Showing posts with label যুদ্ধাপরাধী. Show all posts
Showing posts with label যুদ্ধাপরাধী. Show all posts

Tuesday, July 27, 2010

‘আন্তর্জাতিক’ অপরাধ ট্রাইবুনাল: আন্ধা ছাওয়ালের নাম পদ্মলোচন!!মাইরি বলচি দাদার বলিহারি বুদ্দি

গত দুই তিন দিনের পত্রিকায় দেখা যাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত জামায়াত নেতাদেরকে মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধের জন্য আইনীভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ছেলে ভুলানো 'ধর্ম অবমাননা'র মামলায় তিনজনকে প্রথমে গ্রেফতার করা হলো, তারপর পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে আবারো মামলা এবং রিমান্ড। নতুন এ অভিযোগ টা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সুন্দর একটা অভিযোগ, পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ। এর পর পল্লবী আর কোথায় কোথায় একাত্তর সালে ঘটা কিছু হত্যাকান্ডের অভিযোগ আনা হলো, আরো মামলা হলো। সর্বশেষ, 'আন্তর্জাতিক' অপরাধ ট্রাইবুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলা।


আ্ওয়ামী লীগ বেশ ভালো খেলে যাচ্ছে। ফাকা মাঠে গোল দেয়ার সুন্দর খেলা উপভোগ করছে সবাই। টানটান উত্তেজনার এ খেলায় মিডিয়া, পত্র পত্রিকা, টিভি চ্যানেল, কলামিষ্টরা রেফারির ভূমিকা পালন করছে দক্ষতার সাথে। গরুকে প্রথমে লেজে মোচড় দেয়া হলো, তারপর দুইটা হালকা বাড়ি, পরে কয়েকটা শক্ত বাড়ি এবং এখন গলায় দড়ি পড়ানোর ব্যাবস্থা হচ্ছে। অন্যপক্ষ্ও চেষ্টা করে যাচ্ছে কোনরকমে টিকে থাকার। দুইটা চড় খেয়ে 'আমরা কিন্তু মাইন্ড করলাম' বলে তারা বুঝালো কাজটা অন্যায় হয়েছে। এখন পশ্চাতদেশে একটা লাথি খেয়ে বলবে 'আপনারা অনেক বাড়াবাড়ি করছেন কিন্তু'


আসলে, দীর্ঘদিন যাবত লুকোচুরি খেলতে খেলতে এই প্রতিক্রিয়া করে বেচে থাকার অভ্যেসটা দৃঢ় হয়ে গেছে। এই সুযোগে দাদাবাবুর চামুন্ডাদের পোয়াবারো। বহুদিন ধরে খেলানো হয়েছে, কয়েক দশক ধরে খেলিয়ে মাছ ধরার মজাই আলাদা। এই মজা নিতে তারা এখন বড়শি নামিয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রাইমস ট্রাইবুনাল এর। ভাবছিলাম, 'আন্তর্জাতিক' হলো কিভাবে? এখানে কি বিচারক লয়ার এরা জাতিসংঘ অথবা বিদেশী কোন রাষ্ট্র থেকে আসা? দেখলাম, তা না। তখন একজন সুহৃদ জ্ঞানী জানালেন, এটা আসলে 'আন্তর্জাতিক অপরাধ' আদালত। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ না কি 'আন্তর্জাতিক অপরাধ'। বাহ বাহ, এমন জ্ঞান লাভ হ্ওয়াতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়লাম। সুন্দর, বেশ সুবিধাজনক ব্যাখ্যা। একাত্তর সালে দুই ভূখন্ড এক দেশ ছিলো, তখনকার কোন অপরাধ যদি থেকেও থাকে, তা আন্তর্জাতিক হলো কিভাবে, তা অবশ্য আমার বুঝে আসে না। আর তাই যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ হয়, শেখ হাসিনার লগি বৈঠা নিয়ে মানুষ হত্যার প্ররোচণা এবং নেতৃত্বদান অথবা শেখ মুজিবের হাজার হাজার বিরোধী কর্মী হত্যা্ও তো আন্তর্জাতিক অপরাধ। ইন ফ্যাক্ট, পাশের বাড়ির গরীব বিধবার জমি দখল করতে যদি আমি চেষ্টা করি, মানবতার বিরুদ্ধে তা্ও তো আন্তর্জাতিক অপরাধ হয়ে যাবে এ নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী।


তথ্যমাধ্যম আর সাংবাদিকদের একতরফা প্রচারণার কারণে জামায়াত নেতাদের কাঁধে একাত্তরের অপরাধের দায়ভার এখন মানুষ অকাট্যভাবে বিশ্বাস করে। অন্যদিকে একাত্তর সালে পত্রপত্রিকা ঘাটলে দেখা যায়, তখনকার জামায়াত নেতা মওলানা আবদুর রহীম শান্তিকমিটিতে যোগ দেননি, তাই এমনকি তার বাসায় আর্মি রেইড পর্যন্ত করে। অন্য প্রধান নেতা প্রায় সবাইই শান্তিকমিটিতে ছিলেন। এইসব ঐতিহাসিক সত্যকে ক্যামোফ্লেজ হিসেবে ব্যাবহার করে আ্ওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক এবং তাদের দাদাদের ভূ-অর্থনৈতিক স্বার্থ আদায়ের জন্য না করা অপরাধও জামায়াত নেতাদের ঘাড়ে চাপাচ্ছে।


একদিকে কিছু ঐতিহাসিক বাস্তবতা, অন্যদিকে লীগের অন্ধ বুদ্ধিজীবি আর জ্ঞানপাপীদের পরিকল্পিত ক্যাঙ্গারু ট্রাইবুনাল, যেখানে রায় হবে ট্রাইবুনালের বাইরের সিদ্ধান্তে এটা মোটামোটি পরিস্কার, এমন অবস্থাত্ওে যদি জামায়াত নেতারা প্রতিক্রিয়া করে যান তাহলে তাদের জন্য দু:খ করেও লাভ নেই, সময় অপচয়। অন্যের আঁকা ছকে না খেলে নিজেদের পরিকল্পনা থাকা দরকার খেলার জন্য। শেখ হাসিনার, অথবা সত্যিকার অর্থে স্বার্থের অন্ধ গোলাম, গোলাম আরিফ টিপুর মতো লোকরা কি রায় বের করে আনবে এটা পরিস্কার। জাহানারা ইমাম আর শাহরিয়ার কবিররা নাটক করে এসবের জন্য মানুষের সাইকলজিকে প্রস্তুত করেছে। এমনকি দুইহাজার দশে সম্ভব না হলে দুই হাজার ত্রিশে হলেও আবার এই নাটক চাঙ্গা করা হবে। বর্তমান জামায়াত নেতারা বেঁচে না থাকলে তাদের উত্তরসূরীদেরকে নব্য রাজাকার বলে ঝুলানো হবে।

সুতরাং এখনি সময় এসপার ওসপার কিছু করার। অথবা সে সময় হয়তো কখনো আসবে না। দাদাদের চক্রান্তে যখন তারা 'আন্তর্জাতিক' অপরাধ ট্রাইবুনাল নাম দিয়ে এটাকে গ্রহণযোগ্যতা দিতেই চাচ্ছে, তাহলে জামায়াত কেন সত্যিকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে যাবার দাবী করবে না? বাংলাদেশের বিচার ব্যাবস্থার উপর আস্থা রাখা যায় না, এটা প্রমাণিত সত্য। সুতরাং সব প্রমাণ ডকুমেন্টেড করে জাতিসংঘের কাছে শক্ত দাবী জানাতে পারে তারা, পৃথিবীর সর্দার আমেরিকার কাছে যেতে পারে, তাহলে বিষয়টা নিষ্পত্তিই হোক। হেগ এর আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল এর মতো একটা ট্রাইবুনাল করুক জাতিসংঘ, তারপর সেখানে নিষ্পত্তি হোক এ বিষয়টা। যুদ্ধপরাধ আর একাত্তর শুনতে শুনতে আমরা বিরক্ত। এ ঝামেলা মিটানোর মতো যোগ্যতা আমাদের নেই। নির্বাচন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত সব কিছুতে আমরা বিদেশী দুতাবাসে দৌড়াদৌড়ি করি, সুতরাং এত বড় ইস্যুতে নয় কেন? সমস্ত শক্তি নিয়োগ করা দরকার, যেন সত্যিকার আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে যথার্থ শুনানীর পর আন্তর্জাতিক বিচারকরা রায় দেন।


জামায়াতের নেতারা যেমন গোয়ার ধরণের, এ কথা শুনলে আবার বলে বসতে পারে, এমন দাবী জানালে তো একাত্তরে কোন অপরাধ হয়েছে সে প্রচারণাকেই স্বীকৃতি দেয়া হয়ে যায়। আমরা তো কোন দোষ করিনাই, আমরা কেন আন্তর্জাতিক আদালতে যাবার দাবী জানাবো। কেউ যদি এমন বলেন, তাহলে উনাকে আমার পক্ষ থেকে ব্যাক্তিগত অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা থাকলো। তার পরিবারে যে শিশুটি জন্ম নেবে তার চেহারার সাথে স্পিডি গঞ্জালেসের চেহারার মিলের বিষয়ে আমরা আজকে আর কথা না বলি। পর্যাপ্ত মুড়ি খান। আজকে আমার আর টাইম নাই।

Friday, July 16, 2010

জামায়াত নেতাদের গ্রেফতার ও গণমাধ্যমের প্রত্যাশিত ভূমিকা

জামায়াত নেতাদের গ্রেফতার ঘটনায় পত্রপত্রিকার অবস্থা ও অবস্থান দেখে অবাক লাগছিলো। তাই কিছুমিছু একটা লিখে সোনারবাংলাদেশ আর নয়াদিগন্তে পাঠিয়েছিলাম। কয়েকদিনে সেখানে ছাপা না হওয়ায় পরে তা সেরীন ফেরদৌস আর শওকত আলী সাগরের অনলাইন পত্রিকা (কানাডা থেকে প্রকাশিত) নতুনদেশে মেইল করেছিলাম। লেখালেখির অভিজ্ঞতা না থাকাতে জানি না একই লেখা কয়েক জায়গায় পাঠানো এথিকালি ঠিক কি না। একাডেমিক জার্ণাল হলে ঠিক না, কিন্তু এটা তো পাবলিক মিডিয়া। যাইহোক, আজ দেখলাম নতুনদেশ এটা প্রকাশ করেছে। তাদেরকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ।

এটা অবশ্য ব্লগ হিসেবে পড়তে মজাদার হবে বলে মনে হচ্ছে না। আমার টুকটাক লেখালেখির অভ্যাসটা একটু অন্যরকম। একটানে লিখে ফেলি, কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও পরে এডিট করার জন্য পড়তে মন চায় না। এটা বদলানো দরকার। এখন আবার পড়ে মনে হচ্ছে একটু ভারী ভারী হয়ে গেছে। আরেকটু সহজ হলে ভালো হতো। যাইহোক, এখানেও জমা করে রাখি। শুরু-

-------------------

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতাদেরকে গ্রেফতার এবং দীর্ঘ সময় রিমান্ডের ঘটনায় সাধারণ জনগণ, রাজনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের বিভিন্ন রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ আনন্দিত, কেউ দু:খিত আবার অনেকেই নির্বিকার। এর মাঝে গণমাধ্যম, বিশেষ করে পত্রিকাগুলোর প্রতিক্রিয়া সচেতন পাঠকরা খেয়াল করেছে। নিরপেক্ষ সৎ সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা একটি ন্যায়পরায়ন সমাজ কাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে অনেকেই কিছুটা হতচকিত, জাতির বিবেক নামে অভিহিত সাংবাদিকদের কাছ থেকে যে নিরপেক্ষতা আশা করা হয়, তা উপেক্ষা করে কেউ কেউ যেন রাখঢাক ছাড়াই পক্ষপাতমূলক প্রচারে নেমে পড়েছেন।

পত্রিকায় কোন ঘটনার নিরপেক্ষ খবর থাকাটা প্রত্যাশিত। কিন্তু জামায়াত নেতাদের গ্রেফতারের পর অনেকে বর্ণনামূলক প্রতিবেদনের সিরিজ প্রকাশ করে চলেছেন, যার পরোক্ষ কিন্তু মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ জনগণের চিন্তা ও মতামতকে প্রভাবিত করা। পুলিশের হাজতখানায়, জেলখানায় এবং রিমান্ডে কি হচ্ছে তার রসালো বর্ণনা দেখা যাচ্ছে অনেক পত্রিকায়।

অপপ্রচার এবং ভিকটিমদের চরিত্রহননের এ উপায় উদ্ভাবন করেছিলো এক এগারো পরবর্তী সরকার। জনসাধারণের মতামতকে প্রভাবিত করার জন্য এবং মনযোগ সরিয়ে রাখার জন্য সে সময় রাজনীতিবিদদের স্বীকারোক্তি আর রগরগে কাহিনী প্রচার করা হতো পত্রিকাগুলোতে। পুলিশের হেফাজতে থানাহাজত বা রিমান্ডে কি হয়, তা যেমন সংবিধানসম্মত মানবিক হওয়া উচিত, একই সাথে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তার গোপনীয়তাও দরকারী। কিন্তু আদালতে বিচারের আগেই গণমাধ্যমে বিচার কাজ সেরে ফেলার জন্য পুলিশ-সাংবাদিকের সখ্যতার সুচনা করেছিলো ঐ সরকার। নির্বাচিত সরকারের সুযোগ ছিলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার, কিন্তু সেই পুরনো খারাপ নজীর বর্তমান সরকারও যেন অনুসরণ করে চলেছে। বরং তা এক কাঠি আগে বেড়ে আরো সরেস হয়েছে।

গত কয়েকদিনের রিপোর্ট গুলো পর্যালোচনা করলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পত্রিকাগুলোতে যে অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হচ্ছে পরদিন জিজ্ঞাসাবাদে সে প্রসঙ্গে পুলিশ জোর দিচ্ছে। জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খানের একটা স্বাভাবিক বক্তব্যকে বিকৃত করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যে প্রপাগান্ডার বন্যা শুরু হয়েছিলো, এখনো অনেক পত্রিকা সে প্রচারের ধারা থেকে বের হয়ে নিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

বিভিন্ন পত্রিকায় একটা ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যেখানে পুলিশ অফিসারের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, থানাহাজতে একজন খুনের আসামী আলী আহসান মুজাহিদকে গালিগালাজ করছেন, মুজাহিদও তার সাথে পাল্টা ঝগড়া করছেন। প্রতিবেদনের ভাষা এবং ভঙ্গিতে একজন সাধারণ পাঠকের মনে হতে পারে, জামায়াত নেতারা এতই ঘৃণিত যে কুখ্যাত অপরাধীরা তাদের চেয়ে ভালো মানুষ। মাওলানা সাঈদীর সাথে কেউ থাকতে অস্বীকার করাতে তাকে মহিলা হাজতখানার খালি কক্ষে রাখতে হয়েছে, এমন খবরও পত্রিকায় এসেছে। এর কদিন পরে আরেকটি রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে, যেখানে মাওলানা নিজামীর পেছনে নামায পড়তে অস্বীকৃতি জানিয়ে এক কয়েদী জেএমবি সদস্য কি কি গালিগালাজ করেছে তার বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রথমত, রাজনৈতিক দলের নেতারা সাধারণত অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা আর জনপ্রিয়তার পর নেতৃত্বের পর্যায়ে যান। তারা ভালোভাবে জানেন, সাধারণ মানুষের সাথে কিভাবে ব্যাবহার করতে হয়। তদুপরি, একটি আদর্শবাদী দলের নেতাদেরকে আরো উন্নত চরিত্রের হতে হয়। ইতিহাসে অনেক উদাহরণ আছে একজন ভালো মুসলিমের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখে অন্যায়কারী মানুষের বদলে যাওয়ার। ইসলাম চর্চাকারী এবং ইসলামী দলের নেতা পর্যায়ের এমন মানুষরা হাজতখানায় সমাজের অপরাধী অংশের সাথে হাতাহাতি ঝগড়া করছেন, এমনটা শুনলে একটু খটকা লাগে।

এ ধরণের বর্ণনামুলক খবরগুলো কয়েকটি পত্রিকায় একসাথে পড়লে কয়েকটা বিষয় চোখে পড়ে। কখনো কখনো দুই তিনটি পত্রিকার রিপোর্ট দেখা যায় হুবহু একই রকম, একই লেখা একের অধিক পত্রিকায় আসে। তখন পাঠকের এটা ধারণা করার যথেষ্ট অবকাশ থাকে যে এটা একটা সিন্ডিকেটেড প্রচারণা। আবার কখনো কখনো এর উল্টোটা ঘটে। যেমন হাজতখানায় নামাযে মাওলানা নিজামীর ইমামতি প্রসঙ্গে দুটি স্বনামধন্য পত্রিকার রিপোর্টে সম্পুর্ণ বিপরীত ঘটনা লেখা হয়েছে।

ছয় জুলাই জনকণ্ঠ রিপোর্ট করে,দাগী অপরাধী হাজতিরা কেউ জামায়াত নেতাদের পিছনে নামায পড়তে রাজি হয়নি। কেবলমাত্র জঙ্গী সংগঠন জেএমবির উঁচু পর্যায়ের নেতা সৈকত তাদের পেছনে নামায পড়তে রাজি হয়েছে। এ প্রতিবেদনে মাধ্যমে পাঠকের মনে যে বার্তা পৌছে তা হলো জামায়াত যারা করেন তারা এতই খারাপ যে তাদের পেছনে নামায পড়তেও সাধারণ মুসলিমরা আপত্তি জানাচ্ছেন। একইসাথে জামায়াতের সাথে জঙ্গী সন্ত্রাসী সংগঠন জেএমবির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে পর্দার আড়ালে, যা বুঝা যায় জেএমবি সদস্যদের তাদের সাথে একসাথে নামায পড়ার ঘটনাতে।

একই দিনে সমকাল রিপোর্ট করে, জেএমবি সদস্য সৈকত জামায়াত নেতা নিজামীর ইমামতিতে নামায পড়তে রাজি হয়নি। অন্য আসামীরা তাঁর সাথে নামাযে দাড়ালেও সৈকত তাকে ভন্ড ক্ষমতালোভী আখ্যা দিয়ে আলাদা নামায পড়ে। এখানে দেখা যায়, অপরাধী হাজতিরা মাওলানা নিজামীর সংস্পর্শে এসে নামায পড়ছেন। উপরন্তু, জামায়াত এবং জেএমবির আদশর্গত মৌলিক বিরোধ প্রকাশ করেছে এ বর্ণনাটি। দুটি ঘটনার যে কোন একটা সত্য হবে, একই সাথে এ দুটি ঘটনা সত্য হতে পারেনা।

তবে প্রতিবেদন দুটি সম্পুর্ণ বিপরীতধর্মী হলেও একটি বার্তা দুই প্রতিবেদনেই আছে। ঘটনাগুলো পড়ে পাঠক মনে করতে পারেন, বাংলাদেশের হাজতগুলো যেন এক একটি মসজিদ, হাজতিরা নিয়মিত ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল হয়ে হাজতে দিন কাটায়। এমন পরিবেশে যেখানে নিয়মিত নামায পড়তে পড়তে অপরাধী হাজতিরা পুণ্যের থলে ভারি করে ফেলছেন, তারা কুখ্যাত জামায়াত নেতাদের সাথে নামায পড়ে গুনাহগার হতে চাননি, বরং তাদের ইবাদতের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য পুলিশী হাজতে বসেও বয়কটে ঝাপিয়ে পড়েছেন। সেলুকাস, কি বিচিত্র অবস্থা।

এভাবে গণমাধ্যমগুলোর নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন, বিরোধী দল সংশ্লিষ্ট প্রায় প্রতিটি ঘটনায়। জামায়াত নেতারা গ্রেফতার হবার পরপরই খবর পরিবেশনের সময় একটি সংবাদমাধ্যমের ভাষা ছিলো বিকালে মহানগর মুখ্য হাকিম আদালত এক আদেশের পর মৌলবাদী রাজনৈতিক দলটির আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও নায়েবে আমির মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। জামায়াতে ইসলামী একটি বৈধ রাজনৈতিক দল। এভাবে কি সংবাদমাধ্যমগুলো প্রচলিত অন্য কোন রাজনৈতিক দলকে অভিহিত করে বা করবে? এধরণের ভাষার মাধ্যমে পাঠকদের মতকে ধীরে ধীরে প্রভাবিত করা হয়, একপর্যায়ে গিয়ে অবৈধ কোন কাজকেও পাঠক আর অস্বাভাবিক মনে করেনা। কিন্তু জাতির বিবেক গণমাধ্যমগুলো যদি এমন পক্ষপাতি ভূমিকা পালন করে, তাহলে কোন ধরণের অন্যায়ের শিকার একপক্ষের জন্য তা হবে মর্মান্তিক, এবং সামষ্টিক ভাবে দেশে সুবিচার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার বিরাট অন্তরায়।

এ ধরণের প্রচারণার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনগণের মনন-চিন্তায় ঘৃণার বিষ ঢুকিয়ে দেয়া। যে উদ্দেশ্য সাধনের বড় অস্ত্র হলো অপপ্রচার এবং আমরা তা আমাদের গণমাধ্যম থেকে আশা করিনা। জামায়াত নেতাদেরকে হাজতী অপরাধীরা ঘৃণা করেন এ কথা একজন পাঠকের অবচেতনে থেকে যাবে। নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার নীতি লংঘন করে অপপ্রচারের জন্য কেউ শাস্তি পাবেনা, কিন্তু ভিকটিম জামায়াত নেতাদের যে মানহানি হলো, তারও কোন প্রতিকার হবে না। চিন্তার বিষয় হলো, কোন অন্যায়ের প্রতিকার না করে যদি ক্রমাগত লালন করা হতে থাকে, সে অন্যায়ের স্বীকার ভবিষ্যতে প্রশ্রয়দানকারীরাও হন, ইতিহাসে এর অনেক উদাহরণ দেখা যায়।

বাংলাদেশ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একটি ক্রান্তিকাল পেরোচ্ছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখনও অনেক দূরের লক্ষ্য বলে মনে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের পক্ষপাত যেমন ভয়ংকর ক্ষতিকর হয়ে দাড়াবে, পক্ষান্তরে তাদের দায়িত্বশীল ভুমিকা দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মৌলিক একটি নিয়ামক হতে পারে।

http://www.notundesh.com/motmotantor_news4.html

Sunday, July 04, 2010

যুদ্ধাপরাধীর বিচারঃ আশায় থাকিও কাউয়া পাকিলে খাইবে গাউয়া

যারা জামাত শিবির পছন্দ করন না তারা জামাত শিবির কে ছাগু বলে ডাকেন। তাই সেই জামাত-শিবির বিরোধীদের সম্মানে ছাগলের গল্পদিয়েই শুরু করছি। যারা গ্রামে শৈশব কাটিয়ে বড় হয়েছেন তারা নিশ্চই জানেন ছাগলকে দিন শেষে খোয়াড়ে ফিরিয়ে আনতে কৃষক কে অনেক কসরত করতে হয়। তবে সব গুলো কসরতের মধ্যে অতি কমন একটা পদ্ধতি হলো, ছাগলের মুখের সামনে কাঠাল পাতা ধরে রেখে মুখে চুক চুক শব্দ করে কৃষক ধীরে ধীরে বাড়ীর দিকে যেতে থাকে আর ছাগল আর একটু এগুলেই পাবে এমন ভেবে কাঠাল পাতা খাবার লোভে খোয়াড় পর্যন্ত এগিয়ে যায়। এভাবেই ছাগল কে প্রতিনিয়ত বোকা বানিয়ে কৌশলে কৃষক তার সিদ্ধি হাসিল করে থাকে। ছাগল যদিও প্রতিদিন কৃষক কে বিশ্বাস করে ঠকে, কিন্তু কোন জ্ঞানী লোক এই সকল কৃষক বা জ্ঞানীলোক কে মোটেও গ্রহন যোগ্য মনে করেন না। যেমনটি করেন নি ইমাম বুখারী (র)। তিনি একদা একটি হাদীস সংগ্রহ করার জন্য অনেক দূর সফর করে যখন কাংখিত লোকটির কাছে পৌছে দেখলেন, লোকটি তার গৃহপালিত পশুকে অনুরুপ ভাবে ধোকা দিয়ে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে, তখন তিনি এই ভেবে চলে এলেন যে যদি কোন লোক অবলা প্রানীর সাথে এরকম ধোকাবাজী করতে পারে তাহলে সে কিভাবে মানুষের সাথে নৈতিক আচরন করবে? তাই তিনি হাদীসটি না নিয়েই ফিরে এলেন।

আমার দেশের জনসংখ্যার সর্বাধীক সংখ্যার লোকজন মনে হয় এই ছাগলের ভুমিকায় আর রাজনৈতিক দলগুলো ঐ কৃষকের ভুমিকায় আছে। ভোটের আগে জনগনের মুখের কাছে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের মুলা ঝুলিয়ে জনগনের মহামুল্যবান ভোটগুলো আদায় করে ক্ষমতার গদীতে বসেছে ক্ষমতাসীন দল। প্রায়তো দু বছর হয়ে গেল, সেই প্রথম থেকেই শুনছি তথাকথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমানাদি আছে। যদি থেকেই থাকে তাহলে বিচার কেন হচ্ছে না? কেনইবা ফালতু এবং হাস্যকর সব কারন দেখিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করতে হবে? সত্য সর্বদাই সরল সোজা এবং সন্দেহাতীত। সত্য বুঝাতে বা বুঝতে কোন কৌশল বা ছলনার আস্রয় নিতে হয়না। মিথ্যাকে সত্যে রুপান্তর করতে শত শত ব্যক্ষা দাড় করাতে হয়, প্রপাগান্ডা চালাতে হয়। কিন্তু সত্যের ক্ষেত্রে ব্যপারটা সম্পুর্ন সোজা ও সহজ। এখন যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমানাদি থেকেই থাকে তাহলে আর এত বাহানা কেন? মানুষ মাত্রই এই ব্যপারটা পরিষ্কার সবার কাছে। কিন্তু আমরা যে ছাগলের ভুমিকায় আছি তাই এই ব্যপারটা আমাদের মাথায় ঢুকছে না।

আর একটু ধৈর্য ধরুন বিচার হবে! আর একটু সময় দিন বিচার হবে!! এই বলে বলে অনেক দিনতো পার হল। কিন্তু আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে? তাহলে কি এই প্রশ্ন করার সময় এসে পড়েনি যে আওয়ামী লীগ কি আদও এই বিচার করবে কিনা? অথবা এতসকল বাহানার উদ্দেশ্য কি? তারাকি কাউকে কাউকে কোউশলে বিচার থেকে মুক্তি দিতে কাজ করছে। যদি তাই না হবে তাহলে কেন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের বিষয়টা মানবতা বিরোধীতে নেমে এলো? কেন প্রধান মন্ত্রিকে বলতে হবে যে দেশে কোন রাজাকার নেই? আর যদি রাজাকারই না থাকে যুদ্ধাপরাধী কিভাবে আসে?

ইতিহাসের দিকে তাকালেও কিছু যৌক্তিক প্রশ্নের কখনই সন্তোষজনক উত্তর পাবে না জাতি। যেই জামায়াত কে একতরফা ভাবে এই ব্যপারে অভিযুক্ত করা হয় সে জামায়াত তখন কতটুকু বিস্ত্রিত ছিল? সাত কোটি মানুষের তৎকালিন বাংলাদেশের কয়জন এই দলের সাথে জড়িত ছিল? একা জামায়াতের পক্ষে সারাদেশে রাজাকার আলবদরদেরকে নেতৃত্ব দেয়া কিভাবে সম্ভব হলো? ইতিহাস যদি মিথ্যে নাহয়ে থাকে তাহলে একথা নিশ্চই সত্য যে ভিবিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রামের মেম্বার, চেয়ারম্যান, ও মোড়লরাই রাজাকার আলবদরদের নেতৃত্বে ছিল। সেসময় জামায়াতের মত এরকম একটি ছোট দলে কি এই সব চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মোড়লরা ছিল? তাই যদি হত তাহলে তৎকালিন নির্বাচনে কেন জামায়াত কোন আসন পায়নি? কেন অধিকাংশ আসনে জামায়াতকে জামানত পর্যন্ত হারাতে হয়েছিল? যে দল নির্বাচনে জামানত হারায় সেদলের পক্ষে নিশ্চই লোকবল ছিল অতি নগন্য। তাহলে এই নগন্য সংখ্যক লোকবল দিয়ে কিভাবে সারাদেশে রাজাকারি করা সম্ভব হল? আসল কথা হল এইসব ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রামের মেম্বার, চেয়ারম্যান, ও মোড়লরা সবাই তৎকালিন জায়ান্ট দল গুলোর সদস্য ছিলেন। তারা স্বাধীনতার পর কোন কোন দল করছেন বা করেছিলেন সেই তথ্য উপাত্ত কেন জনগনের সামনে আনা হচ্ছে না?

এখন সারাদেশে যুদ্ধাপরাধী ইস্যুটা এত বেশী চাঙ্গা যা আর কোন সময় দেখা যায় নি। এমন এক সময়ে তৎকালিন বাম্পন্থি রাজনোইতিক দল গুলোর নেতিবাচক ভুমিকার কথা কেন কেউ বলতে নারাজ? এর কারন কি এই নয় যে ঐ বামরা এখন মহাজোট ও সরকারের অংশ?

এভাবে লিখতে থাকলে আরও অনেক প্রশ্ন মাথায় আসে আর তখন একটাই উপসংহার আসে আর তা হল যুদ্ধাপরাধীর বিচার সেটা শুধুই মুখের বুলি। এর নিষ্পত্তি কোন কালেও সম্ভব নয়। আর যদি কোন কালে এর বিচার হয়েই যায় তাহলে তা হবে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রহসনের বিচার। আজকে যারা অনেক আসায় বুক বেধে আছেন এই বিচার দেখে যাবার জন্য তারা হলেন চরম অপ্টিমেস্টিক বা চরম আশাবাদী। আপনাদের মুখের সামনে যে মুলা ঝুলানো আছে সেটা অধরাই থেকে যাবে। অন্তত লীগ সরকার এই কাজ সমাধা করবেনা ১০০% শিউর। তার পরও যাদের বিন্দুমাত্র আশা অবশিষ্ট আছে তাদেরকে এই পোস্টের শিরোনামটি যাবার আগে আরেকবার পড়ে নিতে অনুরোধ রইল।