Tuesday, July 27, 2010

‘আন্তর্জাতিক’ অপরাধ ট্রাইবুনাল: আন্ধা ছাওয়ালের নাম পদ্মলোচন!!মাইরি বলচি দাদার বলিহারি বুদ্দি

গত দুই তিন দিনের পত্রিকায় দেখা যাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত জামায়াত নেতাদেরকে মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধের জন্য আইনীভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ছেলে ভুলানো 'ধর্ম অবমাননা'র মামলায় তিনজনকে প্রথমে গ্রেফতার করা হলো, তারপর পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে আবারো মামলা এবং রিমান্ড। নতুন এ অভিযোগ টা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সুন্দর একটা অভিযোগ, পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ। এর পর পল্লবী আর কোথায় কোথায় একাত্তর সালে ঘটা কিছু হত্যাকান্ডের অভিযোগ আনা হলো, আরো মামলা হলো। সর্বশেষ, 'আন্তর্জাতিক' অপরাধ ট্রাইবুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলা।


আ্ওয়ামী লীগ বেশ ভালো খেলে যাচ্ছে। ফাকা মাঠে গোল দেয়ার সুন্দর খেলা উপভোগ করছে সবাই। টানটান উত্তেজনার এ খেলায় মিডিয়া, পত্র পত্রিকা, টিভি চ্যানেল, কলামিষ্টরা রেফারির ভূমিকা পালন করছে দক্ষতার সাথে। গরুকে প্রথমে লেজে মোচড় দেয়া হলো, তারপর দুইটা হালকা বাড়ি, পরে কয়েকটা শক্ত বাড়ি এবং এখন গলায় দড়ি পড়ানোর ব্যাবস্থা হচ্ছে। অন্যপক্ষ্ও চেষ্টা করে যাচ্ছে কোনরকমে টিকে থাকার। দুইটা চড় খেয়ে 'আমরা কিন্তু মাইন্ড করলাম' বলে তারা বুঝালো কাজটা অন্যায় হয়েছে। এখন পশ্চাতদেশে একটা লাথি খেয়ে বলবে 'আপনারা অনেক বাড়াবাড়ি করছেন কিন্তু'


আসলে, দীর্ঘদিন যাবত লুকোচুরি খেলতে খেলতে এই প্রতিক্রিয়া করে বেচে থাকার অভ্যেসটা দৃঢ় হয়ে গেছে। এই সুযোগে দাদাবাবুর চামুন্ডাদের পোয়াবারো। বহুদিন ধরে খেলানো হয়েছে, কয়েক দশক ধরে খেলিয়ে মাছ ধরার মজাই আলাদা। এই মজা নিতে তারা এখন বড়শি নামিয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রাইমস ট্রাইবুনাল এর। ভাবছিলাম, 'আন্তর্জাতিক' হলো কিভাবে? এখানে কি বিচারক লয়ার এরা জাতিসংঘ অথবা বিদেশী কোন রাষ্ট্র থেকে আসা? দেখলাম, তা না। তখন একজন সুহৃদ জ্ঞানী জানালেন, এটা আসলে 'আন্তর্জাতিক অপরাধ' আদালত। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ না কি 'আন্তর্জাতিক অপরাধ'। বাহ বাহ, এমন জ্ঞান লাভ হ্ওয়াতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়লাম। সুন্দর, বেশ সুবিধাজনক ব্যাখ্যা। একাত্তর সালে দুই ভূখন্ড এক দেশ ছিলো, তখনকার কোন অপরাধ যদি থেকেও থাকে, তা আন্তর্জাতিক হলো কিভাবে, তা অবশ্য আমার বুঝে আসে না। আর তাই যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ হয়, শেখ হাসিনার লগি বৈঠা নিয়ে মানুষ হত্যার প্ররোচণা এবং নেতৃত্বদান অথবা শেখ মুজিবের হাজার হাজার বিরোধী কর্মী হত্যা্ও তো আন্তর্জাতিক অপরাধ। ইন ফ্যাক্ট, পাশের বাড়ির গরীব বিধবার জমি দখল করতে যদি আমি চেষ্টা করি, মানবতার বিরুদ্ধে তা্ও তো আন্তর্জাতিক অপরাধ হয়ে যাবে এ নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী।


তথ্যমাধ্যম আর সাংবাদিকদের একতরফা প্রচারণার কারণে জামায়াত নেতাদের কাঁধে একাত্তরের অপরাধের দায়ভার এখন মানুষ অকাট্যভাবে বিশ্বাস করে। অন্যদিকে একাত্তর সালে পত্রপত্রিকা ঘাটলে দেখা যায়, তখনকার জামায়াত নেতা মওলানা আবদুর রহীম শান্তিকমিটিতে যোগ দেননি, তাই এমনকি তার বাসায় আর্মি রেইড পর্যন্ত করে। অন্য প্রধান নেতা প্রায় সবাইই শান্তিকমিটিতে ছিলেন। এইসব ঐতিহাসিক সত্যকে ক্যামোফ্লেজ হিসেবে ব্যাবহার করে আ্ওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক এবং তাদের দাদাদের ভূ-অর্থনৈতিক স্বার্থ আদায়ের জন্য না করা অপরাধও জামায়াত নেতাদের ঘাড়ে চাপাচ্ছে।


একদিকে কিছু ঐতিহাসিক বাস্তবতা, অন্যদিকে লীগের অন্ধ বুদ্ধিজীবি আর জ্ঞানপাপীদের পরিকল্পিত ক্যাঙ্গারু ট্রাইবুনাল, যেখানে রায় হবে ট্রাইবুনালের বাইরের সিদ্ধান্তে এটা মোটামোটি পরিস্কার, এমন অবস্থাত্ওে যদি জামায়াত নেতারা প্রতিক্রিয়া করে যান তাহলে তাদের জন্য দু:খ করেও লাভ নেই, সময় অপচয়। অন্যের আঁকা ছকে না খেলে নিজেদের পরিকল্পনা থাকা দরকার খেলার জন্য। শেখ হাসিনার, অথবা সত্যিকার অর্থে স্বার্থের অন্ধ গোলাম, গোলাম আরিফ টিপুর মতো লোকরা কি রায় বের করে আনবে এটা পরিস্কার। জাহানারা ইমাম আর শাহরিয়ার কবিররা নাটক করে এসবের জন্য মানুষের সাইকলজিকে প্রস্তুত করেছে। এমনকি দুইহাজার দশে সম্ভব না হলে দুই হাজার ত্রিশে হলেও আবার এই নাটক চাঙ্গা করা হবে। বর্তমান জামায়াত নেতারা বেঁচে না থাকলে তাদের উত্তরসূরীদেরকে নব্য রাজাকার বলে ঝুলানো হবে।

সুতরাং এখনি সময় এসপার ওসপার কিছু করার। অথবা সে সময় হয়তো কখনো আসবে না। দাদাদের চক্রান্তে যখন তারা 'আন্তর্জাতিক' অপরাধ ট্রাইবুনাল নাম দিয়ে এটাকে গ্রহণযোগ্যতা দিতেই চাচ্ছে, তাহলে জামায়াত কেন সত্যিকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে যাবার দাবী করবে না? বাংলাদেশের বিচার ব্যাবস্থার উপর আস্থা রাখা যায় না, এটা প্রমাণিত সত্য। সুতরাং সব প্রমাণ ডকুমেন্টেড করে জাতিসংঘের কাছে শক্ত দাবী জানাতে পারে তারা, পৃথিবীর সর্দার আমেরিকার কাছে যেতে পারে, তাহলে বিষয়টা নিষ্পত্তিই হোক। হেগ এর আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল এর মতো একটা ট্রাইবুনাল করুক জাতিসংঘ, তারপর সেখানে নিষ্পত্তি হোক এ বিষয়টা। যুদ্ধপরাধ আর একাত্তর শুনতে শুনতে আমরা বিরক্ত। এ ঝামেলা মিটানোর মতো যোগ্যতা আমাদের নেই। নির্বাচন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত সব কিছুতে আমরা বিদেশী দুতাবাসে দৌড়াদৌড়ি করি, সুতরাং এত বড় ইস্যুতে নয় কেন? সমস্ত শক্তি নিয়োগ করা দরকার, যেন সত্যিকার আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে যথার্থ শুনানীর পর আন্তর্জাতিক বিচারকরা রায় দেন।


জামায়াতের নেতারা যেমন গোয়ার ধরণের, এ কথা শুনলে আবার বলে বসতে পারে, এমন দাবী জানালে তো একাত্তরে কোন অপরাধ হয়েছে সে প্রচারণাকেই স্বীকৃতি দেয়া হয়ে যায়। আমরা তো কোন দোষ করিনাই, আমরা কেন আন্তর্জাতিক আদালতে যাবার দাবী জানাবো। কেউ যদি এমন বলেন, তাহলে উনাকে আমার পক্ষ থেকে ব্যাক্তিগত অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা থাকলো। তার পরিবারে যে শিশুটি জন্ম নেবে তার চেহারার সাথে স্পিডি গঞ্জালেসের চেহারার মিলের বিষয়ে আমরা আজকে আর কথা না বলি। পর্যাপ্ত মুড়ি খান। আজকে আমার আর টাইম নাই।