। আর তাই ইসলামি আন্দোলনের সাথী ও বন্ধুদের এই সকল বেহুদা কাজ থেকে দূরে থেকে প্রচুর পরিমানে দাওয়াতি কাজ ও কোরান হাদীস অধ্যায়ন করা জরুরী। আমি তাদের সাথে মাত্র চার আনা একমত আর বাকি বারো আনাই অন্যমত।
আমি বরং বলতে চাই আমাদের দাওয়াতি কাজে অংশ গ্রহন কারী দল গুলোর বৃহদাংশের উচিৎ ইন্টার নেটে প্রচুর পরিমানে সময় দিয়ে বাংলাদেশের প্রক্ষাপটে ইসলামি রাজনীতি তথা ইসলামী আন্দোলনের ব্যপারে সুন্দর ও গঠন মুলক তথ্য উপাত্ত ছড়িয়ে দেয়া। কারন যে কেউ যখন এ ব্যপারে গুগলে বা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ দেয় তখন বিভিন্ন নেতি বাচক তথ্য উপাত্য এবং মিথ্যা ইনফরমেশন গুলো বেশি আসে। এর কারন হল, বাংলাদেশের বাম পন্থী ও সেকুলার আন্দোলনের কর্মীরা প্রায় কয়েক যুগ ধরে ইন্টারনেটে এসব তথ্যাদি আপ্লোড করে আসছে। আজ এমন সময়ে এই মিথ্যা ইনফরমেশনের পরিমান এত বেশী হয়ে দাড়িয়েছে যে আগামী বিশ বছরও যদি ওরা চুপ করে বসে থাকে আর আমরা যদি বিরামহীন ভাবে ইসলামের ব্যপারে সত্য ইনফরমেশন আপ্লোড করতে থাকি তাতেও তাদের কিঞ্চিৎ পরিমানও কোন সমস্যা হবে না। বরং আমরা এর পরও জোযন জোযন দূরে পড়ে থাকবো।
কিন্তু তাই বলে কি তারা থেমে আছে? না বরং তারা আরও তুমুল গতিতে এগিয়ে চলছে। ইন্টারনেটে বাংলায় যে কয়টা ব্লগ আছে তার নব্বই ভাগ ব্লগই নাস্তিক ও বাম পন্থীদের দ্বারা পরিচালিত। সেসকল ব্লগে যদি কেউ ইসলামি মুল্যবোধ নিয়ে কোন পোস্ট করেন তাহলে মুহুর্তের মধ্যেই মাইনাস রেটিং পড়তে থাকে। অসম্বভ অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজ চলতে থাকে। এমনকি তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) কে পর্যন্ত খারাপ ভাষায় গালী দিয়ে থাকে।
বিভিন্ন ব্লগে যখন কোন লেখক তার লেখা প্রকাশ করেন তখন তিনি তার প্রবন্ধটিকে বিভিন্ন পরিচিত একাধিক কমন নামে ট্যাগ করে থাকেন, (যেমনঃ গনতন্ত্র, বাংলাদেশ, দেশ, ইতিহাস, ৭১, একাত্তর, অর্থনীতি, ধর্ম, ইসলাম, জামায়াত, শিবির, বি এন পি, আলীগ এরকম যেসকল নামে আপনি আমি সাধারনত গুগলে সার্চ দিয়ে থাকি।) ফলে গুগল বা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিনে পৃথিবির যেকোন প্রান্ত থেকে যেকেউ সার্চ দিলেই ঐসব লেখা বা প্রবন্ধ সার্চ রেজাল্টে চলে আসে। এভাবে ট্যাগিং করে করে এতদিনে যিথেষ্ঠ পরিমানে মিথ্যা তথ্য আপ্লোড করা হয়ে গেছে। যেগুলোর বিপরীতে সদুত্তর সমৃদ্ধ কোন তথ্য নেই বললেই চলে।
এইসকল ব্লগে কিছু পরিমানে ইসলাম পন্থী লোকজনও লিখে থাকেন কিন্তু তারা জ্ঞানের দিক থেকে সবাই কাংখিত মানের নন। আবার এদের কে ব্লক বা ব্যান করার জন্য ব্লগের মডারেটর গন সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। কোনও একটি অযুহাত পেলেই তাকে সাথে সাথে ব্যান করা হয়। আর ব্যান করা মানেই এ যাবত কালে তিনি যত পোস্ট করেছেন তা মেইন সোর্স থেকে ডিলিট হয়ে যাওয়া। অপরদিকে অশ্লীল ও ইসলাম বিরোধী কোন পোস্ট বা পোস্ট দাতাকে সাধারনত ব্যান করা হয় না, তবে লোক চোখে ফেয়ার থাকার জন্য কিছু কিছু পদক্ষেপ তারা নিয়ে থাকেন যাতে লোকে তাদেরকে সন্দেহ করতে না পারে। এভাবেই ইন্টারনেট জগত দিনে দিনে আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিন একজ দুই জন নন হাজার হাজার ব্লগার ব্লগ লিখছেন আর ট্যাগ করছেন। প্রতি মিনিটে নতুন নতুন পোস্ট আসছে, লোকজন সেগুলো পড়ছে। তাই এখন আমাদের ইসলাম পন্থিদের নিজেদের প্রচুর পরিমানে পৃথক পৃথক ব্লগীয় প্লাট ফর্ম দরকার। আরও দরকার দাওয়াতের উদ্দেশ্যে বেশী বেশী ইণ্টারনেটে সময় দেয়া।
উইকিপিডিয়া এবং এনসাইকোপিডিয়া এই দুটি হল বিশ্ব বিখ্যাত ওয়েব সাইট যেখানে ইতিহাস, অর্থনিতি, সহ সকল বিষয়ে পর্যাপ্ত পরিমান তথ্য সমৃদ্ধ প্রবন্ধ দেয়া থাকে। পৃথীবির নির্ভর্যোগ্য সাইট গুলোর মধ্যে এ গুলোকে অন্যতম বলে মনে করা হয়। যে কোন ইন্টারনেট ইউজার এগুলো এডিট করতে পারেন এবং নতুন তথ্যের সংযোজন করতে পারেন। তবে অবশ্যই সেটা হতে হবে রেফারেন্স ভিত্তিক। এভাবে সবার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক বিশাল তথ্যভান্ডার নিমেশেই তৈরী হয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে পৃথীবির প্রায় সকল ভাষায় এই সাইট গুলো পাওয়া যায়। তাদের বাংলা বিভাগও আছে। কিন্তু তাদের বাংলা বিভাগে যারা কাজ করেন তারা সবাই চরম ভাবে সেক্যুলার ও বাম পন্থী। শুধু তাই নয় ইসলাম পন্থীদের এই সকল কাজে উপস্থিতি সম্পুর্ন শূণ্যের কোঠায়। যার কারনে একপাক্ষিক ভাবে শুধু বাম ও রামদের আদর্শের প্রতিফলনই সেখানে নগ্ন ভাবে ফুটে উঠে। তাই আমাদের উচিৎ বড় অংকের বাজেট নিয়ে ইসলাম পন্থিদেরকে এই সেক্টরে কাজে লাগানো।
আর্বানাইজেশনের এই যুগে তৈরী হচ্ছে বিশাল বিশাল অট্টালিকা। এক একটি অট্টালিকার এক একটি তলায় বাস করছে নিদেন পক্ষে চারটি করে ফ্যামেলি। নিরাপত্তার নামে সে সকল ফ্ল্যাটে প্রবেশ সম্পুর্নই দুরহ। প্রবেশের একমাত্র পথ হল যদি সেই অট্টালিকায় কোন পরিচিত কেউ থাকে। কিন্তু তাতেও লাভ নেই তেমন একটা। এক একটি ফ্ল্যাট যেন এক একটি দ্বীপ। কারও সাথে কারও যোগাযোগ নেই। তাই বাড়ী বাড়ী গিয়ে দরজায় কড়া নেড়ে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার সুযোগ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। লোক সংখ্যার বিচারে এই রকম একটি অট্টালিকা একটি গ্রামের মতন। যার অর্থ হল এরকম হাজার গ্রামে আমরা দাওয়াত নিয়ে যেতে পারছি না। এই সকল ঘরের সন্তানরা খুব একটা বাইরেও বের হয় না। তাদের মায়েরাও ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত নয় যে সন্তানকে ইসলাম শেখাবে। এ যেন দরজা বন্ধ একটি কারাগারে ওরা বন্ধী। অপরিচিত কেউ ঢোকার সাধ্য নেই। কিন্তু একটি জানালা খোলা আছে আর সেটা হল ইন্টারনেট। এই সকল ফ্যামিলির ছেলে মেয়েরা সারাদিন নেটে পড়ে থাকে। তাদের কাছে পৌছার এই একটাই পথ।
যে কারনে এই লেখার প্রথমেই কবি কাজি নজরুলের ঐতিহাসিক ভাষনের কথা টেনে এনেছিলাম, নতুন আবিষ্কারকে আর দূরে ঠেলে দেয়া নয় নতুনকে আমাদের নিজেদের মত করে জয় করে নেবার এখনই সময়। সামনে নতুন যা ই আসুক, প্রত্যাখ্যান নয় বরং জয় করে নেয়াই হোক আমাদের ব্রত। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ওরা আমাদের চরিত্র ধংশের কাজ করছে। ওরা সফল হচ্ছে কারন আমরা বসে আছি। আমাদের উচিৎ ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষকে ইসলামের দিকে আহবান করা তাইলেই কেবল ওদের সফলতার গতীতে বাধ দেয়া সম্ভব হবে।
Showing posts with label Islam. Show all posts
Showing posts with label Islam. Show all posts
Wednesday, July 14, 2010
ইন্টারনেট এবং ব্লগিং এনে দিতে পারে ইসলামী দাওয়াতী কাজের এক অনন্য সুযোগ
Monday, July 05, 2010
ইন্টারনেট এবং ব্লগিং এনে দিতে পারে ইসলামী দাওয়াতী কাজের এক অনন্য সুযোগ
বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলামের যৌবনের গান প্রবন্ধটি আধুনিকতার এই যুগেও আমাকে প্রবল ভাবে নাড়া দেয়। আসলে ঐ প্রবন্ধটি কোন লেখা প্রবন্ধ নয়। সে সময়কার মুসলিম যুবকদের উদ্দেশ্য করে এটি ছিল তার দেয়া এক যুগান্তকারি ভাষন। সেই ভাষনটিই পরবর্তীতে আমাদের কলেজের বাংলা পাঠ্য বইয়ে একটি প্রবন্ধ আকারে পড়ানো হতো। তার সেই ভাষনে তিনি যৌবনকে যেভাবে সংগায়ীত করেছিলেন তাতে আজও বোধকরি মানুষের চোখ কপালে উঠে যাবার যোগাড়। যৌবনের পাশাপাশি তিনি বার্ধক্যের চেহারাও উন্মোচন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন বার্ধক্য বা যৌবন কোনটাই বয়সের ফ্রেমে বেধে রাখার মত জিনিস নয়। স্বল্প বয়সি একজন যুবকও বার্ধক্যের জরাযির্ন খোলসে আটকা পড়ে যেতে পারে আবার সত্তরের একজন বৃদ্ধও হতে পারেন যৌবনের তাগড়া ঘোড়ার সওয়ারী। যৌবন কখনও নবাগতের আগমনে ভড়কে যায় না, নতুন কে জয় করে নিয়েই তার পরিতৃপ্তি। অন্যদিকে বার্ধক্য সর্বদাই পুরাতনে আঁকড়ে থাকে, পরিবর্তনের ভয়ে সে সদা সংকিত। কবির কথা গুলোকে পুঁজি করে আমি আজ পার্থক্য করতে পারি কে বার্ধ্যক্যের রোগে আক্রান্ত আর কে যৌবনের ঢেউয়ের মিত্র। আমাদের মুসলিম সমাজে যারা ধার্মিক এবং যারা ধর্ম তথা মানব জীবনের পরিপুর্ন রুপরেখা ইসলামকে সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট তারা কেন জানি বার বার বার্ধ্যক্যের খুপরিতে আছড়ে পড়েন। তাদের অধিকাংশই নতুনের সাথে মিতালিতে হয়তো অপরাগ নয়তো নারাজ। এদের মধ্যে যারা নতুন কে নিজেদের মত করে জয় করে নেয়ার প্রয়োজনটি অনুভব করেন, তারাও বড্ড বেশী দেরি করেই তা অনুভব করেন। এটাকে আমি আপাতত তাদের খামখেয়ালিপনা বা এক ঘুয়েমিই বলবো। আর যুগে যুগে তাদের এই খামখেয়ালিপনা বা এক ঘুয়েমিই আমাদের কে জাত শুদ্ধ হাজার বছর পিছিয়ে দিয়েছে।
ভারতীয় উপমহাদেশে যখন ইংরেজরা এল তখন এ তল্লাটের শিক্ষা দিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি হয়ে গেল। তখন আমাদের আমেল ওলামা গন ইংরেজি শিক্ষাকে হারাম ঘোষনা করে মুসলিম উম্মাহ কে সহস্র বছর দূরে ঠেলে দিয়েছিলেন। আর অন্যদিকে জাত কুলহীন হিন্দুরা ইংরেজি শিক্ষাকে মেনে নিয়ে চলে গেল চালকের আসনে। তখনকার ওলামাগন কি জানতেন না যে একজন মুসলিম শিশুর জন্য সর্বোত্তম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটা হল তার মায়ের কোল? তারা হয়তো অসম্ভব কেতাবি জ্ঞানের জ্ঞানী ছিলেন, এবং সুশিক্ষিতও ছিলেন, কিন্তু তারা কতটা স্বশিক্ষিত এবং সুদুর প্রসারি দৃষ্টির অধীকারি ছিলেন তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ থাকার অবকাশ আছে। তা না হলে মেয়েদের সু শিক্ষিত করার ব্যপারে প্রায় সমগ্র মুসলিম সমাজের যে উদাশীনতা তখন ছিল তার ব্যক্ষা কি দাঁড়াবে? এখানে পরিষ্কার করে বলে রাখা ভালো যে আমি সকল আলেম ওলামাদের কে ঢালাও ভাবে এক কাতারে রাখছি না। ব্যতিক্রম তো অবশ্যই ছিলো কিন্তু ব্যতিক্রম তো সর্বদাই ব্যতিক্রম। সমালোচনার ধাক্কা সামলাতেই তার কার্যকারিতা হারিয়ে যায় বেশ খানেক।
কথায় আছে চোর গেলে বুদ্ধি বাড়ে, আমাদেরও ভালোই বুদ্ধি বেড়েছে, তবে সেটা চোর চলে যাবার পরে, আগে নয়। আমরা এখন ইংরেজি পড়ি, ইংরেজি বলি, ইংরেজিতে শিক্ষিতও হই। শুধু তাই নয় আধুনিক কালের ইসলামিক গবেষনাগুলো আমরা ঐ হারাম ভাষা ইংরেজিতেই করছি। চৌদ্দশত বছর আগে অহির দরজা বন্ধ হয়ে যাবার পরে অহি ছাড়াই কিভাবে ইংরেজি হারাম থেকে হালালে পরিনত হল তা আমার বুঝে আসে না। এবং এই হালালিকরনটা কেন প্রাথমিক পর্যায়েই হলনা তাও আমি বুঝি না। তবে এই ইতিহাস থেকে এটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে আমাদের মধ্যে যারা নতুন কে নিজেদের মত করে জয় করে নেয়ার প্রয়োজনটি অনুভব করেন, তারা বড্ড বেশী দেরি করেই তা অনুভব করেন।
এর পর এল টিভি, ঐ বক্সের সামনে দাঁড়ানো যে একসময় মোটেই হালাল ছিলো না তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন নাস্তিক পন্থি মিডিয়ার তুমুল মিথ্যে প্রপাগান্ডার জবাব দিতে আমরা ইসলামিক টিভি চ্যানেল খুলে বসেছি। এভাবে অনেক হারাম এখন হালাল হয়েছে। তবে সেটা এমন নয় যে নিরেট হারাম কে হালালে পরিনত করা হয়েছে। যেটা করা হয়েছে সেটা হল বিভিন্ন নতুন আবিষ্কারকে প্রথমে হারাম বলে দূরে ঠেলে দেয়া হয়েছে, পরে আবার সেই দূরে ঠেলে দেয়া জিনিসটিকে ভালোকাজে ব্যবহারের উপযুক্ত বলে বুঝে উঠার পর গ্রহন করেন নেয়া হয়েছে। কিন্তু এই বুঝে উঠার মাঝখানে সময় নেয়া হয়েছে অনেক অনেক যুগের। সে সময়ের মধ্যে ধংশের তলানিতে পৌছেছে পুরো উম্মত।
বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের ছড়াছড়ি পৃথীবির আনাচে কানাচে। যুবসমাজ অগনিত মুল্যবান সময় নষ্ট করছে এই ইন্টারনেটে। ব্লগিং, গুগলিং, ইউটিউব, টুইটারিং, চ্যাটিং, ফেসবুকিং, ফ্রেন্ডস্টার, হাই ফাইভ, ইমেইল, উইকিপিডিয়া, আপ্লোডিং এবং ডাউন লোডিং এগুলো নিয়েই চলছে কিশোর যুবক এমনকি বৃদ্ধদেরও সারাটা দিন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন ছেলে-পেলে শুধুমাত্র বিনোদন করতে ইন্টারনেটে পড়ে থাকায় তাদের নৈতিক মানের অবনতি হচ্ছে। আর তাই ইসলামি আন্দোলনের সাথী ও বন্ধুদের এই সকল বেহুদা কাজ থেকে দূরে থেকে প্রচুর পরিমানে দাওয়াতি কাজ ও কোরান হাদীস অধ্যায়ন করা জরুরী। আমি তাদের সাথে মাত্র চার আনা একমত আর বাকি বারো আনাই অন্যমত।
আমি বরং বলতে চাই আমাদের দাওয়াতি কাজে অংশ গ্রহন কারী দল গুলোর বৃহদাংশের উচিৎ ইন্টার নেটে প্রচুর পরিমানে সময় দিয়ে বাংলাদেশের প্রক্ষাপটে ইসলামি রাজনীতি তথা ইসলামী আন্দোলনের ব্যপারে সুন্দর ও গঠন মুলক তথ্য উপাত্ত ছড়িয়ে দেয়া। কারন যে কেউ যখন এ ব্যপারে গুগলে বা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ দেয় তখন বিভিন্ন নেতি বাচক তথ্য উপাত্য এবং মিথ্যা ইনফরমেশন গুলো বেশি আসে। এর কারন হল, বাংলাদেশের বাম পন্থী ও সেকুলার আন্দোলনের কর্মীরা প্রায় কয়েক যুগ ধরে ইন্টারনেটে এসব তথ্যাদি আপ্লোড করে আসছে। আজ এমন সময়ে এই মিথ্যা ইনফরমেশনের পরিমান এত বেশী হয়ে দাড়িয়েছে যে আগামী বিশ বছরও যদি ওরা চুপ করে বসে থাকে আর আমরা যদি বিরামহীন ভাবে ইসলামের ব্যপারে সত্য ইনফরমেশন আপ্লোড করতে থাকি তাতেও তাদের কিঞ্চিৎ পরিমানও কোন সমস্যা হবে না। বরং আমরা এর পরও জোযন জোযন দূরে পড়ে থাকবো।
কিন্তু তাই বলে কি তারা থেমে আছে? না বরং তারা আরও তুমুল গতিতে এগিয়ে চলছে। ইন্টারনেটে বাংলায় যে কয়টা ব্লগ আছে তার নব্বই ভাগ ব্লগই নাস্তিক ও বাম পন্থীদের দ্বারা পরিচালিত। সেসকল ব্লগে যদি কেউ ইসলামি মুল্যবোধ নিয়ে কোন পোস্ট করেন তাহলে মুহুর্তের মধ্যেই মাইনাস রেটিং পড়তে থাকে। অসম্বভ অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজ চলতে থাকে। এমনকি তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) কে পর্যন্ত খারাপ ভাষায় গালী দিয়ে থাকে।
বিভিন্ন ব্লগে যখন কোন লেখক তার লেখা প্রকাশ করেন তখন তিনি তার প্রবন্ধটিকে বিভিন্ন পরিচিত একাধিক কমন নামে ট্যাগ করে থাকেন, (যেমনঃ গনতন্ত্র, বাংলাদেশ, দেশ, ইতিহাস, ৭১, একাত্তর, অর্থনীতি, ধর্ম, ইসলাম, জামায়াত, শিবির, বি এন পি, আলীগ এরকম যেসকল নামে আপনি আমি সাধারনত গুগলে সার্চ দিয়ে থাকি।) ফলে গুগল বা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিনে পৃথিবির যেকোন প্রান্ত থেকে যেকেউ সার্চ দিলেই ঐসব লেখা বা প্রবন্ধ সার্চ রেজাল্টে চলে আসে। এভাবে ট্যাগিং করে করে এতদিনে যিথেষ্ঠ পরিমানে মিথ্যা তথ্য আপ্লোড করা হয়ে গেছে। যেগুলোর বিপরীতে সদুত্তর সমৃদ্ধ কোন তথ্য নেই বললেই চলে।
এইসকল ব্লগে কিছু পরিমানে ইসলাম পন্থী লোকজনও লিখে থাকেন কিন্তু তারা জ্ঞানের দিক থেকে সবাই কাংখিত মানের নন। আবার এদের কে ব্লক বা ব্যান করার জন্য ব্লগের মডারেটর গন সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। কোনও একটি অযুহাত পেলেই তাকে সাথে সাথে ব্যান করা হয়। আর ব্যান করা মানেই এ যাবত কালে তিনি যত পোস্ট করেছেন তা মেইন সোর্স থেকে ডিলিট হয়ে যাওয়া। অপরদিকে অশ্লীল ও ইসলাম বিরোধী কোন পোস্ট বা পোস্ট দাতাকে সাধারনত ব্যান করা হয় না, তবে লোক চোখে ফেয়ার থাকার জন্য কিছু কিছু পদক্ষেপ তারা নিয়ে থাকেন যাতে লোকে তাদেরকে সন্দেহ করতে না পারে। এভাবেই ইন্টারনেট জগত দিনে দিনে আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিন একজ দুই জন নন হাজার হাজার ব্লগার ব্লগ লিখছেন আর ট্যাগ করছেন। প্রতি মিনিটে নতুন নতুন পোস্ট আসছে, লোকজন সেগুলো পড়ছে। তাই এখন আমাদের ইসলাম পন্থিদের নিজেদের প্রচুর পরিমানে পৃথক পৃথক ব্লগীয় প্লাট ফর্ম দরকার। আরও দরকার দাওয়াতের উদ্দেশ্যে বেশী বেশী ইণ্টারনেটে সময় দেয়া।
উইকিপিডিয়া এবং এনসাইকোপিডিয়া এই দুটি হল বিশ্ব বিখ্যাত ওয়েব সাইট যেখানে ইতিহাস, অর্থনিতি, সহ সকল বিষয়ে পর্যাপ্ত পরিমান তথ্য সমৃদ্ধ প্রবন্ধ দেয়া থাকে। পৃথীবির নির্ভর্যোগ্য সাইট গুলোর মধ্যে এ গুলোকে অন্যতম বলে মনে করা হয়। যে কোন ইন্টারনেট ইউজার এগুলো এডিট করতে পারেন এবং নতুন তথ্যের সংযোজন করতে পারেন। তবে অবশ্যই সেটা হতে হবে রেফারেন্স ভিত্তিক। এভাবে সবার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক বিশাল তথ্যভান্ডার নিমেশেই তৈরী হয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে পৃথীবির প্রায় সকল ভাষায় এই সাইট গুলো পাওয়া যায়। তাদের বাংলা বিভাগও আছে। কিন্তু তাদের বাংলা বিভাগে যারা কাজ করেন তারা সবাই চরম ভাবে সেক্যুলার ও বাম পন্থী। শুধু তাই নয় ইসলাম পন্থীদের এই সকল কাজে উপস্থিতি সম্পুর্ন শূণ্যের কোঠায়। যার কারনে একপাক্ষিক ভাবে শুধু বাম ও রামদের আদর্শের প্রতিফলনই সেখানে নগ্ন ভাবে ফুটে উঠে। তাই আমাদের উচিৎ বড় অংকের বাজেট নিয়ে ইসলাম পন্থিদেরকে এই সেক্টরে কাজে লাগানো।
আর্বানাইজেশনের এই যুগে তৈরী হচ্ছে বিশাল বিশাল অট্টালিকা। এক একটি অট্টালিকার এক একটি তলায় বাস করছে নিদেন পক্ষে চারটি করে ফ্যামেলি। নিরাপত্তার নামে সে সকল ফ্ল্যাটে প্রবেশ সম্পুর্নই দুরহ। প্রবেশের একমাত্র পথ হল যদি সেই অট্টালিকায় কোন পরিচিত কেউ থাকে। কিন্তু তাতেও লাভ নেই তেমন একটা। এক একটি ফ্ল্যাট যেন এক একটি দ্বীপ। কারও সাথে কারও যোগাযোগ নেই। তাই বাড়ী বাড়ী গিয়ে দরজায় কড়া নেড়ে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার সুযোগ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। লোক সংখ্যার বিচারে এই রকম একটি অট্টালিকা একটি গ্রামের মতন। যার অর্থ হল এরকম হাজার গ্রামে আমরা দাওয়াত নিয়ে যেতে পারছি না। এই সকল ঘরের সন্তানরা খুব একটা বাইরেও বের হয় না। তাদের মায়েরাও ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত নয় যে সন্তানকে ইসলাম শেখাবে। এ যেন দরজা বন্ধ একটি কারাগারে ওরা বন্ধী। অপরিচিত কেউ ঢোকার সাধ্য নেই। কিন্তু একটি জানালা খোলা আছে আর সেটা হল ইন্টারনেট। এই সকল ফ্যামিলির ছেলে মেয়েরা সারাদিন নেটে পড়ে থাকে। তাদের কাছে পৌছার এই একটাই পথ।
যে কারনে এই লেখার প্রথমেই কবি কাজি নজরুলের ঐতিহাসিক ভাষনের কথা টেনে এনেছিলাম, নতুন আবিষ্কারকে আর দূরে ঠেলে দেয়া নয় নতুনকে আমাদের নিজেদের মত করে জয় করে নেবার এখনই সময়। সামনে নতুন যা ই আসুক, প্রত্যাখ্যান নয় বরং জয় করে নেয়াই হোক আমাদের ব্রত। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ওরা আমাদের চরিত্র ধংশের কাজ করছে। ওরা সফল হচ্ছে কারন আমরা বসে আছি। আমাদের উচিৎ ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষকে ইসলামের দিকে আহবান করা তাইলেই কেবল ওদের সফলতার গতীতে বাধ দেয়া সম্ভব হবে।
ভারতীয় উপমহাদেশে যখন ইংরেজরা এল তখন এ তল্লাটের শিক্ষা দিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি হয়ে গেল। তখন আমাদের আমেল ওলামা গন ইংরেজি শিক্ষাকে হারাম ঘোষনা করে মুসলিম উম্মাহ কে সহস্র বছর দূরে ঠেলে দিয়েছিলেন। আর অন্যদিকে জাত কুলহীন হিন্দুরা ইংরেজি শিক্ষাকে মেনে নিয়ে চলে গেল চালকের আসনে। তখনকার ওলামাগন কি জানতেন না যে একজন মুসলিম শিশুর জন্য সর্বোত্তম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটা হল তার মায়ের কোল? তারা হয়তো অসম্ভব কেতাবি জ্ঞানের জ্ঞানী ছিলেন, এবং সুশিক্ষিতও ছিলেন, কিন্তু তারা কতটা স্বশিক্ষিত এবং সুদুর প্রসারি দৃষ্টির অধীকারি ছিলেন তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ থাকার অবকাশ আছে। তা না হলে মেয়েদের সু শিক্ষিত করার ব্যপারে প্রায় সমগ্র মুসলিম সমাজের যে উদাশীনতা তখন ছিল তার ব্যক্ষা কি দাঁড়াবে? এখানে পরিষ্কার করে বলে রাখা ভালো যে আমি সকল আলেম ওলামাদের কে ঢালাও ভাবে এক কাতারে রাখছি না। ব্যতিক্রম তো অবশ্যই ছিলো কিন্তু ব্যতিক্রম তো সর্বদাই ব্যতিক্রম। সমালোচনার ধাক্কা সামলাতেই তার কার্যকারিতা হারিয়ে যায় বেশ খানেক।
কথায় আছে চোর গেলে বুদ্ধি বাড়ে, আমাদেরও ভালোই বুদ্ধি বেড়েছে, তবে সেটা চোর চলে যাবার পরে, আগে নয়। আমরা এখন ইংরেজি পড়ি, ইংরেজি বলি, ইংরেজিতে শিক্ষিতও হই। শুধু তাই নয় আধুনিক কালের ইসলামিক গবেষনাগুলো আমরা ঐ হারাম ভাষা ইংরেজিতেই করছি। চৌদ্দশত বছর আগে অহির দরজা বন্ধ হয়ে যাবার পরে অহি ছাড়াই কিভাবে ইংরেজি হারাম থেকে হালালে পরিনত হল তা আমার বুঝে আসে না। এবং এই হালালিকরনটা কেন প্রাথমিক পর্যায়েই হলনা তাও আমি বুঝি না। তবে এই ইতিহাস থেকে এটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে আমাদের মধ্যে যারা নতুন কে নিজেদের মত করে জয় করে নেয়ার প্রয়োজনটি অনুভব করেন, তারা বড্ড বেশী দেরি করেই তা অনুভব করেন।
এর পর এল টিভি, ঐ বক্সের সামনে দাঁড়ানো যে একসময় মোটেই হালাল ছিলো না তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন নাস্তিক পন্থি মিডিয়ার তুমুল মিথ্যে প্রপাগান্ডার জবাব দিতে আমরা ইসলামিক টিভি চ্যানেল খুলে বসেছি। এভাবে অনেক হারাম এখন হালাল হয়েছে। তবে সেটা এমন নয় যে নিরেট হারাম কে হালালে পরিনত করা হয়েছে। যেটা করা হয়েছে সেটা হল বিভিন্ন নতুন আবিষ্কারকে প্রথমে হারাম বলে দূরে ঠেলে দেয়া হয়েছে, পরে আবার সেই দূরে ঠেলে দেয়া জিনিসটিকে ভালোকাজে ব্যবহারের উপযুক্ত বলে বুঝে উঠার পর গ্রহন করেন নেয়া হয়েছে। কিন্তু এই বুঝে উঠার মাঝখানে সময় নেয়া হয়েছে অনেক অনেক যুগের। সে সময়ের মধ্যে ধংশের তলানিতে পৌছেছে পুরো উম্মত।
বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের ছড়াছড়ি পৃথীবির আনাচে কানাচে। যুবসমাজ অগনিত মুল্যবান সময় নষ্ট করছে এই ইন্টারনেটে। ব্লগিং, গুগলিং, ইউটিউব, টুইটারিং, চ্যাটিং, ফেসবুকিং, ফ্রেন্ডস্টার, হাই ফাইভ, ইমেইল, উইকিপিডিয়া, আপ্লোডিং এবং ডাউন লোডিং এগুলো নিয়েই চলছে কিশোর যুবক এমনকি বৃদ্ধদেরও সারাটা দিন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন ছেলে-পেলে শুধুমাত্র বিনোদন করতে ইন্টারনেটে পড়ে থাকায় তাদের নৈতিক মানের অবনতি হচ্ছে। আর তাই ইসলামি আন্দোলনের সাথী ও বন্ধুদের এই সকল বেহুদা কাজ থেকে দূরে থেকে প্রচুর পরিমানে দাওয়াতি কাজ ও কোরান হাদীস অধ্যায়ন করা জরুরী। আমি তাদের সাথে মাত্র চার আনা একমত আর বাকি বারো আনাই অন্যমত।
আমি বরং বলতে চাই আমাদের দাওয়াতি কাজে অংশ গ্রহন কারী দল গুলোর বৃহদাংশের উচিৎ ইন্টার নেটে প্রচুর পরিমানে সময় দিয়ে বাংলাদেশের প্রক্ষাপটে ইসলামি রাজনীতি তথা ইসলামী আন্দোলনের ব্যপারে সুন্দর ও গঠন মুলক তথ্য উপাত্ত ছড়িয়ে দেয়া। কারন যে কেউ যখন এ ব্যপারে গুগলে বা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ দেয় তখন বিভিন্ন নেতি বাচক তথ্য উপাত্য এবং মিথ্যা ইনফরমেশন গুলো বেশি আসে। এর কারন হল, বাংলাদেশের বাম পন্থী ও সেকুলার আন্দোলনের কর্মীরা প্রায় কয়েক যুগ ধরে ইন্টারনেটে এসব তথ্যাদি আপ্লোড করে আসছে। আজ এমন সময়ে এই মিথ্যা ইনফরমেশনের পরিমান এত বেশী হয়ে দাড়িয়েছে যে আগামী বিশ বছরও যদি ওরা চুপ করে বসে থাকে আর আমরা যদি বিরামহীন ভাবে ইসলামের ব্যপারে সত্য ইনফরমেশন আপ্লোড করতে থাকি তাতেও তাদের কিঞ্চিৎ পরিমানও কোন সমস্যা হবে না। বরং আমরা এর পরও জোযন জোযন দূরে পড়ে থাকবো।
কিন্তু তাই বলে কি তারা থেমে আছে? না বরং তারা আরও তুমুল গতিতে এগিয়ে চলছে। ইন্টারনেটে বাংলায় যে কয়টা ব্লগ আছে তার নব্বই ভাগ ব্লগই নাস্তিক ও বাম পন্থীদের দ্বারা পরিচালিত। সেসকল ব্লগে যদি কেউ ইসলামি মুল্যবোধ নিয়ে কোন পোস্ট করেন তাহলে মুহুর্তের মধ্যেই মাইনাস রেটিং পড়তে থাকে। অসম্বভ অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজ চলতে থাকে। এমনকি তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) কে পর্যন্ত খারাপ ভাষায় গালী দিয়ে থাকে।
বিভিন্ন ব্লগে যখন কোন লেখক তার লেখা প্রকাশ করেন তখন তিনি তার প্রবন্ধটিকে বিভিন্ন পরিচিত একাধিক কমন নামে ট্যাগ করে থাকেন, (যেমনঃ গনতন্ত্র, বাংলাদেশ, দেশ, ইতিহাস, ৭১, একাত্তর, অর্থনীতি, ধর্ম, ইসলাম, জামায়াত, শিবির, বি এন পি, আলীগ এরকম যেসকল নামে আপনি আমি সাধারনত গুগলে সার্চ দিয়ে থাকি।) ফলে গুগল বা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিনে পৃথিবির যেকোন প্রান্ত থেকে যেকেউ সার্চ দিলেই ঐসব লেখা বা প্রবন্ধ সার্চ রেজাল্টে চলে আসে। এভাবে ট্যাগিং করে করে এতদিনে যিথেষ্ঠ পরিমানে মিথ্যা তথ্য আপ্লোড করা হয়ে গেছে। যেগুলোর বিপরীতে সদুত্তর সমৃদ্ধ কোন তথ্য নেই বললেই চলে।
এইসকল ব্লগে কিছু পরিমানে ইসলাম পন্থী লোকজনও লিখে থাকেন কিন্তু তারা জ্ঞানের দিক থেকে সবাই কাংখিত মানের নন। আবার এদের কে ব্লক বা ব্যান করার জন্য ব্লগের মডারেটর গন সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। কোনও একটি অযুহাত পেলেই তাকে সাথে সাথে ব্যান করা হয়। আর ব্যান করা মানেই এ যাবত কালে তিনি যত পোস্ট করেছেন তা মেইন সোর্স থেকে ডিলিট হয়ে যাওয়া। অপরদিকে অশ্লীল ও ইসলাম বিরোধী কোন পোস্ট বা পোস্ট দাতাকে সাধারনত ব্যান করা হয় না, তবে লোক চোখে ফেয়ার থাকার জন্য কিছু কিছু পদক্ষেপ তারা নিয়ে থাকেন যাতে লোকে তাদেরকে সন্দেহ করতে না পারে। এভাবেই ইন্টারনেট জগত দিনে দিনে আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিন একজ দুই জন নন হাজার হাজার ব্লগার ব্লগ লিখছেন আর ট্যাগ করছেন। প্রতি মিনিটে নতুন নতুন পোস্ট আসছে, লোকজন সেগুলো পড়ছে। তাই এখন আমাদের ইসলাম পন্থিদের নিজেদের প্রচুর পরিমানে পৃথক পৃথক ব্লগীয় প্লাট ফর্ম দরকার। আরও দরকার দাওয়াতের উদ্দেশ্যে বেশী বেশী ইণ্টারনেটে সময় দেয়া।
উইকিপিডিয়া এবং এনসাইকোপিডিয়া এই দুটি হল বিশ্ব বিখ্যাত ওয়েব সাইট যেখানে ইতিহাস, অর্থনিতি, সহ সকল বিষয়ে পর্যাপ্ত পরিমান তথ্য সমৃদ্ধ প্রবন্ধ দেয়া থাকে। পৃথীবির নির্ভর্যোগ্য সাইট গুলোর মধ্যে এ গুলোকে অন্যতম বলে মনে করা হয়। যে কোন ইন্টারনেট ইউজার এগুলো এডিট করতে পারেন এবং নতুন তথ্যের সংযোজন করতে পারেন। তবে অবশ্যই সেটা হতে হবে রেফারেন্স ভিত্তিক। এভাবে সবার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক বিশাল তথ্যভান্ডার নিমেশেই তৈরী হয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে পৃথীবির প্রায় সকল ভাষায় এই সাইট গুলো পাওয়া যায়। তাদের বাংলা বিভাগও আছে। কিন্তু তাদের বাংলা বিভাগে যারা কাজ করেন তারা সবাই চরম ভাবে সেক্যুলার ও বাম পন্থী। শুধু তাই নয় ইসলাম পন্থীদের এই সকল কাজে উপস্থিতি সম্পুর্ন শূণ্যের কোঠায়। যার কারনে একপাক্ষিক ভাবে শুধু বাম ও রামদের আদর্শের প্রতিফলনই সেখানে নগ্ন ভাবে ফুটে উঠে। তাই আমাদের উচিৎ বড় অংকের বাজেট নিয়ে ইসলাম পন্থিদেরকে এই সেক্টরে কাজে লাগানো।
আর্বানাইজেশনের এই যুগে তৈরী হচ্ছে বিশাল বিশাল অট্টালিকা। এক একটি অট্টালিকার এক একটি তলায় বাস করছে নিদেন পক্ষে চারটি করে ফ্যামেলি। নিরাপত্তার নামে সে সকল ফ্ল্যাটে প্রবেশ সম্পুর্নই দুরহ। প্রবেশের একমাত্র পথ হল যদি সেই অট্টালিকায় কোন পরিচিত কেউ থাকে। কিন্তু তাতেও লাভ নেই তেমন একটা। এক একটি ফ্ল্যাট যেন এক একটি দ্বীপ। কারও সাথে কারও যোগাযোগ নেই। তাই বাড়ী বাড়ী গিয়ে দরজায় কড়া নেড়ে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার সুযোগ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। লোক সংখ্যার বিচারে এই রকম একটি অট্টালিকা একটি গ্রামের মতন। যার অর্থ হল এরকম হাজার গ্রামে আমরা দাওয়াত নিয়ে যেতে পারছি না। এই সকল ঘরের সন্তানরা খুব একটা বাইরেও বের হয় না। তাদের মায়েরাও ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত নয় যে সন্তানকে ইসলাম শেখাবে। এ যেন দরজা বন্ধ একটি কারাগারে ওরা বন্ধী। অপরিচিত কেউ ঢোকার সাধ্য নেই। কিন্তু একটি জানালা খোলা আছে আর সেটা হল ইন্টারনেট। এই সকল ফ্যামিলির ছেলে মেয়েরা সারাদিন নেটে পড়ে থাকে। তাদের কাছে পৌছার এই একটাই পথ।
যে কারনে এই লেখার প্রথমেই কবি কাজি নজরুলের ঐতিহাসিক ভাষনের কথা টেনে এনেছিলাম, নতুন আবিষ্কারকে আর দূরে ঠেলে দেয়া নয় নতুনকে আমাদের নিজেদের মত করে জয় করে নেবার এখনই সময়। সামনে নতুন যা ই আসুক, প্রত্যাখ্যান নয় বরং জয় করে নেয়াই হোক আমাদের ব্রত। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ওরা আমাদের চরিত্র ধংশের কাজ করছে। ওরা সফল হচ্ছে কারন আমরা বসে আছি। আমাদের উচিৎ ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষকে ইসলামের দিকে আহবান করা তাইলেই কেবল ওদের সফলতার গতীতে বাধ দেয়া সম্ভব হবে।
Sunday, July 04, 2010
মাওলানা সাঈদীকে গ্রেফতারে একজন সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
মেইলটির অনুবাদ এখান থেকে শুরু:
----------------------------------------
১৯৮৮ সালের কথা, সিলেটে সাঈদী-বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে। আমি তখন সিলেট এমসি কলেজের ইন্টারমিডিয়েটে পড়া ছাত্র। আর দশজনের মতো স্বাভাবিকভাবে আমিও জামাত শিবির এবং সাঈদীকে চরমভাবে ঘৃণা করতাম। জাতির পিতার পোট্রেট ছবি আমার পড়ার টেবিলের সামনে টাঙ্গানো ছিলো, আমার মানসিকতা আশপাশের সবার মতোই ছিলো, সবাই পত্রিকা পড়ে আর শুনে যা মনে করে তেমন।
একদিন রিকশায় এক বন্ধু সহ যাচ্ছি। সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের কাছে গিয়ে দেখি রাস্তা বন্ধ, রিকশা থেকে নেমে যেতে হলো। মাঠ আর রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ, গাড়ি যাওয়ার রাস্তা নেই। সাঈদী বক্তব্য রাখছিলেন, তখনকার সরকার তাঁর সিলেট আসা ঠেকাতে পারেনি।
নেমে আমরা হেটে হেটে ভীড়ের জায়গাটা পার হচ্ছি, মাইকে তাঁর কথা শুনা যাচ্ছিলো। হঠাৎ যেন আমার সমস্ত অনুভুতি একটা ধাক্কা খেলো। এ মানুষটা কি বলছে? কোরআন শরীফের কি চমৎকার এবং সহজবোধ্য বর্ণনা! কিন্তু তখন শয়তান আমাকে ওখানে বেশিক্ষণ থাকার সুযোগ দেয়নি। সাথে থাকা বন্ধুর তাড়াহুড়োয় আমরা জায়গাটা পেরিয়ে চলে আসি। আমি চলে আসলাম, কিন্তু সাঈদীর অল্প শোনা কথাগুলোই আমার মাথার ভেতর অনুরনণ হতে থাকলো। আমি ভাবলাম, কোন না কোন একদিন উনার বক্তব্য আমি শোনব।
এ ঘটনার তিন বছর পর একদিন আমি সময় পেয়ে ভাবলাম শুনে আসি সাঈদী কি বলেন।নিজ ইচ্ছাতেই একাকী উনার এক তাফসীর মাহফিলে গেলাম, কথা শোনার জন্য, বুঝে দেখার জন্য ঘটনা কি! একসময় পরম আশ্চর্যের সাথে শুনতে থাকলাম চিরপরিচিত সুরা ফাতেহার ব্যাখ্যা তাফসীর। কি চমৎকারই না ছিলো উনার সরল বর্ণনা। জটিল কোন বিষয়কে সাধারণ মানুষের একদম বোধগম্য সহজভাবে বলার সৌন্দর্য্য দেখে আমি হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম।
জাতির পিতার ছবিটা আমি সরিয়ে রাখলাম। আমার মনে হচ্ছিলো, ইসলাম নিয়ে আমার আরো ভালোভাবে জানা বুঝা দরকার।
জীবিকার তাগিদে ইংল্যান্ডে গত পাঁচ বছর ধরে চিকিৎসক হিসেবে আছি। যান্ত্রিক জীবনে দেশের সাথে প্রয়োজন ছাড়া তেমন যোগাযোগই নেই। তবুও মাঝে মাঝে কোথাও যখন মাওলানা সাঈদীর নাম কানে আসতো বা চোখে পড়তো, আমার স্মৃতিতে ভেসে উঠতো সুরা ফাতিহার তাফসীর শোনার সেই ঘটনা।
হায়! এমন মানুষকেও সরকার গ্রেফতার করে ধর্মঅবমাননার দায়ে! নি:সন্দেহে সর্বশক্তিমান আল্লাহ সব কিছুই দেখছেন। তিনি সর্বদ্রষ্টা। সাঈদী এবং তাঁর সাথের অন্যান্য মানুষগুলো, যারা নিজেরা ইসলাম চর্চা করে আর মানুষদের ইসলামের দিকে ডাকে, তাদেরকে কেন এ নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে তা তিনি সবচেয়ে ভালোই জানেন।
এখানে আসার আগে দেশে একটা সেমিনারে গিয়েছিলাম। মাওলানা সাঈদী এবং কবি গীতিকার আবু জাফর সে সেমিনারে বক্তা ছিলেন। আবু জাফর তার বক্তব্যের সময় বললেন “হে আল্লাহ! আপনি আমার আয়ুর ১০ টি বছর সাঈদীকে দিয়ে দিন। আমি দশ বছর সময়ে ইসলামের জন্য যা করতে পারবো, সাঈদী এ সময়ে তার হাজারগুণ সেবা করতে পারবে ন ইসলামকে”। এ কথা শুনে আমি সারপ্রাইজড হয়ে পড়েছিলাম।
এরপর সাঈদী তার বক্তব্য শুরু করেই বললেন “আবু জাফর ভাই। আপনার দশ বছর আয়ু আমাকে দান করার কোন প্রয়োজনই নেই।যদি আল্লাহ আমাকে অতিরিক্ত দশ বছর দেবার সিদ্ধান্ত নেন, তাকে কারো কাছ থেকেই ধার করতে হবে না। তিনি সর্বশক্তিমান”।
সাঈদীর গ্রেফতারের পর থেকে বারবার সেদিনের কথা মনে পড়ছে। আমি বিশ্বাস করি, ইসলামের জন্য কাজ করতে গিয়ে সাঈদী এবং তাঁর যে সহকর্মীরা গ্রেফতার হয়েছেন, তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন কিছুর ভয়েই ভীত নন।
আমি যখন মেইলটি লিখছি, আমার চোখ অশ্রুতে ভরে আসছে। বাংলাদেশ থেকে ছয়হাজার মাইল দুরে বিদেশে বসে দেশকে কলিজাতে স্থান দিয়েছি। আল্লাহর কাছে সমস্ত আকুতি দিয়ে প্রার্থণা করি, হে আল্লাহ। তাদেরকে তুমি সাহায্য করো এবং দীর্ঘজীবন দাও। যদি ইসলামের জন্য তাদের জীবনদান তুমি লিখে রাখো তকদীরের খাতায়, তাহলে তাদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউস দাও। মৃত্যুর পর চিরকালীন জীবনে আমাকে সেই পূণ্যবানদের সাথে রেখো হে আল্লাহ। মৃত্যুর পর হলেও আমি একবার বলতে চাই, আমার জীবনকে কোরআনের আলোয় আলোকিত করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমার পার্থিব জীবনে এতবড় অবদানের পরও আমি অক্ষম আপনার জন্য কিছু করতে পারিনি, ক্ষমা চাই”।
উনাদের জন্য দোয়া করে আমি মনের গভীর থেকে বলি ‘আমিন’। পৃথিবীতে কি আর কেউ আছে যিনি এ মজলুমদের জন্য দোয়ায় শামিল হবেন?
--------------------------------
মেইলটি সমাপ্ত। আমিও কায়মনোবাক্যে বলি, আমীন। ইয়া আল্লাহ, রাহমানুর রাহীম, আপনি আমাদেরকে আপনার পথে অবিচল থাকার ও আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের সামর্থ্য দিন। পার্থিব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করুন আমাদের, এছাড়া আমাদের আর কোন প্রাপ্তির আশা নেই।
এটি ইংল্যান্ডে প্রবাসী একজন ডাক্তারের ইমেইল, ইংলিশে লিখা এবং গ্রুপ মেইলে পাঠানো। মাওলানা সাঈদী এবং অন্যান্য জামায়াত নেতাদের গ্রেফতারের ঘটনায় তিনি তাঁর ব্যাক্তিগত মানবিক অনুভূতি জানিয়েছেন ইংলিশ মেইলটিকে আমি অনুবাদ করে সামহোয়ারে পোষ্ট করি। অনেক মন্তব্য আসে, অনেকেই পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথা বলেন। কিন্তু তথাকথিত নিরপেক্ষ কতৃপক্ষ সহ্য করতে পারেনি। কিছু গালিবাজ ব্লগার বলেন, এতে যুদ্ধাপরাধ বিচারকে প্রভাবিত করা হচ্ছে, মামলা করে সামহোয়ারকেই নিষিদ্ধ করা হবে। তারা আমার আইডিটাকে ব্যান করা হয়। সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয় আগের সব পোষ্ট সহ। কারণ?
আমারব্লগে পোষ্ট করি। পনের মিনিটের ভেতরেই আইডি ব্যান করা হয়। কারণ? নীতিমালা ভঙ্গ।
এ মেইলটিতে স্বাধীনতা বিরোধী কি আছে তা আমার বোধগম্য না। একজন রাজনৈতিক নেতা ও আলিমে দ্বীনের গ্রেফতারে ব্যাক্তিগত ক্ষোভপ্রকাশ, দু:খপ্রকাশ। অথচ পাঠকরা আলোড়িত হচ্ছিলো সুন্দর সৎ মানবিক স্বীকারোক্তিতে, এতেই তথাকথিত মুক্তমনারা আতংকিত হয়ে পড়ে। যুদ্ধাপরাধের বিচার বিরোধী কিংবা দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী কিছু তন্ন তন্ন করে খুঁজে পেলাম না। অথচ মেইলটি অনেকের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। সামহোয়ারে ব্যান করা এবং অনেকের মন্তব্য থেকে বুঝা যায়। ভদ্র ভাষায় সুন্দর ভাবে সত্য কথা বললে, তাতেই অন্যায়কারীদের অসহ্য যন্ত্রণার কারণ ঘটে। এর জন্য অভদ্র গালিবাজ হতে হয় না। সত্য সবসময়ই সুন্দর, এবং ভদ্র ব্যাবহারের কোন বিকল্প নেই। এরা কোন যুক্তি বুদ্ধির তোয়াক্কা করেনা, গায়ের জোরে মত প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
যাইহোক, লেখাটা যখন কণ্ঠমেলায় দিতে যাচ্ছি, ঠিক তার আগ মুহুর্তে দেখলাম সাপ্তাহিক সোনারবাংলাদেশ ডটকমের আজ শনিবার প্রকাশিত সংখ্যায় তারা এটি প্রকাশ করেছে। সম্ভবত সামহোয়ার থেকে নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে, কারণ মেইলটি ছিলো ইংলিশ এ। অনেক খুশী হয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু এখন অনেক বেশি পাঠক এটা পড়বে।
আমাদের সবারই যতবেশি সম্ভব লিখালিখি করার দরকার। ইন্টারনেট এখন মুক্ত প্রকাশের প্লাটফর্ম, অথচ আমরা এর কোন গুরুত্বই দিচ্ছি না, বরং ফেসবুক আর ইউটিউবে সময় নষ্ট করি। গুগলে যুদ্ধাপরাধ মুক্তিযুদ্ধ এসব লিখে সার্চ করলে হাজার হাজার পেজ আসে মিথ্যা তথ্যে ভরপুর। এগুলো এক দিনে হয়নি। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ব্রেনওয়াশড মানুষগুলো লিখেছে, এখন মিথ্যার বালুকণা জমতে জমতে পাহাড় হয়ে দাড়িয়েছে।
যাইহোক, বিপদে পড়লেই বিশ্বাসীরা আবার আল্লাহ তায়ালার বেশি কাছে ফিরে যায়। সুখের, স্বাচ্ছন্দ্যের দিন আমরা কাটিয়েছি, আনন্দ মুখরতায় ভুলে গিয়েছিলাম আমরা ইসলামী আন্দোলনের মানুষ। যাদের জীবন হওয়া উচিত অন্যরকম, হওয়া উচিত ইসলামের জন্য নিবেদিত। একমাত্র ভরসা এই যে আল্লাহ নিশ্চয় ক্ষমাশীল।
----------------------------------------
১৯৮৮ সালের কথা, সিলেটে সাঈদী-বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে। আমি তখন সিলেট এমসি কলেজের ইন্টারমিডিয়েটে পড়া ছাত্র। আর দশজনের মতো স্বাভাবিকভাবে আমিও জামাত শিবির এবং সাঈদীকে চরমভাবে ঘৃণা করতাম। জাতির পিতার পোট্রেট ছবি আমার পড়ার টেবিলের সামনে টাঙ্গানো ছিলো, আমার মানসিকতা আশপাশের সবার মতোই ছিলো, সবাই পত্রিকা পড়ে আর শুনে যা মনে করে তেমন।
একদিন রিকশায় এক বন্ধু সহ যাচ্ছি। সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের কাছে গিয়ে দেখি রাস্তা বন্ধ, রিকশা থেকে নেমে যেতে হলো। মাঠ আর রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ, গাড়ি যাওয়ার রাস্তা নেই। সাঈদী বক্তব্য রাখছিলেন, তখনকার সরকার তাঁর সিলেট আসা ঠেকাতে পারেনি।
নেমে আমরা হেটে হেটে ভীড়ের জায়গাটা পার হচ্ছি, মাইকে তাঁর কথা শুনা যাচ্ছিলো। হঠাৎ যেন আমার সমস্ত অনুভুতি একটা ধাক্কা খেলো। এ মানুষটা কি বলছে? কোরআন শরীফের কি চমৎকার এবং সহজবোধ্য বর্ণনা! কিন্তু তখন শয়তান আমাকে ওখানে বেশিক্ষণ থাকার সুযোগ দেয়নি। সাথে থাকা বন্ধুর তাড়াহুড়োয় আমরা জায়গাটা পেরিয়ে চলে আসি। আমি চলে আসলাম, কিন্তু সাঈদীর অল্প শোনা কথাগুলোই আমার মাথার ভেতর অনুরনণ হতে থাকলো। আমি ভাবলাম, কোন না কোন একদিন উনার বক্তব্য আমি শোনব।
এ ঘটনার তিন বছর পর একদিন আমি সময় পেয়ে ভাবলাম শুনে আসি সাঈদী কি বলেন।নিজ ইচ্ছাতেই একাকী উনার এক তাফসীর মাহফিলে গেলাম, কথা শোনার জন্য, বুঝে দেখার জন্য ঘটনা কি! একসময় পরম আশ্চর্যের সাথে শুনতে থাকলাম চিরপরিচিত সুরা ফাতেহার ব্যাখ্যা তাফসীর। কি চমৎকারই না ছিলো উনার সরল বর্ণনা। জটিল কোন বিষয়কে সাধারণ মানুষের একদম বোধগম্য সহজভাবে বলার সৌন্দর্য্য দেখে আমি হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম।
জাতির পিতার ছবিটা আমি সরিয়ে রাখলাম। আমার মনে হচ্ছিলো, ইসলাম নিয়ে আমার আরো ভালোভাবে জানা বুঝা দরকার।
জীবিকার তাগিদে ইংল্যান্ডে গত পাঁচ বছর ধরে চিকিৎসক হিসেবে আছি। যান্ত্রিক জীবনে দেশের সাথে প্রয়োজন ছাড়া তেমন যোগাযোগই নেই। তবুও মাঝে মাঝে কোথাও যখন মাওলানা সাঈদীর নাম কানে আসতো বা চোখে পড়তো, আমার স্মৃতিতে ভেসে উঠতো সুরা ফাতিহার তাফসীর শোনার সেই ঘটনা।
হায়! এমন মানুষকেও সরকার গ্রেফতার করে ধর্মঅবমাননার দায়ে! নি:সন্দেহে সর্বশক্তিমান আল্লাহ সব কিছুই দেখছেন। তিনি সর্বদ্রষ্টা। সাঈদী এবং তাঁর সাথের অন্যান্য মানুষগুলো, যারা নিজেরা ইসলাম চর্চা করে আর মানুষদের ইসলামের দিকে ডাকে, তাদেরকে কেন এ নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে তা তিনি সবচেয়ে ভালোই জানেন।
এখানে আসার আগে দেশে একটা সেমিনারে গিয়েছিলাম। মাওলানা সাঈদী এবং কবি গীতিকার আবু জাফর সে সেমিনারে বক্তা ছিলেন। আবু জাফর তার বক্তব্যের সময় বললেন “হে আল্লাহ! আপনি আমার আয়ুর ১০ টি বছর সাঈদীকে দিয়ে দিন। আমি দশ বছর সময়ে ইসলামের জন্য যা করতে পারবো, সাঈদী এ সময়ে তার হাজারগুণ সেবা করতে পারবে ন ইসলামকে”। এ কথা শুনে আমি সারপ্রাইজড হয়ে পড়েছিলাম।
এরপর সাঈদী তার বক্তব্য শুরু করেই বললেন “আবু জাফর ভাই। আপনার দশ বছর আয়ু আমাকে দান করার কোন প্রয়োজনই নেই।যদি আল্লাহ আমাকে অতিরিক্ত দশ বছর দেবার সিদ্ধান্ত নেন, তাকে কারো কাছ থেকেই ধার করতে হবে না। তিনি সর্বশক্তিমান”।
সাঈদীর গ্রেফতারের পর থেকে বারবার সেদিনের কথা মনে পড়ছে। আমি বিশ্বাস করি, ইসলামের জন্য কাজ করতে গিয়ে সাঈদী এবং তাঁর যে সহকর্মীরা গ্রেফতার হয়েছেন, তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন কিছুর ভয়েই ভীত নন।
আমি যখন মেইলটি লিখছি, আমার চোখ অশ্রুতে ভরে আসছে। বাংলাদেশ থেকে ছয়হাজার মাইল দুরে বিদেশে বসে দেশকে কলিজাতে স্থান দিয়েছি। আল্লাহর কাছে সমস্ত আকুতি দিয়ে প্রার্থণা করি, হে আল্লাহ। তাদেরকে তুমি সাহায্য করো এবং দীর্ঘজীবন দাও। যদি ইসলামের জন্য তাদের জীবনদান তুমি লিখে রাখো তকদীরের খাতায়, তাহলে তাদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউস দাও। মৃত্যুর পর চিরকালীন জীবনে আমাকে সেই পূণ্যবানদের সাথে রেখো হে আল্লাহ। মৃত্যুর পর হলেও আমি একবার বলতে চাই, আমার জীবনকে কোরআনের আলোয় আলোকিত করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমার পার্থিব জীবনে এতবড় অবদানের পরও আমি অক্ষম আপনার জন্য কিছু করতে পারিনি, ক্ষমা চাই”।
উনাদের জন্য দোয়া করে আমি মনের গভীর থেকে বলি ‘আমিন’। পৃথিবীতে কি আর কেউ আছে যিনি এ মজলুমদের জন্য দোয়ায় শামিল হবেন?
--------------------------------
মেইলটি সমাপ্ত। আমিও কায়মনোবাক্যে বলি, আমীন। ইয়া আল্লাহ, রাহমানুর রাহীম, আপনি আমাদেরকে আপনার পথে অবিচল থাকার ও আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের সামর্থ্য দিন। পার্থিব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করুন আমাদের, এছাড়া আমাদের আর কোন প্রাপ্তির আশা নেই।
এটি ইংল্যান্ডে প্রবাসী একজন ডাক্তারের ইমেইল, ইংলিশে লিখা এবং গ্রুপ মেইলে পাঠানো। মাওলানা সাঈদী এবং অন্যান্য জামায়াত নেতাদের গ্রেফতারের ঘটনায় তিনি তাঁর ব্যাক্তিগত মানবিক অনুভূতি জানিয়েছেন ইংলিশ মেইলটিকে আমি অনুবাদ করে সামহোয়ারে পোষ্ট করি। অনেক মন্তব্য আসে, অনেকেই পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথা বলেন। কিন্তু তথাকথিত নিরপেক্ষ কতৃপক্ষ সহ্য করতে পারেনি। কিছু গালিবাজ ব্লগার বলেন, এতে যুদ্ধাপরাধ বিচারকে প্রভাবিত করা হচ্ছে, মামলা করে সামহোয়ারকেই নিষিদ্ধ করা হবে। তারা আমার আইডিটাকে ব্যান করা হয়। সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয় আগের সব পোষ্ট সহ। কারণ?
Dear blogger,
your post (ইংল্যান্ড থেকে একজন সাঈদী ভক্তের ইমেইল) have been deleted due to violation of the blog rules. please do not republish this writing again on the blog or we will be forced to ban you from the blog.
4i. sovereignty and freedom of bangladesh.
৪ঞ .বাংলাদেশ অথবা যে কোন স্বীকৃত জাতি বা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইতিহাস, ধর্ম বিষয়ক সত্যকে অস্বীকার করে, বিরুদ্ধাচারণ করে, অসম্মান করে অথবা সত্যের অপলাপ বা অর্থহীন পোস্ট মুছে ফেলা হতে পারে এবং ব্লগারের ব্লগিং সুবিধা সাময়িক অথবা স্থায়ীভাবে স্থগিত কিংবা বাতিল করা হতে পারে ।
আমারব্লগে পোষ্ট করি। পনের মিনিটের ভেতরেই আইডি ব্যান করা হয়। কারণ? নীতিমালা ভঙ্গ।
“আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী কোনো প্রচারণা আমারব্লগ ডট কমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। উল্লেখ্য যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপরীত যে কোনো প্রচারণা আমারব্লগ ডট কমে কঠোরভাবে দমন করা হবে।”
এ মেইলটিতে স্বাধীনতা বিরোধী কি আছে তা আমার বোধগম্য না। একজন রাজনৈতিক নেতা ও আলিমে দ্বীনের গ্রেফতারে ব্যাক্তিগত ক্ষোভপ্রকাশ, দু:খপ্রকাশ। অথচ পাঠকরা আলোড়িত হচ্ছিলো সুন্দর সৎ মানবিক স্বীকারোক্তিতে, এতেই তথাকথিত মুক্তমনারা আতংকিত হয়ে পড়ে। যুদ্ধাপরাধের বিচার বিরোধী কিংবা দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী কিছু তন্ন তন্ন করে খুঁজে পেলাম না। অথচ মেইলটি অনেকের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। সামহোয়ারে ব্যান করা এবং অনেকের মন্তব্য থেকে বুঝা যায়। ভদ্র ভাষায় সুন্দর ভাবে সত্য কথা বললে, তাতেই অন্যায়কারীদের অসহ্য যন্ত্রণার কারণ ঘটে। এর জন্য অভদ্র গালিবাজ হতে হয় না। সত্য সবসময়ই সুন্দর, এবং ভদ্র ব্যাবহারের কোন বিকল্প নেই। এরা কোন যুক্তি বুদ্ধির তোয়াক্কা করেনা, গায়ের জোরে মত প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
যাইহোক, লেখাটা যখন কণ্ঠমেলায় দিতে যাচ্ছি, ঠিক তার আগ মুহুর্তে দেখলাম সাপ্তাহিক সোনারবাংলাদেশ ডটকমের আজ শনিবার প্রকাশিত সংখ্যায় তারা এটি প্রকাশ করেছে। সম্ভবত সামহোয়ার থেকে নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে, কারণ মেইলটি ছিলো ইংলিশ এ। অনেক খুশী হয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু এখন অনেক বেশি পাঠক এটা পড়বে।
আমাদের সবারই যতবেশি সম্ভব লিখালিখি করার দরকার। ইন্টারনেট এখন মুক্ত প্রকাশের প্লাটফর্ম, অথচ আমরা এর কোন গুরুত্বই দিচ্ছি না, বরং ফেসবুক আর ইউটিউবে সময় নষ্ট করি। গুগলে যুদ্ধাপরাধ মুক্তিযুদ্ধ এসব লিখে সার্চ করলে হাজার হাজার পেজ আসে মিথ্যা তথ্যে ভরপুর। এগুলো এক দিনে হয়নি। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ব্রেনওয়াশড মানুষগুলো লিখেছে, এখন মিথ্যার বালুকণা জমতে জমতে পাহাড় হয়ে দাড়িয়েছে।
যাইহোক, বিপদে পড়লেই বিশ্বাসীরা আবার আল্লাহ তায়ালার বেশি কাছে ফিরে যায়। সুখের, স্বাচ্ছন্দ্যের দিন আমরা কাটিয়েছি, আনন্দ মুখরতায় ভুলে গিয়েছিলাম আমরা ইসলামী আন্দোলনের মানুষ। যাদের জীবন হওয়া উচিত অন্যরকম, হওয়া উচিত ইসলামের জন্য নিবেদিত। একমাত্র ভরসা এই যে আল্লাহ নিশ্চয় ক্ষমাশীল।
Labels:
arrest,
Bangladesh,
Islam,
Jamaat,
police torture
Subscribe to:
Posts (Atom)