Monday, July 05, 2010

ছাগুটা এখন খোয়ারে

ঘটনাটা একটা ‘ছাগু’কে নিয়ে। যারা ‘ছাগু’ আছেন, তারা চেতবেন না, আমাকে আগে ব্যাখা করতে দিন, তারপর নাহয় কথা বলুনতাহলে ঘটনাটা শুনুন যে কিভাবে একটা নিরীহ ‘ছাগু’কে খোয়ারে দিলাম। (হাঃ হাঃ হাঃ)

সেদিন আমি আর অন্তরা (আমার মেয়েবন্ধু) বিকেলে হাত ধরে হাঁটছিলাম, হঠাৎ আমাদের এলাকার আমীরুল ভাই এসে সালাম দিলেন। আরে বাপ, এই যুগে কেউ সালাম দেয় নাকি? যত্তসব! ওহ, বলে রাখা ভাল, আমীরুল ভাই আমার ১ ব্যাচ সিনিয়র, তিনি ‘ছাগু’তাই স্বভাবতই আমি তাঁকে দেখলে চৌদ্দহাত দুরত্ব বজায় রেখে চলি! যাই হোক, উনি এসে (সম্মান দিয়ে উনি-উনি করে বলছি, আমার সিনিয়র বলে কথা!) আমাকে পরে একটা সময় দেখা করতে বললেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম- “কাহিনী কি বস? কুনো সমস্যা অইছে নি?” উনি বললেন- “আরে না ভাই, অনেকদিন তেমনভাবে কথাবার্তা নাই, তাই বলছিলাম আসেন একটু আলাপ-সালাপ করি আর কি মনে মনে বললাম- “ছাগু হালার পোলা, তর লগে কিয়ের আলাপ?” তারপরেও মাথা ঠান্ডা করে বললাম- “কহন, কোনহানে দেহা করন লাগবো কইয়া ফালান।” উনি উত্তরে বললেন- “কাল আসরের নামাযের পর আমরা এলাকার মসজিদে দেখা করি? আপনি কি ফ্রি আছেন?” আমার মেজাজ চরম খারাপ হয়ে গেল। মনে-মনে বললাম- “হালায় পুরা ব্যাকডেইটেড! যদি কইত মোড়ের ফাস্ট ফুডের দোকান অথবা আমগো এলাকার ঝন্টুর চায়ের দোকান, তাও না হয় কথা আছিলহালায় আমারে মসজিদে যাইতে কয়, বলদা হালায়!” আমি নিজের মেজাজ অনেক কষ্টে ঠান্ডা রেখে মাথা নেড়ে ছোট্ট করে শুধু বললাম- “জ্বী আচ্ছা।” আমীরুল ভাই চলে যাবার পর অন্তরা আমাকে চার্জ করা শুরু করল। আমি নাকি ইদানিং ‘ক্ষ্যাত’ পোলাপানের সাথে মিশে-মিশে ‘ক্ষ্যাত’ হয়ে যাচ্ছি। আমি আত্বপক্ষ সমর্থন করে বললাম- “কি করেছি আমি?” অন্তরা প্রচন্ড রেগে জবাব দিল- “মসজিদে যাবে যারা বুড়ো খুনখুনে হয়ে গেছে তারা অর্থাৎ যাদের এক পা অলরেডি কবরে ওরাঐসব লোকেরা ওখানে গিয়ে আল্লাহ-আল্লাহ করে মনকে স্বান্তনা দেবে পাপমোচন হয়েছে বলে অথবা যারা মসজিদে গিয়ে ভিক্ষা করবে তারা মসজিদের গেইটে ফকির বেশে দাঁড়িয়ে থাকবে। তুমি এইযুগের আপটুডেট একটা স্মার্ট ছেলে, তুমি কিসের জন্যে মসজিদে যাবে শুনি?” আমি ভেবে দেখলাম কথা ঠিক। আমি তো আর আমীরুল ভাইয়ের মত ‘ক্ষ্যাত’ না!

অনেকদিন পর আবারো আমীরুল ভাইয়ের সাথে দেখা। আমি সিডির দোকান থেকে বের হচ্ছিলাম, আমার হাতে কিছু বিশেষ সিডি (!) ছিল। আমীরুল ভাইকে দেখে আমি ওগুলো আমার টি-শার্টের নিচে লুকালাম। আমীরুল ভাই তার স্বভাবসুলভ হাসি দিয়ে সালাম দিলেন। আমি সালামের উত্তর না দিয়ে বললাম- “কি খবর বস? দিনকাল কেমুন যাইতাছে?” আমীরুল ভাই বললেন- “আলহামদুলিল্লাহ, ভাল।” আমার আবার মেজাজ খারাপ হল। এই ‘ছাগুর দল’ খামাখাই আরবী শব্দ ব্যবহার করে। আরে ব্যাটা, বাংলা ভাষার জন্যে আমরা যুদ্ধ করেছি, জীবন দিয়েছিআমীরুল ভাই জিজ্ঞাসা করলেন- “সেদিন মসজিদে আসলেন না যে ভাই? আমি আপনার জন্যে মাগরিব পর্যন্ত বসে ছিলাম।” আমার গা জ্বলতে শুরু করল, মনে মনে বললাম- “কি রে ব্যাটা, কথা কইয়া হুদাই আমারে আটকাইয়া রাখতাছস। বাড়িতে যামু, পুরা খালি বাড়ি, তাড়াতাড়ি সিডিগুলোর যথার্থ ব্যবহার (!) দরকার, আমার এহন রক্ত গরম!” আমি মাথা ঠান্ডা রেখে জবাব দিলাম- “কি কইবার চাইতাছেন, কইয়া ফালান। আজাইরা গ্যাজাইতাছেন কিয়ের লেইগ্যা?” উনি বললেন- “না মানে বলছিলাম কি, সেদিন আপনি যেভাবে একটা মেয়ের হাত ধরে এলাকার ভিতরে ঘুরছিলেন, সেটা আসলে ভাল দেখাচ্ছিল না। এতে লোকজন আপনাকে খারাপ বলবে আর আপনার পরিবারের উপর মানুষ ভুল ধারনা করবে। তাছাড়া ঐ মেয়েটা, তার পরিবারের কথা একবার চিন্তা করুন? আর আমার জানামতে আপনার বাবা অর্থাৎ আমাদের চাচা খুব ভাল মানুষ, আমরা সবাই তাকে খুব সম্মান করি।” আমি কড়াভাবে জবাব দিলাম- “আপনাগো খাইয়া-দাইয়া কি আর কুনো কাম-কাইজ নাই? উপদেশ কি ফ্রি নাকি? দ্যাহেন আমীরুল ভাই, আমরা হগলতেই আপনেরে বহুত সম্মান করি, এইডা নষ্ট কইরেন না, ঠিক আছে? আমারে যাইতে দেন, আমার বহুত কাম আছে, আমি যামু গা।” আর কোন কথা না বাড়িয়ে সঙ্গে-সঙ্গে আমি বাড়ি ফিরে এসে আমার বিশেষ কাজ (!) শুরু করে দিলাম

এর ২ দিন পর পার্টি অফিস থেকে আমাকে আমাদের লিডার ডেকে পাঠালেন, জিজ্ঞাসা করলেন- “অই, আমরা ‘ছাগু’র লিস্টি বানাইতাছি। তর কি কুনো শত্রু-মত্রু আছে রে? নামডা খালি দে, দুইদিন বাদে লিস্টির হগলতেই লাল দালানে যাইবো গা, এই যে জবানে কইতাছি

আজ সপ্তাহখানেকের মত হয়েছে আমীরুল ভাই জেলেআমার ভালই লাগছে, এলাকার মধ্যে এখন যা খুশি তাই ইচ্ছামত করা যাবে কারণ ঝামেলা করা ‘ছাগু’টা এখন খোয়ারে! আমি নিজেও জানি উনি নির্দোষ, কিন্তু আমার/আমাদের সুবিধার জন্যে তো কাউকে না কাউকে জেলে যেতেই হবে। কথায় আছে না- “কারো বা পৌষমাস, কারো বা সর্বনাশ!” থাক, আপাতত এই পাঁচটা বছর না হয় আমাদের পৌষমাসই থাকলো, পরেরটা পরে দেখা যাবে!

5 comments:

  1. জটিল বস। আসুন ছাগু মুক্ত দেশ গড়ি। লেখককে ধন্যবাদ। আপনাকে + দিলাম

    ReplyDelete
  2. simply great story..... there are some Lesson for who has inner eyes. thanks to the author!!!

    ReplyDelete
  3. এ হা্লাই কিডা রে ?
    কি আর কইতাম পারি!!
    সুন্দর না বলে উপায় আছে ???

    ReplyDelete
  4. হাইরে দুনিয়া...জানিনা এটা সত্য না মিথ্যা ঘটনা। যাইহোকনা কেনো লিখার গভীরে সত্য টা ফুতিয়ে তুলার জন্য লেখক কে ধন্যবাদ

    ReplyDelete